মুফতি হান্নানের ভাগ্নি কোটা নেত্রী নীলার বাড়িতে হামলার নেপথ্যে

“পুলিশের পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসীরা রাতে নীলাদের বাড়ি গিয়ে কোটা আন্দোলনে না যাওয়ার হুমকি প্রদান করে। তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন চলে এলে তারা নীলাকে মারতে ব্যর্থ হয়। সকালে আবার এসে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিয়েছে।” এমন দাবি করেছেন কোটা আন্দোলনের নেত্রী নীলা।

কোটা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কতিপয় নেতা তাদের ওপর একের পর এক হামলার মিথ্যা দাবি করে আসছে। এবার যোগ হলো কোটা নেত্রী লুৎফুন্নাহারের বাড়িতে হামলার ঘটনা। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, সন্ধায় পুলিশের পরিচয় দিয়ে হুমকি দিলে তারা পুলিশকে জানায় নি কেন? গ্রাম ছাড়া করার মত ক্ষমতা থাকলে চেঁচামেচিতে লোকজন এলে হুমকিদাতারা চলে যাবে কেন? সবচেয়ে বড় কথা গোপালগঞ্জের কার এতটা দায় পড়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী যে বিষয় সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তা নিয়ে একজন ছাত্রীকে হুমকি দিবে? গোপালগঞ্জে বিএনপির কমিটি রয়েছে। কখনো শোনা যায় নি তাদের কোনো নেতার ওপর বিএনপির কর্মসূচির কারণে হামলা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে নীলার বাড়িতে হামলার কোনো সত্যতা পাওয়া যায় নি। এলাকাবাসী কিংবা থানা, কোনো সূত্রেই এ ধরণের কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। অনুসন্ধানে কতিপয় কোটা নেতার মতো তার মিথ্যাচারের প্রমাণই পাওয়া গেল, কিন্তু একই সাথে জানা গেছে চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক অনেক তথ্য।

লুৎফুন্নাহার বা নীলা নামে পরিচিত এই কোটা নেত্রী আলোচিত জঙ্গি মুফতি হান্নানের ভাগ্নি। মুফতি হান্নান তার নাম রেখেছিল নীরু। পাঁচ বছর আগে পিতার মৃত্যুর পর থেকে উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাত্রা শুরু করে। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান নীলা গোপালগঞ্জের নাম ব্যবহার করে যথাসম্ভব সুবিধা আদায় করলেও শিবিরের অনলাইন কর্মী রাশেদ, তারেক ও মশিউর প্রমুখের সাথে পরিচয়ের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রী সংস্থার সাথে যুক্ত হয়। ছাত্রী সংস্থার যে পেজ শেয়ার করা নিয়ে রাশেদের ব্যাপারে প্রথম বিতর্ক উঠেছিল তার অন্যতম এডমিন নীলা। সেই সময় ছাত্রী সংস্থার গ্রেফতারকৃত সদস্যদের একজন ছিল লুৎফুন্নাহার নীলা।

ইতিপূর্বে রাশেদ-নূরকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে মিথ্যাচার করা হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারী ও সমকামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত সুহেলকে প্রহার করায় ঠোঁটে ১১টি সেলাই পড়েছে বলে দাবি করলেও দুদিন পরই তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। মাদক ব্যবসার লেনদেন নিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক কোটা নেতা জসীম উদ্দিনের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে গেলেও সেটিকে কোটা আন্দোলনের কারণে হামলা বলে দাবি করা হয়েছিল।

জানা যায়, শিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারে কমিশন ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রী জোগাড় করা ছাড়াও চাকুরীর আপীল, পরীক্ষার সাজেশন, প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ বিভিন্ন বাহানায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত এ প্রতারকচক্রটি। এদের অন্যতম সদস্য মাদকাসক্ত তারেক রহমান টাকার জন্য সব করতে পারে বলে প্রচলিত রয়েছে। রাতুল সরকার, মশিউর ও জসিম ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এছাড়া আতাউল্লাহ, হাবীবুল্লাহ, মোল্লা ইয়ামিন ও মাহফুজ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে জড়িত। আতাউল্লাহর ভাই ব্রাহ্মনবাড়িয়া শিবিরের সভাপতি ও নাশকতা মামলার আসামী।

বেগম সুফিয়া কামাল হলে রগ কাটার গুজব ছড়াতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল নীলার নেতৃত্বে ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের কারণে সহপাঠি ছাত্রীরা নীলাকে এড়িয়ে চলতো বলে রাশেদ, নুরু গ্রুপের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। কোটা আন্দোলনে গোপালগঞ্জের জেলা বিএনপির নেতা সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা গ্রহণ করে নীলা। এছাড়া কোটা আন্দোলনের পোস্টার, ইফতার পার্টি ও ঈদের জামা কেনার জন্য, পরবর্তি আন্দোলন ইত্যাদি উপলক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে টাকা তুলতে সবচেয়ে অগ্রগামী নীলা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নীলার বই প্রকাশের ইচ্ছা বহুদিনের। গার্ডিয়ান প্রকাশনি নামে একটি প্রকাশনী তাকে বই প্রকাশের আশ্বাস দিলেও কোটা আন্দোলন নিস্তেজ হয়ে আসায় তাকে নিজ খরচে বই প্রকাশের কথা বলা হয়। জানা গেছে, এফ ই শরফুজ্জামান নামে ঢাকায় বসবাসরত গোপালগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কোটা আন্দোলনের নামে গৃহীত আট লক্ষ টাকা দিয়ে সেই বই প্রকাশ করা হবে। আর লেখক হিসেবে আলোচিত হওয়ার জন্যই বর্তমানে হামলার ঘটনা সাজানো হয়েছে।

রাতুলের মতো অর্ধশিক্ষিত কিংবা রাশেদ, নুরুর মত পড়ালেখা লাটে ওঠা অর্থলোভী প্রতারক চক্রটি মূলত কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আলোচনায় এসেছে। কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীর সমাবেশকে ৭১ এর পর সর্ববৃহৎ সমাবেশ বলে দাবি করা কত হাস্যকর তা বোঝার মত বিবেক বা প্রজ্ঞা পর্যন্ত তাদের নেই। যাদের প্রিলিমিনারী পাশ করার মতো যোগ্যতা নেই তারা যখন মেধাবীদের অধিকারের নামে মায়াকান্না করে তখন তাদের উদ্দেশ্য যে অসৎ তা বুঝতে কারো সমস্যা হয় না। সবচেয়ে বড় কথা জামাত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত কোটা নেতাদের প্রায় সকলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী, মাদক সেবন, সমকামিতা, মাদক ব্যবসা ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রতিবারই তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে প্রখ্যাত শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষ এবং আসিফ নজরুলের মত বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতি তাদের সহানুভূতি এবং নানা বাহানায় মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার মাধ্যমে তাদের পরিচিতি প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে। কিছুদিন পর পর হামলার মিথ্যা দাবি করে যে ভাবমূর্তি সৃষ্টি করেছে তাতে প্রকৃতই যদি তাদের উপর হামলা হয় তখন হয়তো কেউ বিশ্বাস করবে না।

One Comment to “মুফতি হান্নানের ভাগ্নি কোটা নেত্রী নীলার বাড়িতে হামলার নেপথ্যে”

  1. ছুইল্যা লবন মরিচ লাগানো দরকার এসব নারীকে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: