Archive for জুন, 2018

জুন 28, 2018

জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রদল নেতাকে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ

ফাইল ফটো

জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রদল নেতাকে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই যুবককে জোরপূর্বক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে হিজড়া সরদার মনিরা ওরফে রত্নার বিরুদ্ধে। সরদার মনিরা জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এবং রত্না কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমস্য।

উল্লেখ্য, হিজড়াদের মধ্যে বিএনপির সমর্থক বেশি থাকায় ২০১২ সালে কাজলী হিজড়াকে চেয়ারপার্সন করে জাতীয়তাবাদী হিজড়া দল গঠিত হয়।

জানা গেছে, ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে যশোরের একটি বাড়িতে নিয়ে জোর করে এ অস্ত্রোপচার করা হলেও গত বুধবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুলতান আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী দুই যুবক হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কেসমত গাজীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২) ও একই উপজেলার ঘোপপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে কাজল হোসেন (২৩)। তারা দুজনই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় হিজড়া নেতা রত্নার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তবে পুলিশের দাবি, কেউ এ ধরনের কোনও অভিযোগ দেয়নি।

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার ছেলের আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক। কালীগঞ্জের হিজড়া সরদার মনিরা প্রায়ই টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আমার ছেলেকে তাদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য চাপ দিতো। ঈদের এক সপ্তাহ আগে রত্না আমার ছেলেকে ফুঁসলিয়ে যশোর নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে নিয়ে অপারেশন করে পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়। এরপর সেই বাড়িতে তাকে আটকে রেখে চিকিৎসা করাতে থাকে। পরে আমরা খবর পেয়ে হিজড়াদের কাছ থেকে উদ্ধার করে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন,‘আমি ও কাজল রাজনৈতিক সভা সমাবেশ আয়োজনের জন্য হিজড়াদের সঙ্গে চলাফেরা করতাম। কিন্তু ঈদের আগে আমাদের কিছু না জানিয়ে হিজড়া সরদার রত্না একটি মাইক্রোবাসে করে যশোরের কোনও একটা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অজ্ঞান করে। পরে আমাদের পুরুষাঙ্গ কাটার পর মাগুরায় নিয়ে যায়। সেখানে নাক ও কান ছিদ্র করে হাতে চুড়ি পরিয়ে দেয়।’

অস্ত্রোপচারের শিকার হওয়া আরেক যুবক কাজলের ভাষ্য, ‘আমাদের না জানিয়ে কৌশলে অজ্ঞান করে এই অপারেশন করা হয়েছে। আমি হিজড়া সরদার রত্নার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুলতান আহমেদ বলেন,‘ভুক্তভোগী দুই যুবককে কমপক্ষে ১০-১২ দিন আগে অপারেশন করে পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া তাদের নাক ও কান ফুটানো হয়েছে। ওই দুই ভুক্তভোগীর অবস্থা খারাপ।’

এ ব্যাপারে হিজড়া সরদার মনিরা ওরফে রত্না বলেন, ‘আমি একজন নেত্রী। আমি এসব কাজে জড়িত নই। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার জন্য এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে এমন সংবাদ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘এ ধরনের কোনও অভিযোগ তার কাছে কেউ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জুন 20, 2018

মুফতি হান্নানের ভাগ্নি কোটা নেত্রী নীলার বাড়িতে হামলার নেপথ্যে

“পুলিশের পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসীরা রাতে নীলাদের বাড়ি গিয়ে কোটা আন্দোলনে না যাওয়ার হুমকি প্রদান করে। তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন চলে এলে তারা নীলাকে মারতে ব্যর্থ হয়। সকালে আবার এসে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিয়েছে।” এমন দাবি করেছেন কোটা আন্দোলনের নেত্রী নীলা।

কোটা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কতিপয় নেতা তাদের ওপর একের পর এক হামলার মিথ্যা দাবি করে আসছে। এবার যোগ হলো কোটা নেত্রী লুৎফুন্নাহারের বাড়িতে হামলার ঘটনা। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, সন্ধায় পুলিশের পরিচয় দিয়ে হুমকি দিলে তারা পুলিশকে জানায় নি কেন? গ্রাম ছাড়া করার মত ক্ষমতা থাকলে চেঁচামেচিতে লোকজন এলে হুমকিদাতারা চলে যাবে কেন? সবচেয়ে বড় কথা গোপালগঞ্জের কার এতটা দায় পড়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী যে বিষয় সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তা নিয়ে একজন ছাত্রীকে হুমকি দিবে? গোপালগঞ্জে বিএনপির কমিটি রয়েছে। কখনো শোনা যায় নি তাদের কোনো নেতার ওপর বিএনপির কর্মসূচির কারণে হামলা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে নীলার বাড়িতে হামলার কোনো সত্যতা পাওয়া যায় নি। এলাকাবাসী কিংবা থানা, কোনো সূত্রেই এ ধরণের কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। অনুসন্ধানে কতিপয় কোটা নেতার মতো তার মিথ্যাচারের প্রমাণই পাওয়া গেল, কিন্তু একই সাথে জানা গেছে চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক অনেক তথ্য।

লুৎফুন্নাহার বা নীলা নামে পরিচিত এই কোটা নেত্রী আলোচিত জঙ্গি মুফতি হান্নানের ভাগ্নি। মুফতি হান্নান তার নাম রেখেছিল নীরু। পাঁচ বছর আগে পিতার মৃত্যুর পর থেকে উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাত্রা শুরু করে। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান নীলা গোপালগঞ্জের নাম ব্যবহার করে যথাসম্ভব সুবিধা আদায় করলেও শিবিরের অনলাইন কর্মী রাশেদ, তারেক ও মশিউর প্রমুখের সাথে পরিচয়ের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রী সংস্থার সাথে যুক্ত হয়। ছাত্রী সংস্থার যে পেজ শেয়ার করা নিয়ে রাশেদের ব্যাপারে প্রথম বিতর্ক উঠেছিল তার অন্যতম এডমিন নীলা। সেই সময় ছাত্রী সংস্থার গ্রেফতারকৃত সদস্যদের একজন ছিল লুৎফুন্নাহার নীলা।

ইতিপূর্বে রাশেদ-নূরকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে মিথ্যাচার করা হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারী ও সমকামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত সুহেলকে প্রহার করায় ঠোঁটে ১১টি সেলাই পড়েছে বলে দাবি করলেও দুদিন পরই তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। মাদক ব্যবসার লেনদেন নিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক কোটা নেতা জসীম উদ্দিনের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে গেলেও সেটিকে কোটা আন্দোলনের কারণে হামলা বলে দাবি করা হয়েছিল।

জানা যায়, শিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারে কমিশন ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রী জোগাড় করা ছাড়াও চাকুরীর আপীল, পরীক্ষার সাজেশন, প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ বিভিন্ন বাহানায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত এ প্রতারকচক্রটি। এদের অন্যতম সদস্য মাদকাসক্ত তারেক রহমান টাকার জন্য সব করতে পারে বলে প্রচলিত রয়েছে। রাতুল সরকার, মশিউর ও জসিম ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এছাড়া আতাউল্লাহ, হাবীবুল্লাহ, মোল্লা ইয়ামিন ও মাহফুজ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে জড়িত। আতাউল্লাহর ভাই ব্রাহ্মনবাড়িয়া শিবিরের সভাপতি ও নাশকতা মামলার আসামী।

বেগম সুফিয়া কামাল হলে রগ কাটার গুজব ছড়াতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল নীলার নেতৃত্বে ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের কারণে সহপাঠি ছাত্রীরা নীলাকে এড়িয়ে চলতো বলে রাশেদ, নুরু গ্রুপের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। কোটা আন্দোলনে গোপালগঞ্জের জেলা বিএনপির নেতা সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা গ্রহণ করে নীলা। এছাড়া কোটা আন্দোলনের পোস্টার, ইফতার পার্টি ও ঈদের জামা কেনার জন্য, পরবর্তি আন্দোলন ইত্যাদি উপলক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে টাকা তুলতে সবচেয়ে অগ্রগামী নীলা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নীলার বই প্রকাশের ইচ্ছা বহুদিনের। গার্ডিয়ান প্রকাশনি নামে একটি প্রকাশনী তাকে বই প্রকাশের আশ্বাস দিলেও কোটা আন্দোলন নিস্তেজ হয়ে আসায় তাকে নিজ খরচে বই প্রকাশের কথা বলা হয়। জানা গেছে, এফ ই শরফুজ্জামান নামে ঢাকায় বসবাসরত গোপালগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কোটা আন্দোলনের নামে গৃহীত আট লক্ষ টাকা দিয়ে সেই বই প্রকাশ করা হবে। আর লেখক হিসেবে আলোচিত হওয়ার জন্যই বর্তমানে হামলার ঘটনা সাজানো হয়েছে।

রাতুলের মতো অর্ধশিক্ষিত কিংবা রাশেদ, নুরুর মত পড়ালেখা লাটে ওঠা অর্থলোভী প্রতারক চক্রটি মূলত কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আলোচনায় এসেছে। কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীর সমাবেশকে ৭১ এর পর সর্ববৃহৎ সমাবেশ বলে দাবি করা কত হাস্যকর তা বোঝার মত বিবেক বা প্রজ্ঞা পর্যন্ত তাদের নেই। যাদের প্রিলিমিনারী পাশ করার মতো যোগ্যতা নেই তারা যখন মেধাবীদের অধিকারের নামে মায়াকান্না করে তখন তাদের উদ্দেশ্য যে অসৎ তা বুঝতে কারো সমস্যা হয় না। সবচেয়ে বড় কথা জামাত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত কোটা নেতাদের প্রায় সকলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী, মাদক সেবন, সমকামিতা, মাদক ব্যবসা ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রতিবারই তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে প্রখ্যাত শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষ এবং আসিফ নজরুলের মত বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতি তাদের সহানুভূতি এবং নানা বাহানায় মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার মাধ্যমে তাদের পরিচিতি প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে। কিছুদিন পর পর হামলার মিথ্যা দাবি করে যে ভাবমূর্তি সৃষ্টি করেছে তাতে প্রকৃতই যদি তাদের উপর হামলা হয় তখন হয়তো কেউ বিশ্বাস করবে না।

জুন 2, 2018

একরাম কি চক্রান্তের শিকার? মাদক সম্রাজ্ঞী খ্যাত ছোট আম্মা কে?

বিশেষ প্রতিবেদন: সম্প্রতি কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম। নিহত হওয়ার পর থেকে, বিশেষত একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ পত্রপত্রিকায় নানামুখী আলোচনা চলছে। এর মাঝে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

২০১৪ সালে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির তালাশ-এ প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দরিদ্র হিসেবে আলোচিত কাউন্সিলর একরামের সম্পদের যে বিবরণ পাওয়া যায় তা হচ্ছে: টেকনাফে একটি বাড়ি ও একটি নির্মাণাধীন বাড়ি। চট্টগ্রামে একটি বাড়ি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ৩০০০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি ও হোন্ডা। কিছুদিন পর পর হোন্ডার মডেল পরিবর্তন করা ছিল তার অন্যতম শখ। ২০১০ থেকে গত মাস পর্যন্ত যতবার দেশের মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য প্রচারিত হয়েছে তার প্রায় সবগুলোতেই ছিল একরামের নাম।

২০১০ সালে নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত আয়ব্যয়ের বিবরণীতে একরামের আয় দেখানো হয়েছিল মাসে ১৬ হাজার টাকা, নগদ জমা ৩৩ হাজার টাকা। ২০১৭ সালে মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে তিন লক্ষ টাকা। আয়কর বিবরণী অনুসারে টেকনাফ শাখার ইসলামী ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭ কোটি টাকা ও দুই মেয়ের নামে চার কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। এছাড়াও জমি ও সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। আয়ের উৎস দেখানো হয়েছে জমি বিক্রি ও পরিবহন ব্যবসা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে কোন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে এত দ্রুত তিনি কোটিপতি বনে গেলেন! বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উৎস শুধুই ইয়াবা।

গত মাসে একরামের ১৬ লাখ ইয়াবার চালান নিয়ে টেকনাফ জুড়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় যা কালের কণ্ঠসহ বেশ কয়েকটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশে দশ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ একরামের জন্য অর্থ উপার্জনের খাত হিসেবে দেখা দেয়। রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার, তিনটি স্পটে রোহিঙ্গা নারীদের দিয়ে ইয়াবার আসর বসানো ছাড়াও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানো ও আদম ব্যবসার কমিশন এজেন্ট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। মাদক ব্যবসা ছাড়াও রোহিঙ্গা বান্ধব হিসেবে সরকারের কালো তালিকাভুক্ত ৫১ জনের সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন একরাম। এ সিন্ডিকেটের সাথে তিনটি উগ্রপন্থি সংগঠন ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমঝোতা ছিল। কথিত আছে যে, টেকনাফ কেন্দ্রিক এই সিন্ডিকেটকে আস্থায় নিয়েই মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করেছিল এবং বিনিময়ে মায়ানমার সীমান্তে অবাধে ইয়াবা চালানের টোকেন প্রদান করে।

একরামুল হক ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাহেদুর রহমান নিপু ও মোহাম্মদ ফয়সালের সবচেয়ে আস্থাভাজন ব্যক্তি। উল্লেখ্য নিপু স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদির ছেলে এবং ফয়সাল এজহার কোম্পানির ছেলে তথা সাংসদ বদির ভাই। প্রতিদ্বন্দ্বি ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং মাদক বিরোধী কার্যক্রম রুখে দিতে বদির অন্যতম প্রধান পেশীশক্তি ছিল একরাম বাহিনী। তাদের হাত ধরে ২০০৭ সালে পুরোদমে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের তালিকায় উঠে আসে একরামের নাম।

ইয়াবা ব্যবসায় একরামের মূল ভূমিকা ছিল মধ্যস্থাতাকারী হিসেবে। ক্রমে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয় একরাম। ইয়াবা ছাড়াও চোরাচালানের মাধ্যমে মায়ানমার থেকে আনা বিয়ার, মদসহ বিভিন্ন পণ্য সারাদেশে পৌঁছে দিতে তার নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে করে। ২০১৫ সালে ইয়াবা গডফাদার মং মং সেন নিহত হওয়ার পর হুন্ডি ব্যবসা শুরু করে। এছাড়া চুক্তিতে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দেয়ার কাজে পারদর্শি ছিলেন একরাম। একরামের অনুগত পাঁচ জন কর্তৃক পরিচালিত একরাম বাহিনী। ট্রাকের হেলপার থেকে চারটি ট্রাকের মালিক হওয়া মো: ইসমাইল, পিতা: জসিম উদ্দিন তার অন্যতম প্রধান সহযোগি। এছাড়া কেকেপাড়ার মো: শফিক, পিতা আবদুল হক, মো: সাব্বির আহমেদ সাবু, পিতা মিয়া হোসেন, মো: শওকত, পিতা লোকমান হাকিম এবং সৈয়দ আলম একরামের প্রধান সহযোগী।

একরামের পরামর্শদাতা হিসেবে স্ত্রী আয়েশা বেগমের ভাই নজরুল ও কক্সবাজারের পৌর মেয়র মাহবুবের নাম জানা যায়।

একরামের জনপ্রিয়তা ছিল এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ জনপ্রিয়তা সাংসদ বদিরও রয়েছে কিন্তু তারমানে এই নয় যে সে নিরপরাধ। তবে এ মুহূর্তে যে বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত তা হচ্ছে মাদক সম্রাজ্ঞী খ্যাত ছোট আম্মা রহস্য। জানা যায়, আয়েশা বেগম নামে দুজন মহিলা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আলোচিত। এ দুজনকে নিয়ে রয়েছে রহস্যও কারণ বোরখায় ঢাকা দুই নারী মুখ দেখান না। একজন আয়েশা বেগমকে বড় আম্মা এবং অপরজনকে ছোট আম্মা বলে কোড নামে ডাকা হয়। তাদের নামে বড় বড় চালান পার হয়ে যায় কিন্তু কেউ জানে না এদুজনের পেছনে কারা সহায়ক ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধেও কেউ দাঁড়ায় নি। একরাম ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণে প্রশ্ন উঠেছে একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগমই কি ছোট আম্মা?

আকরামের স্ত্রীর মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে কারণ একরামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সূত্রে জানা যায়, নিহত হওয়ার দিন দুপুরে একরামের অনুগত পাঁচ সহযোগীর চারজনকে বিশেষ কাজে টেকনাফ থেকে অন্য কোথাও পাঠিয়েছে আয়েশা। একরামের মৃত্যুর একদিন পরই আয়েশা কয়েকজনকে একরামে পাওনা টাকা পরিশোধের অনুরোধ করছেন। টেকনাফ ও কক্সবাজারের মেয়র এ বিষয়ের মধ্যস্থতা করছে। আয়েশা বেগমই যদি সেই আলোচিত রহস্যময়ী ছোট মা হয়ে থাকেন তাহলে একরামের মাদক সাম্রাজ্য অটুট রয়েছে বলা যায়। গুঞ্জন চলছে যে, একরামকে গুলি করার অডিওটি পরিকল্পিতভাবেই মায়ানমারে ধারণ করা হয়েছে যা সম্পর্কে আয়েশা অবগত ছিলেন। ফোনে বলতে শোনা যায় একরাম টিএনওর কাছে যাচ্ছে। কিন্তু একরাম টিএনও অফিসে গিয়েছিলেন নিহত হওয়ার দিন দুপুরে। আরকটি সূত্র জানা যায়, একরামকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য র‍্যাব অফিসে ডাকা হলে তাকে হত্যা করা হবে এমন ধারণা থেকে ক্রসফায়ারের অডিও রেকর্ড করা হয়। পরিকল্পনা ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসৌজন্যমূলক আচরণ করলে গুলি করে মায়ানমারে পালিয়ে যাবে এবং গুম করা হয়েছে বলে দাবি করে অডিও রেকর্ড প্রকাশ করা হবে। এটি প্রকাশের পর মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধ হবে বলে আশা করেছে অনেকে। মূলত এটাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। এর আগে মোস্তাক নামে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী র‍্যাবের অভিযানের মাঝে সশস্ত্র হামলা করে মায়ানমারে পালিয়ে যায় এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে। কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে অসংখ্য। ধারণা করা হচ্ছে একরাম পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় নি। কিন্তু অভিযান বন্ধের লক্ষ্যই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার অডিও প্রচার করা হয়। একরামের মোবাইলের কথোপকথন উদ্ধার হলে হয়তো রহস্য জানা যাবে।

এদেশের ৭০ লাখ মাদকসেবীর বেশিরভাগ ইয়াবায় আসক্ত। তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ইয়াবার কারণে। পুলিশ গ্রেফতার করলেও আইনের ফাঁকে বেরিয়ে আসছে খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরাঅ একরামের মতো গড ফাদারদের ধরা যায় না কারণ তারা ক্যারিয়ার না বলে তথ্য প্রমাণ পেশ করা যায় না। এভাবে দিনে দিনে ১০০ ইয়াবার চালান পরিণত হয়েছে লাখে। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চক্রান্তের কারণে যদি মাদক অভিযান পরিচালনা বন্ধ হয় তার মূল্য দিতে হবে গোটা জাতিকে।