কোটার নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির নেপথ্যে তারেক: অপকর্মে অভিযুক্ত ছাত্রীদের ব্যবহারের কথা স্বীকার

নিজস্ব প্রদিবেদক‍‍ || অপরাধ কণ্ঠ: কোটা আন্দোলনের নামে বিএনপির বিএনপির অর্থায়ন ও নৈরাজ্য সৃষ্টিতে সমঝাতা এবং জনবিচ্ছিন্ন কয়েকজন ব্যক্তিত্বের সাথে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদ ও ফারুক। জিজ্ঞাসাবাদে আন্দোলনের জন্য নারীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করার কথাও স্বীকার করেছে রাশেদ। নারীরা নারী কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে না বলে কৌশল হিসেবে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে অভিযুক্ত নারীদের টার্গেট করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।

কোটা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ ও ফারুক আন্দোলনের নেপথ্যে ভয়াবহ পরিকল্পনার কথা জানায়। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাশেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ২০টি বিকাশ ও রকেটে কত টাকা লেনদেন হয়েছে তা জানতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া নুরু ১৫টি বিকাশ ও রকেট একাউন্টের দায়িত্বে রয়েছে। দুটি একাউন্ট থেকে সংগৃহীত ২৭ লাখ টাকা নুরুকে দেয়ার পর হিসাব দেয়া হয় নি বলে মন্তব্য করেছিল মশিউর। কতটি ব্যাংকে টাকা এসেছে তা এখনো তদন্তাধীন।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাশেদ-নুরুদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন সকলের কাছেই দৃশ্যমান ছিল। সাধারণ মানের স্মার্টফোন থেকে আইফোন ব্যবহার, দামী স্মার্ট টিভি, ট্যাব ক্রয়, বাবার কাছ থেকে টাকা আনার কথা বললেও স্ত্রীসহ মাসিক ২৫ হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করে। সুহেলের মত আতাউল্লাহ, তারেক, হাবিবুল্লাহ, সোহরাব প্রমুখ টিউশনি করে চলার দাবি করলেও সম্প্রতি বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেছিল। আর এ অর্থলিস্পায় তারা জড়িয়ে যায় বিএনপি জামায়াতের রাজনৈতিক জালে।

রিমান্ডে থাকা কোটাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান জানান, কোটা আন্দোলনের নামে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ধর্মঘট ও অবরোধ শুরু করলে সারাদেশে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা জড়ো হবে। কোটা যেহেতু জটিল একটি বিষয় তাই বিভিন্ন বাহানায় আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী করা হবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সরকার পতনের ডাক দেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। এই পরিকল্পনা সফল করতে প্রথমে সিদ্দিকের মত কয়েকজন সংগঠককে আন্দোলন থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

যেহেতু ভদ্র পরিবারের ছাত্রীদেরকে তাদের পরিবার সহিংস কর্মসূচিতে যেতে দিবে না এবং মার্জিত কোনো শিক্ষিত নারী নিজেদের কোটার বিরুদ্ধে বলবে না, সে কারণে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ছাত্রীদের সক্রিয় করাকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সংগঠক হিসেবে যুক্ত করা হয় বিলাসবহুল জীবনযাপনে সবকিছু করতে পারবে এমন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রী সংস্থা, উগ্র নারীবাদী, মাদকাসক্ত ও পতিতাবৃত্তিতে জড়িত ছাত্রীদের। এছাড়া নারীদের দ্বারা মিথ্যা অভিযোগকেও মানুষ সত্য হিসেবে মেনে নিতে অভ্যস্ত। এর বাস্তব প্রমাণও দেখা গেছে। ফারুককে প্রহার করার সময় সে মরিয়ম মান্নানের স্তন চেপে ধরে রেখেছিল এবং ছাত্রলীগের ছাত্ররা তাকে ছাড়িয়ে নিচ্ছিল। উক্ত ঘটনার কোনো ভিডিওতে ছাত্রলীগের কাউকেই কোনো ছাত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ করার প্রমাণ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে মরিয়মের ঘটনাকে প্রচার করা হচ্ছে আরেক সংগঠক খাদিজা ইভের লিখিত কবিতা দিয়ে যেখানে তার স্তনে সাত জন পুরুষ হাত দেয়ার কারণে সে তাদের আশীর্বাদ করছে।

জানা গেছে, কোটা আন্দোলনে জড়িত বেশিরভাগই ছাত্রী সংস্থার সাথে জড়িত। তবে ধর্ষকের মানবাধিকার চেয়ে আলোচিত লিজার মত বিএনপি কর্মী ও উম্মে হাবিবার মত নেত্রীও ছিল। তবে সংগঠকদের প্রায় সকলেই বিভিন্ন অপকর্মের কারণে অভিযুক্ত, বিশেষত ইডেন কলেজ ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী লুৎফুন্নাহার লীমা, সাংবাদিক পরিচয় দানকারী মৌসুমী এবং সাবেক ছাত্রলীগ ও বর্তমান ছাত্র ফেডারেশন নেত্রী উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

কোটা আন্দোলনকে সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে শুরু করার নীল নক্সার সাথে যুক্ত ছিল ছাত্রী সংস্থার নেত্রী লুৎফুন্নাহার লীমা, মৌসুমী নামের এক কলগার্ল এবং বাম নেত্রী বেনজির। পরবর্তিতে যুক্ত হয় রাশেদ এবং আল মামুন রাসেল। কিন্তু মামুনের শিবির করার তথ্য প্রকাশ হয়ে গেলে সম্পৃক্ত করা হয় সাবেক ছাত্রদল নেতা টুকুর ঘনিষ্ট লোক হিসেবে পরিচিত নুরুকে। নুরু ছাত্রলীগে যুক্ত হয়েছিল টুকুর নির্দেশে। অন্যদিকে মামুন রাসেল বিতর্ককে সামাল দেয়ার জন্য এ আন্দোলনে আহবায়ক করা হয় ক্লিন ইমেজের হাসান আল মামুনকে। তবে সরকারের দালাল হিসেবে উল্লেখ করে তাকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছিল। তাই নীতি নির্ধারণী গ্রুপে মামুনকে রাখা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাখা হয় ফারুক, মাহফুজ, আতাউল্লাহ, তারেক ও জসিমকে।

কোটা আন্দোলন সম্পর্কে রাশেদ ও ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদে ও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে অবাক হওয়ার মত চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, আন্দোলনে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী দরিদ্র পরিবারের সন্তান লীমা শিক্ষক পিতার মৃত্যুর পর আর্থিক সহায়তার পেতে ছাত্রী সংস্থায় যুক্ত হন। কিন্তু বিলাসী জীবনের জন্য পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েন। তাকে এ অভিযোগে ইডেন কলেজ কর্তৃপক্ষ শোকজও করেছিল। সিদরাতুল মুনতাহা কাশফি, পারভিন হানা, ফাতিমা তাহসিন, মৌমিতা আলো ও নিশাদ সুলতানা সাকি সহ প্রায় দশ জন ছাত্রী বিলাসবহুল জীবনের লোভে লীমার মাধ্যমে দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোটা আন্দোলনের নামে অনুদান সংগ্রহে পাঠানো হতো নারী সংগঠকদের। ছদ্মনামে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মনোরঞ্জন করা ছাড়াও ফেসবুকে কয়েকটি ফেক আইডি দিয়ে খাটি চটি, বিডি পর্নো, এসো আলোর পথে, কবিতার প্রহর, কে খাবি লাল জাম্বুরা এবং কোটা সংস্কারের পেজসহ কয়েকটি পেইজ ও গ্রুপ পরিচালনা করে। এগুলো ব্যবহার হয়েছে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে। এমন কি কোটা আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ ঘোষণার পরও বিএনপি জামায়াতের ভুয়া পোর্টাল ও ফেসবুক পেজগুলোতে উস্কানিমূলক প্রচারণা চলছে। এর আগেও তাদের সকল কর্মকাণ্ডের সংবাদ বিএনপি জামাতের প্রচার মাধ্যমগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রচার হতো। এমন কি রাশেদের রিমান্ড মঞ্জুরের পর আন্দোলন নিউজ নামে জঙ্গি প্লাটফরমটিতে লাইভ বক্তব্য দিয়ে সারাদেশ অচল করে দেয়ার আহবান জানায় লীমা।

