কুষ্টিয়ার সিরিজ ধর্ষণকারী সাবেক ছাত্রদল নেতা পান্না মাস্টার গ্রেফতার

P1_sorkardolioder-sohaotaeকুষ্টিয়ায় দেড়শতাধিক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং গোপন ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করে বাজারে ছড়িয়ে দেয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা ‘সিরিজ ধর্ষক’ হেলাল উদ্দিন (পান্না) মাস্টারকে ডিবি গ্রেফতার করেছে। সে তার কুকীর্তির কথা স্বীকার করেছে। ঘৃণ্য এ কাজে জড়িত ছিল তিন প্রকৌশলীসহ স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল নেতারা। প্রকৌশলীদের দুজনকে বহিস্কার ও একজনকে বান্দরবনে বদলি করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

কুষ্টিয়া পুলিশের রিক্যুইজিশনের ফলে গোয়েন্দা বিভাগের এসি রায়হান পান্না মাস্টারকে বিএনপি নেতা জিয়ার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র কাছে সে তার অপকর্মের কথা স্বীকার করেছে এবং ডিবি কিছু আলামতও যোগার করেছে।

উল্লেখ্য পান্না সিন্ডিকেটের প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল, প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম সজল ও প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান হাসানসহ সবাই এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। প্রকৌশলী তিনজন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বিএনপি জোট সরকারের আমলে যুবদল ও ছাত্রদলনেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেকে মুখ বুঝে সহ্য করে। সম্প্রতি পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে জয় লাভের পর পান্না সিন্ডিকেট আবার বিকৃত যৌনাচার শুরু করে। জামাতের অঙ্গসংগঠন ছাত্রী সংস্থার তিনজন নেত্রী এই সিন্ডিকেটকে টাকার বিনিময়ে সাহায্য করতো বলে জানা যায়। পান্না মাস্টার প্রাইভেট পড়ানোর নাম করে অসংখ্য ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলতো। সহযোগীদের সহায়তায় গোপন ক্যামেরায় ধারণ করতো সেই অবৈধ সম্পর্কের দৃশ্য। এরপর ওই ছাত্রী ও পরিবারকে ব্ল্যাকমেইল করতো।
এক পর্যায়ে এক ছাত্রী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অবহিত করলে অভিবাবকরা গণধোলাই দেয়। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পান্না পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

গতকালের ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়ার আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক ছিল এই এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পান্নাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, পান্না মাস্টারের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত আরও ৩-৪ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সহায়তা চাইলে করা হবে। গোয়েন্দারা জানান, পান্না মাস্টার ও তার সহযোগীদের কাছে বিভিন্ন ছাত্রীর যৌন সম্পর্কের অসংখ্য ভিডিও চিত্র আছে। সেগুলো উদ্ধার করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে বলেও জানানো হয়। ইতোমধ্যে কিছু ভিডিও চিত্র উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে পান্নাকে কুষ্টিয়া জেলা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সূত্রমতে, পান্না মাস্টার কুষ্টিয়া থেকে পালানোর আগে নিজের ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার গর্ত করে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই কম্পিউটারে তার অপকর্মের সব তথ্য-প্রমাণ আছে।
পান্ন গোয়েন্দাদের কাছে বলে, ২০০২ সাল থেকে সে এই কাজ করে আসছে। বিশেষ করে, মাধ্যমিক পাস মেয়েরাই ছিল তার টার্গেট।

এর আগে গত ৭ জুলাই পান্না মাস্টারসহ চারজনকে আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২’র অধীনে মামলা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান ওরফে টুটুল, প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম ওরফে সজল ও প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান হাসান। তাদের সবার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। তাদের মধ্যে হাসানুজ্জামানকে ৭ জুলাই কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। আলিমুজ্জামান ও শরিফুল এখনও পলাতক।

One Comment to “কুষ্টিয়ার সিরিজ ধর্ষণকারী সাবেক ছাত্রদল নেতা পান্না মাস্টার গ্রেফতার”

  1. মুসলমানের খাছলত এ রকম হতে পারে না।এরা মুসলমানের কলংক।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: