Archive for এপ্রিল, 2018

এপ্রিল 20, 2018

কোটি টাকার নেশায় উন্মক্ত কোটা আন্দোলনকারীরা

কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও সবচেয়ে বেশি যে কারণটি ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে তা হল কয়েক কোটি টাকা প্রাপ্তি। গত তিন মাস থেকে কোটা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরা ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আসলেও গত ৬ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ছয় কোটি টাকা সংগ্রহের প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা অনুসন্ধানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও জামায়াতের মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে কত টাকা নেয়া হয়েছে তার অনুসন্ধান চলছে।

জানা গেছে, কোটা সচেতনতা সপ্তাহ পালন, টি-শাট, কোটা সংস্কার চাই লেখা মাথার ব্যান্ড, বঙ্গবন্ধুর ছবি, পোস্টার লিফলেট ও আহতদের চিকিৎসার নামে তিন মাস ধরে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। তবে তার পরিমান পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি হবে না। কিন্তু এ মাসের ৬ এপ্রিল থেকে 01784280686, 01725080136, 01743870298, 01773979020, 01911789506, 01673185026 নম্বরগুলোতে বিকাশ ও ডাচ বাংলা ব্যাংকের রকেট সার্ভিসের মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা আসতে থাকে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিকাশ একাউন্টগুলোতে প্রতিদিনই টাকা জমার লিমিট অতিক্রম করার বিবরণ দেখা যায়। এজন্য দুটি নম্বরকে এজেন্ট একাউন্টে রূপান্তরিত করা হয়। এছাড়া নীলক্ষেত এলাকার দুটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে সংগৃহিত অর্থ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা আসে।
এদিকে প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ অন্তত ৮৭ লক্ষ টাকা এবং কয়েকজন শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও নেতার কাছ থেকে নগদে সংগ্রহ করা টাকা অন্তত সাড়ে তিন কোটি টাকা।

টি-শার্ট ব্যবসা:
আন্দোলনের জন্য প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ৬০ টাকা দরে সারাদেশে ৭০ হাজার টিশার্ট বিক্রয় করা হয়েছে যার মধ্যে ১০ টাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের লভ্যাংশ বলে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে নিষ্ক্রিয় একজন সংগঠক জানান, নারায়নগঞ্জ থেকে কোটা সংস্কারের স্লোগান ছাপানোসহ প্রতিটি টি-শার্টে খরচ হয়েছে ৩২ টাকা। অর্থাৎ টি-শার্ট ব্যবসা করে আহবায়ক কমিটি লাভ করেছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।

রাজনৈতিক অনুদান:
রাজনৈতিক অনুদানের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে বিএনপি-জামাত পন্থি শিক্ষকদের মাধ্যমে। আন্দোলন উপলক্ষে জামাত নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে সাংবাদিক মৌসুমী মৌ-এর মাধ্যমে খাবার পাঠানো হতো শামসুন্নাহার হলে। সেখান থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে খাবার পাঠানো হত। খাবারের টাকা ছাড়াও আহতদের চিকিৎসার নামে বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে মৌ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা নিয়েছে। রাশেদ খান, নুরুল হক নুরু, ফারুক হোসেন, মশিউর রহমান, আতাউল্লাহ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমিনুল ইসলাম তাদের স্থানীয় বিরোধী দলীয় নেতাদের কাছ থেকে আন্দোলনের নামে সংগ্রহ করেছে এক কোটি টাকার বেশি। উম্মে হাবিবা নামে এক সংগঠক আন্দোলন পরিচালনার জন্য ২৬ লাখ টাকা দিয়েছে কিন্তু অর্থের উৎস সংশ্লিষ্টদের জানানো হয় নি।

সারাদেশে আন্দোলন ব্যবসার প্রসার:
বিভিন্ন জেলায় গঠিত কমিটিগুলোর মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হলেও সে টাকার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটি হস্তক্ষেপ করছে না। নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে টি-শার্ট ও লিফলেটসহ যাবতীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়। এর অতিরিক্ত যত টাকাই তোলা হোক তাতে কেন্দ্রীয় কমিটি হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানানো হয়েছে।

আন্দোলনের নামে অর্থ লুটপাট নিয়ন্ত্রণ করছে রাশেদ, নুর, মশিউর, মৌ, হাবিবা, ইয়ামিন ও সুমনসহ আরও দুজন।

কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে তিনটি ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তাদের ঐক্যে আশীর্বাদ হয়েছে নগদ প্রাপ্তি। তথাপি ক্ষোভ বিরাজমান। এপ্রিলের পাঁচ তারিখ থেকে অনেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে। জোবায়ের নামে আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, ছাত্রছাত্রীদের আবেগকে কেন্দ্র করে গুটিকয়েক ব্যক্তি ব্যবসা করছে। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সকলেই বিভাগের শেষ কাতারের ছাত্রছাত্রী যাদের পক্ষে বিসিএস প্রিলিমিনারী পাশ করাও সম্ভব নয়। তাই বিভিন্ন অযুহাতে আন্দোলনকে ব্যবহার করছে টাকা উপার্জনের মেশিন হিসেবে।

কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের প্রায় সকলেই নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আন্দোলনের শুরুতে মিস কল দিয়ে যাদের মাস অতিবাহিত করতে হতো তাদের কাছে আসতে থাকে নতুন ট্যাব, নতুন মোবাইল। পরিচয় পত্রের সাথে ব্যাংকের এটিএম কার্ড যুক্ত হয়েছে। ছাত্রদের আবেগকে কেন্দ্র করে টাকা আয়ের যে পথে নেমেছে তাকে প্রতারণা বললে ভুল হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের পাশাপাশি দুদকের মাধ্যমে তাদের আর্থিক বিষয়াবলীর অনুসন্ধান করার দাবি করছেন সচেতন মহল।

এপ্রিল 8, 2018

কামাল জাফরির পরকীয়া ও চতুর্থ বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মতিনকে জীবন নাশের হুমকি

পিএস এর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে চতুর্থ বিয়ে করার অভিযোগ করায় পিএস আবদুল মতিনকে জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে টিভি উপস্থাপক ও আলেম নামধারী কামালুদ্দীন জাফরী। মতিনের স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মিশরের রাজধানী কায়রোতে রেখেছেন নাকি অন্য কোথাও পাঁচার করে করে দিয়েছেন এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে পিএস আবদুল মতিন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে নারী ভাগিয়ে নিয়ে পাকিস্তানের পতিতালয়ে পাচার করার অভিযোগ উঠেছিল।
এছাড়া জাফরিকে অর্থ লুটপাট ও সৌদি অর্থে প্রকাশিত কোরআনের অনুবাদে জামাতি মতাদর্শ সংযোজনের অভিযোগে সৌদি আরব থেকে বহিস্কার করা হয়।

জানা গেছে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত রুকন, বাংলাদেশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জাফরিকে এক সময় “কামের আগে আউট মাল কামাল” বলে ঠাট্টা করতেন গোলাম আজম ও আব্বাস আলী খানসহ জামায়া্তের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। কিন্তু প্রথম বিবাহের দশ বছর পর থেকে তার বিরুদ্ধে নারীঘটিত অভিযোগ আসতে শুরু করলে পুরুষত্ব পুনরুদ্ধারের গোপন রহস্য জানতে অনেকেই তার দ্বারস্থ হন। অনেকের ধারণা ধ্বজভঙ্গের পরামর্শ দিয়েই জাফরি বিভিন্ন লাভজনক পদ লাভ করেছে।

উল্লেখ্য এর আগে নিজ বাসায় ভাড়াটিয়া এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে তৃতীয় স্ত্রী করে নেয়ার ঘটনায় নরসিংদীতে স্থানীয় পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছিলেন কামালুদ্দীন জাফরী।
এবার নওশীন আলম (৩৩) নামে যে নারীকে জাফরী (৭৩) ভাগিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি তারই সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মতিনের স্ত্রী। অভিযোগকারী আব্দুল মতিন বর্তমানে ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার একটি মসজিদে ইমামতি করেন।
আব্দুল মতিন তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে অপহরণের বিষয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামি ব্যাংকস অব বাংলাদেশ এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জাফরী সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান। তার নৈতিক স্খলনের তদন্ত এবং শরিয়া বোর্ড থেকে বহিষ্কারের আবেদন করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। যেসব ব্যাংক সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য তাদেরও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মতিন।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ২০০৭ সালে যোগ দেই। একই সঙ্গে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জাফরীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাই। ২০১৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করি। এর মধ্যে ২০১২ সালে ৬ মাসের ছুটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাই। আমার অনুপস্থিতির সুযোগে আমার স্ত্রী নওশীন আলমকে সৌদি আরবের মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিনা খরচে সৌদিতে নিয়ে যাওয়া এবং মক্কায় মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগে (রাবেতা আলমে ইসলামি) চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন জাফরী। হাতিরঝিল এলাকায় অর্ধলক্ষ টাকা মাসিক ভাড়া বাসায় নওশীনকে নিয়ে রাতযাপন করতেন। আমার বাসা ছিল এর খুব কাছাকাছি দক্ষিণ বনশ্রীতে, যেখানে তিন সন্তানসহ আমার স্ত্রী থাকতো। অথচ কামালুদ্দিন জাফরীর তিন স্ত্রী এবং ১৪ সন্তান রয়েছে।
মতিন আরো জানান, ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশে আসেন। স্ত্রী-সন্তানদের অস্ট্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইউরোপ যাওয়ার ১০ দিন আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাফরীর এক ঘনিষ্টজন মতিনকে ফোন করে জানান, নওশীনকে জাফরী গতকাল (২৭ ডিসেম্বর) বিয়ে করেছেন। এ কথা শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। কারণ, জাফরী তার বাবার বয়সী। আর নওশীনের সাথে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদও হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে স্ত্রীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। এরপর ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি মতিন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অস্ট্রিয়ায় ভিয়েনায় তার কর্মস্থলে চলে যান। এর আগে ২ জানুয়ারি উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে স্বামীর অনুগত থাকা এবং জাফরীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার শর্তে এক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন নওশীন। সেই স্ট্যাম্পের কপিও দেখিয়েছেন মতিন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন নওশীনের সঙ্গে জাফরীর ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো।
মতিন দাবি করেন, কামালুদ্দিন জাফরী তাকে হত্যা করার জন্য অথবা সন্ত্রাসী অপবাদ দিয়ে ইউরোপীয় পুলিশে সোপর্দ করার জন্য নওশীনের সঙ্গে যোগসাজশ করেন।
অস্ট্রিয়া যাওয়ার এক সপ্তাহরে মাথায় জাফরীর সঙ্গে ফোনালাপের এক পর্যায়ে নওশীন বাসার ড্রয়িং রুমের জানালা খুলে চিৎকার করতে থাকে। প্রতিবেশীরা পুলিশকে ফোন করে। পুলিশ এলে নওশীন দরজা খুলে দেন এবং তাদের বলেন, তার স্বামী একজন সন্ত্রাসী, তাকে ধরে নিয়ে যান। ইউরোপের একজন ইমামকে সন্ত্রাসী বলায় পুলিশ হাসি দিয়ে, ইউরোপের আইন মেনে চলার জন্য নওশীনকে পরামর্শ দিয়ে চলে যায়।
এর ঠিক এক সপ্তাহ পর আবারও দরজা খুলে চিৎকার শুরু করেন নওশীন। এবারও প্রতিবেশীরা পুলিশে ফোন দিলে পুলিশ এসে মতিন, নওশীন এবং এক প্রতিবেশীকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশ নিশ্চিত হয়, নওশীন তার স্বামীকে হত্যা অথবা সন্ত্রাসের অপবাদ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার জন্য তৃতীয় কোনো ব্যক্তির হুকুম তালিম করছে।
এই কারণে ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টায় দুই সপ্তাহের জন্য নওশীনকে গ্রেপ্তার করে ভিয়েনা পুলিশ তাকে অ্যাগ্রেসিভ নারী সেলে পাঠায়। এই সময় জাফরীর সঙ্গে কয়েকবার মোবাইলে কথা বলেন নওশীন। এছাড়া জেলে থাকা অবস্থায় কয়েকশবার তারা কথা বলেছেন। ওই কথোপকথনের কললিস্ট রের্কড অস্ট্রিয়ার টি-মোবাইল কোম্পানি থেকে সংগ্রহ করা হয়।
এদিকে জাফরী ভিয়েনায় বসবাসকারী তার আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে নওশীনকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করে। জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার পর ৩১ জানুয়ারি ভিয়েনা থেকে রওনা দিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি নওশীন ছোট দুই সন্তানসহ বাংলাদেশে চলে আসেন। মতিন দাবি করেন, তাদের বিমানের টিকিটের টাকাটাও তিনি দিয়েছেন।
আব্দুল মতিন বলেন, পহেলা ফেরুয়ারি তারা দেশে ফেরে। এই কেলেঙ্কারি যাতে ফাঁস না হয়, সংবাদ মাধ্যম এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রাখার জন্য ওই মাসের শেষের দিকে সৌদি আরবের ভিসা নিয়ে নওশীন আলমসহ দুই শিশু সন্তানকে (জাওদান ও আফনানকে) ‘অপহরণ’ করে সৌদি আরব নিয়ে যান জাফরী।
সৌদি আরবে যেসব দাতা জাকাত-সদকার বিপুল টাকা পয়সা জাফরীকে দিতেন তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেন মতিন। সৌদি আরবে জিনা ব্যাভিচারের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় জাফরী তাড়াহুড়া করে নওশীন ও দুই সন্তানকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এরপর তড়িঘড়ি করে ২০১৫ সালের মার্চের শেষের দিকে মিশরের রাজধানী কায়রোতে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা কায়রোতেই আছেন। সেখানে জাফরী তার ঘনিষ্ট দুই ব্যক্তির জিম্মায় নওশীন আলমকে রেখেছেন। মাঝে মাঝে সেখানে যান জাফরী। দু’জনকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে দেখা গেছে।
কায়রোর রাস্তায় দুই শিশুকে নিয়ে হাঁটছেন নওশীন
মতিন অভিযোগ করে বলেন, জাফরীর পরামর্শে এবং ফাঁদে পড়ে নিকাহনামা জালিয়াতি করে আমার স্ত্রী, দুই শিশু সন্তানকে জাফরী বাংলাদেশ থেকে প্রথমে সৌদি এবং পরে মিশরে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।
জাফরীর কি আপনার স্ত্রীকে বিয়ে করে নিয়ে গেছে এই প্রশ্ন করলে আব্দুল মতিন বলেন, নওশীন এখনও আমার স্ত্রী। আমি তাকে তালাক দেইনি। স্ত্রীও আমাকে তালাক দেয়নি। তাহলে উনি কীভাবে বিয়ে করলেন? আমাদের তিন সন্তান আছে। একটি সন্তান আমার সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় থাকে। ছোট দুই সন্তান মায়ের কাছে।
তাহলে কেন আইনের আশ্রয় নিচ্ছে না এই প্রশ্নে মতিন বলেন, কামালুদ্দিন জাফরীর বাংলাদেশের নেতানেত্রীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ইতিমধ্যে আমার ভাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন। আমি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আশ্রয় নিবো।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, কামালুদ্দিন জাফরী একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেয়াসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় ওই সময় ইসলামী ব্যাংকের শরিয়া বোর্ড থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে জামায়াতের রুকন পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সূত্রটি দাবি করে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যখন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আটক হন, একই সময় জাফরীও আটক হন। তবে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে গত ২০ জানুয়ারি সরকার দলীয় এক সংসদ সদস্য অগ্রণী ব্যাংককে ‘সেন্ট্রাল শরীয়া বোর্ড’র সদস্য পদ পরিত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেন। তিনি ওই চিঠিতে বলেন, জাফরী চাঞ্চল্যকর নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার একজন তালিকাভুক্ত আসামি। ব্যক্তিগত সহকারীর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে চতুর্থ স্ত্রী গ্রহণ করার মতো ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার কারণে ইসলামী ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সদস্য সচিব পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এই অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৯ মার্চ অগ্রণী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ১৮তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সেন্ট্রাল শরিয়া বোর্ড থেকে নিজেদের সদস্য পদ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এতিম গরীবদের নামে বিপুল পরিমান যাকাত ও সদকার টাকা প্রতিমাসে পেয়ে থাকেন কামালুদ্দিন জাফরী। এর সিংহভাগই তিনি ফূর্তি করে উড়িয়ে দেন।
নরসিংদীতে জামেয়া কাসেমিয়া মাদরাসা এবং ঢাকাস্থ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা এনে নিজের অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন নামে ব্যাংকে রাখেন জাফরী। যার হিসাব-নিকাশ কখনোই দিতে পারেননি। এই দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এই টাকা পয়সার হিসাব চাওয়ার সাহসও পায় না।

এপ্রিল 5, 2018

গুম হওয়া বিএনপি নেতা রোহিঙ্গা নিয়ে ফুর্তিতে ছিলেন

১৯ দিন নিখোঁজ থাকা খুলনার বিএনপি নেতা নজরুলের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক অপহরণের অভিযোগ করা হয়েছিল। গতকাল তাকে রামুতে এক রোহিঙ্গা নারী সহ আটক করেছে পুলিশ।
খুলনা জেলা বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মোড়লের এক রোহিঙ্গা নারীর সাথে কক্সবাজারের রামুতে অবস্থান করার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ বিকেলে নজরুল ইসলাম মোড়ল ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরঘোনা ইউনিয়নের বেতাগ্রামের বাড়ি থেকে আঠারো মাইল বাজারে যান। সেখান থেকে একটি মোটরসাইকেল ভাড়া করে তিনি যশোরের কেশবপুরের মঙ্গলকোট এলাকায় ডাক্তার দেখানোর কথা বলে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নজরুলের সন্ধান না পাওয়ায় সেদিন রাতেই তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ডুমুরিয়া থানায় একটি জিডি করেন।

পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গুম করেছে। শুরু থেকেই এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ডুমুরিয়া থানার ওসি হাবিল হোসেন বলেছিলেন, এটি অপহরণের কোনো ঘটনা নয়।

ডুমুরিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন বলেন, নিখোঁজের দিনই নজরুল তার মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ১৪ দিন পর কিছু সময়ের জন্য মোবাইল চালু করা হয়েছিল। সে সময় তার অবস্থান ছিল রামুতে। রামুতে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, জুলহাস মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বাসায় রোহিঙ্গা নারী সহ বসবাস করছেন নজরুল।
রামুর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নজরুল এর আগে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য কয়েকবার এসেছিল। তখন থেকে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে থাকেন। পরবর্তিতে একটি রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য বাড়ি ভাড়া নেন এবং মমতাজ বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারীর সাথে একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

রোহিঙ্গা নারী নিয়ে বসবাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নজরুল তাকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন। রোহিঙ্গা বিবাহ করা নিষিদ্ধ বলে কলেমা পড়ে বিয়ের কথা জানান তিনি।

জানা গেছে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নজরুলকে খুলনায় আনতে ডুমুরিয়া থানা পুলিশের একটি দল রামুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

এপ্রিল 3, 2018

জন্মের পর আযান না দেয়ায় আছড়ে নবজাতক হত্যা করলেন যুবদল নেতা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই এক নবজাতককে আছড়ে হত্যা করেছে তার বাবা সাজু মিয়া। গত রোববার দিবাগত রাতে পলাশবাড়ীর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক সাজু মিয়া গাইবান্ধা জেলা যুবদলের প্রভাবশালী নেতা।

সন্তান জন্মের পর আযান না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নবজাতককে আছাড় দিলে উপস্থিত লোকজন সাজু মিয়াকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করে। এ সময় লোকজনকে দলীয় পরিচয় দিয়ে হুমকি ধমকি ও ক্যাডার বাহিনী জড়ো করলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিন বছর আগে যুবদল নেতা সাজু মিয়া শাহনাজ বেগমকে বিবাহ করে। রোববার বিকেলে সন্তানসম্ভবা শাহনাজকে ক্লিনিকে ভর্তি করলে তিনি এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। খবর পেয়ে সাজু মিয়া ওই ক্লিনিকে স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে আসে। এ সময় ছেলেকে কোলে নিয়ে সাজু জানতে চায় তার জন্মের পর আজান দেওয়া হয়েছে কি-না? পরিবারের লোকজন চুপ থাকলে সাজু ক্ষিপ্ত হয়ে নবজাতককে ক্লিনিকের মেঝেতে আছাড় দেয়। এতে শিশুটির মৃত্যু হয়।

পলাশবাড়ী থানার ওসি মো. মাহবুবুল আলম জানান, সাজু মিয়াকে আটক করা হয়েছে। নবজাতকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নবজাতকের নানা থানায় সাজুর নামে হত্যা মামলা করেছেন। সাজুর নামে আগেও দুটি নাশকতার মামলা হয়েছিল।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সাজু