আন্দোলনকারীদের সাথে বিএনপি-জামাতের সম্পর্ক স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা রাখে মৌসুমী মৌ নামে কলগার্ল সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত এক ছাত্রী। মৌসুমীর বাবা যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কর্মচারি হওয়ার সূত্রে তার সাথে বিএনপির সম্পর্ক স্থাপন হয়। বিভিন্ন নেতাদের কাছে নারী সরবরাহ করা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। একই ধরণের অভিযোগ রয়েছে ছাত্র ফেডারেশনের উম্মে হাবিবা বেনজিরের বিরুদ্ধে। ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় যে কয়েকজনকে ইয়াবা সম্রাজ্ঞী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাতে মৌসুমী ও বেনজিরের নাম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধের সাথেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

উম্মে হাবিবা বেনজির বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। সে সময় “ম” অদ্যাক্ষরের তৎকালীন ছাত্রলীগের এক সহ সম্পাদকের সাথে তার পরিণয় ছিল। সম্পর্কের ছয় মাস উক্ত নেতা গণোরিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তার পরিবার চরিত্রহীন ও বহুগামী বলে ভর্ৎসনা করে তার মাসিক খরচ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এই অভিযোগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুলের কাছে গেলে বহু দেনদরবার হয়। পরবর্তিতে বারডেমের চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডা: রেজার তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করে জানা যায় গণোরিয়া সংক্রমিত হয়েছে বেনজিরের কাছ থেকে। বেনজিরের সাথে সম্পর্ক রাখবে না এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিলে নাজমুল সাবেক ছাত্রলীগের এক সভাপতির কাছ থেকে তার চিকিৎসা খরচ জোগাড় করে দেয় এবং পরিবারের সাথে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। এ ঘটনার বেনজির ছাত্র ফেডারেশনের সাথে যুক্ত হয়। কোটা আন্দোলনের মূল ভাগে বেনজিরের সাথে লীমা ও রাশেদদের যোগাযোগ স্থাপিত হয় মৌসুমীর মাধ্যমে।

লীমা, মৌসুমী ও বেনজিরের মত কোটা আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে যুক্ত প্রায় সকল ছাত্রীর বিরুদ্ধেই দেহ ব্যবসা ও ছাত্রী সংস্থার যৌনজেহাদী শাখায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

যৌক্তিক আন্দোলন বলে দাবি করে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে কয়েকজন সংগঠকের বিরুদ্ধে শিবির সম্পৃক্ততা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও সরকার একে নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করে নি। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারী তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু অতি সম্প্রতি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন দিকে যাচ্ছে বলে পরিলক্ষিত হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। বিশেষত কর্মসূচি ঘোষণা করে রাশেদ যে উগ্র বক্তব্য দিয়েছিল তাদের সব মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

কোটা যেহেতু সারা বিশ্বে প্রচলিত একটি বিষয় তাই এর সংস্কারে বিভিন্ন পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা চাইলেই দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে না। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দাবি করে হঠাৎ উগ্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়া, কোটা আন্দোলনকারীদের পরিচালিত ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপে সরকার বিরোধী পোস্ট দেয়ার অভিযোগ প্রথম থেকেই থাকলেও গ্রুপ পরিচালকদের দ্বারা সরাসরি সরকার বিরোধী প্রচারণা শুরু, ছাত্রলীগকে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকি, মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং বিএনপি-জামাতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে শুরু করলে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উঠতে থাকে। এ অবস্থায় সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে মাঠে নামায় আন্দোলনের নেপথ্যের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। গোয়েন্দা সূত্রের কাছে খবর আসে যে, লন্ডনে পলাতক বিএনিপ চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার পরিকল্পনায় নতুন করে কোটা আন্দোলনের শুরু হয়েছে। আর কোটা আন্দোলনকারীদের ব্যবহার করে বড় পরিসরে আন্দোলনের পাঁয়তারা করছে বিএনপি। বিষয়টি নজরে আসার পরই সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার সহনশীল ভাবেই নিয়েছে। কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। কোটা সংস্কারের জন্য কমিটিও হয়েছে। সংসদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়ে অপর একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে। কোটা সংস্কার নিয়ে প্রশাসন যখন আগাচ্ছে তখন আবার কেন আন্দোলন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হঠাৎ করেই আবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিল নির্বাচনের আগে বড় আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। তারা এটাও স্বীকার করেন যে অনেকে এখনো গুজবের শিকার হয়ে সংগঠকদের সুদৃষ্টিতে দেখছে যা তাদের বিপথে পরিচালিত করতে পারে।

%d bloggers like this: