মার্চ 28, 2019

মাদক সম্রাট মনু মিয়া থেকে মনু চেয়ারম্যান

abu sayeed monu mia

মোঃ আবু সাইদ মিঞা ওরফে মনু মিয়া পিরোজপুরের কাউখালী এলাকায় মনু চেয়ারম্যান হিসেবে এবং ঢাকায় একজন ব্যবসায়ী/ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। তবে অপরাধ জগতে তার নাম মাদক সম্রাট মনু মিয়া। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর তার বেশভুষায় চলে আসে আমুল পরিবর্তন। মনু মিয়ার সাম্প্রতিক সুন্নতি লেবাস দেখে পূর্বপরিচিত অনেকেরও হয়তো তাকে চিনতে কিছুটা কষ্ট হবে। এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি)র প্রার্থী হয়েছেন তিনি। গনসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

মাদক সম্রাট যখন জনপ্রতিনিধি

পূর্বদিকে সন্ধ্যা আর পশ্চিমে কালীগঙ্গা নদী। মাঝখানে ১৪ বর্গকিলোমিটারের জনপদ সয়না রঘুনাথপুর। বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না এ ইউনিয়নবাসীর। এই সুযোগে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে মনু তেমন কোনো বাধা ছাড়াই সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকারকে জিম্মি রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট, নির্বাচিত পরিষদ, দাপ্তরিক কর্মচারী, ডিজিটাল সেন্টারের সরঞ্জাম ইত্যাদি সকল সুবিধা দেয়া হলেও স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নেন নি। এলাকাবাসীকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেন, তিনি তার ব্যক্তিগত অর্থেই সবকিছু চালিয়ে রাখছেন। এবার কাউখালী উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সংসদ নির্বাচনকে উপলক্ষ করে। রাজনীতিতে স্থান পেতে বড় অংকের টাকা ঢালতে কার্পণ্য করছেন না। তার রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট হওয়ার তথা জনপ্রতিনিধি হওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য নিরাপদে মাদক ব্যবসা করা। কাউখালীর বেশিরভাগ এলাকাবাসী হয়তো জানেনই না যে তাদের মনু চেয়ারম্যান একজন মাদক সম্রাট।

মাদক ব্যবসা পরিচালনার কৌশল

কাউখালীর গোয়ালতা গ্রামের সালেক মিঞা ও পারুল বেগমের পুত্র মনু এসএসসি পাশ করার পর জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। গৌরনদীর মাদক ব্যবসায়ী মানিক মাঝির সঙ্গে বন্ধুত্ব জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মনু জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করেন ইয়াবা ব্যবসা। দুই বছরের মধ্যে বৃহত্তর বরিশালের মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক বনে যান কাউখালীর মনু মিয়া, গৌড়নদীর মানিক মাঝি ও মাদক সম্রাট খ্যাত ঝালকাঠির জাহিদ। মাদক ব্যবসা পরিচালনার কৌশল পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার পারসাতুরিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ময়নুদ্দিনের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলামের (২৭) পেশা মুদি ব্যবসা। মনু মিয়ার বদৌলতে উচ্চ লাভের আশায় মুদির দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা চালিয়েছিলেন। কাউখালী সদর ইউনিয়নের গান্ডতা গ্রামের মানিক সেনের ছেলে মনোজ সেন (২২), সোনাপুর গ্রামের চুন্নু শেখ (৩৫), এমন প্রায় দুই শতাধিক খুচরা মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে চলে মনুর মাদক সিন্ডিকেট।

ইয়াবা শুধু নয়:

ইয়াবা মূল ব্যবসা হলেও চাহিদা অনুসারে মদ, ফেন্সিডিল ও গাজার ব্যবসাও চলে একই সাথে। মাঠ পর্যায়ের পুঁজিবিহীন খুচরা মাদক বিক্রেতা ছাড়াও নগদ অর্থে মাদক ক্রয় করলে পাইকারি দরে দেয়া হয়। কাউখালীর চরবাশুরী গ্রামের নুরুল ইসলাম খান বা সেলিম খানের মত স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও মনুর নেটওয়ার্কের অন্তর্গত। উল্লেখ্য, নুরুল ইসলাম গত নির্বাচনে মনুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিল। রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধ থাকলেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

মিডিয়ায় মনু মিয়ার অপকর্মের তথ্য:

মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত মনুর নামে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় জনপ্রতিনিধিদের মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়ে ‘জনপ্রতিনিধিরাই ইয়াবা কারবারি’ নামের একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে বরিশাল কেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের শীর্ষ নেতা হিসেবে আবু সাঈদ মনু মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। ‘রাইজিং বিডি’ নামক পত্রিকার টেকনাফ স্থানীয় প্রতিনিধির বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকার উপর ভিত্তি করে একটি সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৬ জুন। সেই প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা ক্রেতাদের মধ্যে আবু সাঈদ মনুকে ফকিরাপুলের ইয়াবা সম্রাট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল মনুদের মত গডফাদারদের হাত ধরে সারাদেশের অনেকেই ভয়ঙ্কর ইয়াবা ব্যবসায় নাম লিখাচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় মনু

টেকনাফ হচ্ছে মনুর অন্যতম অভয়াশ্রম। দেশের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাহেদুর রহমান নিপু এবং মোঃ ফয়সালের বিশ্বস্ত ক্রেতাদের অন্যতম একজন মনু। ঢাকায় আবু সাঈদ মনুর সহযোগী মোহাম্মদপুর এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী আসমা আহমেদ ডালিয়া। ডালিয়ার পুরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ৩৭ জনের তালিকায় ডালিয়া সহ মনুর নাম এসেছে সাত নম্বরে।

জাল টাকার ব্যবসাঃ

মনুর নাম মাদক ছাড়াও জাল টাকার ব্যবসার জন্য বহুল আলোচিত। মনুর বিশ্বস্ত কর্মচারিদের মধ্যে রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন ও শিকদারের নেতৃত্বে একটি চক্র জাল টাকার ব্যবসা করে। এলাকা ছাড়াও মাদক ক্রয় বিক্রয়ের সময় জাল টাকা চালিয়ে দেয়া সহজ হয় বলে এই ব্যবসায়ও ঝুঁকে পড়ে মনু। মনুর বিরুদ্ধে জাল টাকা সংশ্লিষ্ট একটি মামলার তদন্ত চলমান।

মাদক ও জাল টাকার ব্যবসার মাধ্যমে ফুলেফেঁপে ওঠা আবু সাইদ মনু মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর এলাকার অগ্রগতি হয়নি সামান্যতম। সনদপত্র বা জন্মনিবন্ধন পেতে হেঁটে ছুটতে হয় ইউনিয়নের বেতকা বা সোনাকুর থেকে মেঘপাল গ্রাম পর্যন্ত। ১০-১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। নদীভাঙন ইউনিয়নটির মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। সন্ধ্যা ও কালীগঙ্গা নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রায় একযুগে তিন শতাধিক একর ফসলি জমি, পাঁচ শতাধিক বসতঘর, বহু সড়ক, পুল-কালভার্ট চলে গেছে নদীতে। হোগলা-কাঁঠালিয়া থেকে শির্ষা গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। কালীগঙ্গার ভাঙনে বেতকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একাধিক মসজিদ ও বেতকা ব্রিজ বিলীনের পথে। সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ১৯৮০ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়। মনুর এ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয় উপেক্ষা করার কারণ মাদক ব্যবসা বলেই ধারণা করা হয়। এবার উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচিত হলে গোটা উপজেলাকেই মাদক ও জাল টাকার সিন্ডিকেটে নিয়ে আসা হবে এমন আশঙ্কা অনেকের। মাদক বিরোধী যে অভিযান চলছে তাতে মনুর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সকলের।

 

Advertisements
অক্টোবর 9, 2018

শিবিরপন্থী কোটা নেতাদের সহায়তায় নিজামী পুত্র ওয়ামী ও ফ্রিডম পার্টির ইসমাইল

১২ এপ্রিল নুরুল হক নুরু কোটা বাতিল করায় প্রধানমন্ত্রীকে মাদার অব এডুকেশন খেতাবে ভূষিত করেছিল। গতকাল শিবিরের অনলাইন একটিভিস্ট নুরুল হক নুরু লাইভ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকিদাতার মুক্তি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লোপাটের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই যে তদন্ত করেছে সেখানে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশের কেউ জড়িত ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রী কোটা চাইলে আন্দোলন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন, এর কারণ ছিল জনমতকে গুরুত্ব দেয়া ও সচেতন করা। কিন্তু ইন্ডিপেনডেন্ট টিভিতে নুরু উস্কানি দেয়ার অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছে। কার্যকর কোনো দাবি না থাকলেও ফেসবুক গ্রুপ ও আইডি থেকে ক্রমাগত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। এতকিছুর পর শিবিরের গুটিকয়েক কর্মী বিনা বাধায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালন করছে!

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ ও “হত্যার” অভিযোগে আইসিটি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদু্ল্লাহ কায়সার সোমবার এ আদেশ দেন।

কোটা ছাড়া কোনো দাবি নেই, ঘরে ফিরে যাবো এ জাতীয় মুখরোচক কথা বলে ইতিমধ্যে শহীদুল আলম ও মাইদুলসহ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তকারীদের মুক্তির দাবিতে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে নুরুরা।
ইন্ডিপেনডেন্ট টিভিতে প্রধানমন্ত্রীকে উস্কানি দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করলেও বিনা বাধায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালন করেছে। শিবিরের এ হেন অপতৎপরতায় ছাত্রলীগের নিষ্ক্রিয়তায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) বিজন কুমার বড়ুয়া বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত মাইদুলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করল। শুনানিতে আমরা বলেছি, তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হয়ে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করেছেন। কিভাবে হুমকি দেন? উনার কাছ থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা কী শিখবে?

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কারণেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামেরকে ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাইদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে। আদালতে বিচার চলমান। এ অবস্থায় যারা তার পক্ষে কর্মসূচি দিচ্ছে তারা আদালত অবমাননা করছে।

মাইদুল ইসলামসহ গ্রেপ্তারকৃত শিবিরপন্থী নেতা ও শিক্ষকদের মুক্তির দাবিতে প্রথম থেকেই সোচ্চার রয়েছে কোটা আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট শিবিরের অনলাইন একটিভিস্টরা। বাক স্বাধীনতার কথা বললেও তাদের তৈরি ফেসবুক গ্রুপে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকলকে বের করে দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন হুমকি দেয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করছে। প্রধানমন্ত্রী উস্কানি দিয়েছেন বলা ছাড়াও তক্রমাগত সরকার বিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে শিবিরের অনলাইন একটিভিস্ট নুরু, তারেক রহমান, মশিউর, তারেক রহমান ও সোহরাবসহ অনেকেই। আর এতে নেপথ্যে থেকে সমন্বয় করছে কবীর হোসেন শুভ নামে এক প্রবাসী শ্রমিক। আন্দোলনকারীদের মধ্যে রাশেদ ও মামুন শুধু কোটা আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইলেও নুরু ও মশিউর সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোটের অংশীদার হতে চাচ্ছে। নুরু, মশিউর ও তারেকের সঙ্গে কবীর হোসেন শুভ নামে এক প্রবাসী শ্রমিকের মাধ্যমে লিয়াজোঁ রক্ষা করে প্রকৃতপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ওয়ামী ও ফ্রিডম পার্টির দেওয়ান ইসমাইল।

নানা বাহানায় ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা আদায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর কারণে প্রবাসীদের প্রতি মনোযোগ দেয়া হয়। বিএনপি জামাতদের প্রবাসী নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আন্দোলনের নামে টাকা জোগাড়ে সরাসরি সহায়তা করছে ওয়ামী। দেওয়ান ইসমাইলের নির্দেশে ফ্রিডম পার্টির কর্মিরা কোটা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। বিদেশ থেকে আদায় করা টাকা কবীরের পেপালে জমা হয় এবং তা পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে নুরু ও তার পরামর্শে সংশ্লিষ্টদের একাউন্টে।

পটুয়াখালীর কলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের এক হত দরিদ্র পরিবারে নুরুল হক নুরুর জন্ম। তার বাবা ইদ্রিস হাওলাদার ভূমিহীন কৃষক ছিল। ইদ্রিস বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর কয়েকটি দালালির কাজ করে ইউপি সদস্য হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের লোক সাজায় তাকে স্থানীরা গলাচিপার মওদুদ ডাকে। সরকারী গম ও বন্যার্তদের ত্রাণ কেলেঙ্কারির কারণে ইদ্রিস পরবর্তিতে আর নির্বাচিত হতে পারে নি। বহু বিবাহের কারণে ইদ্রিসকে নিয়ে এলাকায় নানা কথা প্রচলিত আছে। নুরুর মা গলাচিপার সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হকের বাসায় গৃহভৃত্যের কাজ করতো। নুরু মা বেঁচে নেই, এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে ইদ্রিস আরেক বিয়ে করার জন্য তার স্ত্রীকে হত্যা করে। উল্লেখ্য নুরুর নানা ভুয়া মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট গ্রহণের চেষ্টা করে গণধোলাই খেয়েছিল।

গলাচিপার রাজা মিয়া জানান, নুরু ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় সর্বহারা দলের যুক্ত হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত হলে তাকে গাজিপুরে বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্কুল জীবনেই গলাচিপার হাতেম মাস্টারের মেয়ের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন এবং পালিয়ে বিয়ে করেন। সে সময় দুজনের কারোই বিয়ের বয়স হয় নি। ভাবী মিতা আক্তারের সমঝোতায় সকলে মেনে নিলে তারপর থেকে শ্বশুরের অর্থেই চলছে নুরু। গাজীপুরে বিএনপি নেতা হাসান সরকারের একটি মাদক স্পটে নুরু খন্ডকালীন দায়িত্ব পালন করতো নুরু। সে সময় থেকে সে ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ কোটা আন্দোলনে নুরু, মশিউরদের যুক্ত হওয়ার নেপথ্যে ছিল ছাত্রছাত্রীদের টাকা হাতিয়ে নেয়া। পৃথিবীর কোনো আন্দোলন ভিক্ষাবৃত্তির উপর গড়ে ওঠেনি। এ আন্দোলনকারীদের কেউ রিকশাওয়ালার সন্তান, কেউ জেলের সন্তান, কেউ দরিদ্র কৃষক বা গার্মেন্টস কর্মির সন্তান। তাই পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নিকৃষ্ট পরিবারের এইসব সন্তানদের মানুষের কাছে হাত পাততে মোটেও বিবেকে বাধে না। ভবিষ্যৎ বা ক্যারিয়ার বলে কিছু নেই, পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। তাই বিএনপি জামাতের অর্থের লোভে আন্দোলন খেলায় মেতেছে তারা।

কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বের কথার কোনো মূল্য নেই তা প্রমাণিত। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাহানা দিয়ে এখন তারা শহীদুল আলম, মাইদুলের মুক্তি, এমনকি সিনহা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতেও কথা বলা শুরু করেছে। অতএব বলার অপেক্ষা রাখে না তারা বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির ইন্ধনে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় কোটা নিয়ে আন্দোলন করতে হলে অবশ্যই এই চিহ্নিত দালালদের উৎখাত করে নতুন নেতৃত্ব মনোনীত করতে হবে।

কার্যত কিছু করতে না পারলেও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ও জামাত শিবিরের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই প্রতারকচক্র নানা বাহানায় আন্দোলনের নামে উস্কানি অব্যহত রাখছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামাত শিবির যে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে তাতে সহযোগিতা করতে ও শিবিরের ক্যাডারদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে ষড়যন্ত্র করছে কোটার নামে আন্দোলনকারী গুটিকয়েক ব্যক্তি। নুরুকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত বলে দাবি উঠেছে অনেক আগেই। তাকে রিমান্ডে নেয়া হলে নেপথ্যের সকল ষড়যন্ত্র উন্মচিত হবে।

অক্টোবর 9, 2018

যে অনুষ্ঠানের কারণে পলকের প্রোফাইল ভেরিফিকেশন বাতিল

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের ভেরিফাইড প্রোফাইল থেকে ভেরিফাইড স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করেছে ফেসবুক। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণীতে বিতর্কিত তওবা সম্পাদক মতিউর রহমান বাচ্চুর সঙ্গে উপস্থিত থাকার কারণে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও প্রথম আলোর উদ্যোগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে তওবা সম্পাদক নিষিদ্ধ হলেও ফটোসেশন ও সেলফির প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

তওবা মতির সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি প্রকাশের পর ফেসবুক জুড়ে হৈচৈ শুরু হয়। অনেকে প্রথম আলোর লিংক সমেত মন্ত্রী স্টিভ জব্বারের কাছে বার্তা পাঠিয়ে পলকের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। উত্তরে জনাব স্টিভ বলেন, “প্লিজ অয়েট, আই গো স্লো বেঙ্গলি ভেরি মাচ।”

ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রিস কক্স নামের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের আইডি বাতিল করেছি। উলফার মাধ্যমে নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় মতি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আগামী ২ নভেম্বর ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করলে প্রতিমন্ত্রী পলক মহোদয়ের পেজের ভেরিফেকেশনও বাতিল করা হবে।

জুলাই 30, 2018

পারভেজ নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন!

কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতা ও তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ সরকার (৪০)কে গত শুক্রবার অপহরণ করা হয়েছিল এবং প্রায় ৮ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এই মর্মে প্রায় সকল গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মিডিয়ায় এ সংবাদ প্রচার ও সিসিটিভি ফুটেজ লিক হওয়া নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলেও পরবর্তি ঘটনাক্রম বিশ্লেষণে পারভেজ নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আর এই নাটকের উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নিজের প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা।

ঘটনার দিন পারিবারিক সূত্রে বলা হয় শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ পড়ে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। বাসার নিরাপত্তারক্ষী ওমর আলীর মতে, পারভেজ সরকার বাসায় ফেরার সময় বাসার সামনেই এক ব্যক্তি তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে আসে। তাকে ধস্তাধস্তি করে গাড়ীতে তোলা হয়। কিন্তু পারভেজ হোসেন বলেন, আমার সাথে সালাম দিয়ে কথা বলার কৌশলে এবং পেছন থেকে একজন ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেয়। আমার চোখে কালো কাপড় বেঁধে এবং মুখেও একটা কাপড় দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। অজ্ঞান করা হলে এত দ্রুত জ্ঞান ফিরতো কিনা সেই প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় (সময় ১১:২০ ঘটিকায়) তাকে টেনে পাশে নিয়ে গাড়িতে তোলা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞান করে গাড়িতে তোলা হয়েছে নাকি গাড়িতে তোলার পর অজ্ঞান করা হয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তিন জন প্রত্যক্ষদর্শি থেকে বিবরণ জানা যায়। কথিত অপহরণকারীদের দুজন বাইরে ও দুজন গাড়ির ভেতর ছিল। সিসিটিভিতে কয়েকজনকে দৌঁড়ে আসতেও দেখা যায়। বিনা বাধায় কিভাবে অপহরণ করা সম্ভব হয়েছে উত্তর মেলেনি সেটিরও।

পারভেজের মামা কামরুল হোসেন দাবি করেন, তিনি সব সময় চার থেকে পাঁচজন লোক সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতেন। আজ শুক্রবার মসজিদে একাই গিয়েছিলেন। আবার অপহরণের পর পারভেজের স্ত্রী তাহমিনা পারভেজ বলেছিলেন, কয়েকদিন থেকে গাড়ি ছাড়া ছেলেদের নিয়ে বাইরে না যেতে ও একা ঘোরাফেরা না করতে বলেছিলেন। তাই সেদিন কেন এর ব্যত্যয় ঘটেছিল তার সদুত্তর পাওয়া যায় নি।

আরও রহস্য সৃষ্টি হয়েছে গাড়ির নম্বর প্লেট নিয়ে। ‘ঢাকা মেট্রো ঘ ১৪-২৫৭৭’ নম্বর গাড়িটির নম্বরপ্লেট সিসিটিভিতে আসতে পারে এমন চিন্তা অপহরণকারীদের আসবে কিনা এ প্রশ্ন করছেন অনেকে। যেহেতু উক্ত নম্বরটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে তখন এত দ্রুত নম্বর জানার বিষয়টিও রহস্যজনক মনে হচ্ছে। সবার হাতে ওয়াকিটকি ও পিস্তল ছিল, আবার বলা হয়েছে একজনের বড় চুল ছিল।

এছাড়া শুধুমাত্র দুটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে ছেড়ে দিবে কেন বা সেই স্ট্যাম্পই বা কি দরকারে আসবে সঠিক কার্যকারণ জানা যাচ্ছে না।

ঘটনা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে পারভেজ কেউ জড়িত নন বলে জানিয়েছিলেন। পরবর্তিতে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তবে মোটের উপর পরিকল্পিতভাবে হলেই ঘটনার প্রতিটি ক্রমধারার সমাধান মেলে।

পারভেজ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করার সুবাদে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সন্দেহভাজনদের একজন অভিযোগ করেন, পারভেজের পিতা বেলায়েত হোসেন সরকার তিতাস উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। পারভেজের রাজনীতির হাতেখড়ি ঘটে ঢাকা কলেজের ৯২-৯৩ সেশনের ভিপি-জিএস হারুন ও জাভেদের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ক্যাডার হিসেবে। পারভেজের ভাই মাসুদ তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের ডান হাত হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চিয়ার্স রেস্টুরেন্টসহ বেশ কয়েকটি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

পারভেজ ২০০৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিতাস উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে আওয়ামী লীগে যোগদান করে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অপহরণ নাটকের মাধ্যমে আলোচনায় আসাই তার উদ্দেশ্য ছিল।

জানা গেছে, কুমিল্লা ২ আসনে অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, নারী উদ্যোক্তা মেরি, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী ও তিতাসের মেয়রসহ হেভিওয়েট প্রার্থীর কারণে পারভেজ সরকারের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে এমকে আনোয়ারের অসুস্থতার কারণে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার ছাড়া শক্তিশালী কোনো প্রার্থী নেই। সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. খন্দকার মোশাররফের সাথে বহুবছরের রাজনৈতিক সখ্য ও তাঁর ছেলে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়ার পারভেজকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুধুমাত্র আলোচনায় এসে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্যই অপহরণের নাটক রচনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে কথিত অপহরণে ব‍্যবহৃত গাড়িটি সনাক্ত করা গেলে রহস্য উন্মোচন সহজ হবে।

জুলাই 18, 2018

সিলিটে শতাধিক পরিবারকে নিঃস্ব করা আহবাব এখন লন্ডনের কোটা নেতা


প্রতি লাখে মাসে ২০ হাজার টাকা লভ্যাংশ প্রদানের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবার, এমনকি রিকশা চালক ও শ্রমিকদের শেষ সম্বল হাতিয়ে নেয়া সিলেট ছাত্র শিবিরের নেতা এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সাধারন ছা্ত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার। কোটা সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকাও সংগ্রহ করেছে এবং করছে।

সিলেট জেলা ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি আহবাব আহমদের নেতৃত্ব শিবিরের একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা আত্মসাত করলেও নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নেয়া সাত কোটি টাকা ফেরত দেয়। প্রতারক আহবাব বর্তমানে জামায়াত নেতা চৌধুরী মাঈনুদ্দিনের সহযোগিতায় লন্ডনে এসে জামায়াতের রাজনীতির পাশাপাশি কোটা আন্দোলন সংগঠিত করছে।

এই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকেই লোভে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আহবাবের কথিত ব্যবসায় অংশীদার হয়েছিলেন। কারো সঙ্গে লেয়ার মুরগির খাদ্য কেনাবেচার, আবার কাউকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের শেয়ার বিক্রির ভুয়া চুক্তিপত্র দিয়ে প্রতারণা করেছেন এই শিবির নেতা।

প্রতারক শিবির নেতা কোটা আন্দোলনের সংগঠক আহবাব আহমেদ

প্রতারক শিবির নেতা কোটা আন্দোলনের সংগঠক আহবাব আহমেদ

প্রতারণার শিকার একজন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং ছত্রিশ গ্রামের ময়না মিয়া। তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালের দুটি শেয়ার ক্রয়ের চুক্তিপত্র নিয়ে ২ লাখ টাকা খুইয়েছেন। ওই চুক্তিপত্রের কপি এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া অনুসন্ধানে এ প্রতিবেদকের হাতে আহবাবের প্রতারণার বেশ কিছুু তথ্য-প্রমাণ আসে।

এ রকম নানা জনের কাছে নানা কৌশলে প্রতারণা করে লাপাত্তা প্রতারক আহবাব। অভিযোগে জানা যায়, আহবাব শুধু সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে নেয়া ৭ কোটি টাকা ফেরত দেয়ায় শিবিরের দায়িত্বশীল কেউই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে নারাজ।

প্রতারণার বিষয়টি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে তোলপাড় হয়।

শিবির নেতা আহবাব গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ছত্রিশ গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের বড় ছেলে। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় বিভিন্ন বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতেন তিনি। গত কয়েক বছর থেকে তার চলাফেরায় পরির্বতন আসে। একে একে ৪টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি পিকআপ ভ্যানসহ দামি মোটরসাইকেল ক্রয় করেন তিনি। আহবাব ছাত্রশিবির গোলাপগঞ্জ পশ্চিম শাখার সভাপতি ও কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের অফিস সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে সিলেট জেলা ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি। গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহিবুল্লাহ হোসনেগীর এ প্রতিবেদকের কাছে আহবাবের দলীয় নেতাকর্মীর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও দল এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন মুহিবুল্লাহ।

অনুসন্ধানে ২০১৬ সালের একটি ছবিতে দেখা যায়, তৎকালীন সময়ে শিবিরের মাসিক ম্যাগাজিন কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের একটি অনুষ্ঠানে আহবাবের সঙ্গে এক সারিতে আছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহিবুল্লাহ হোসনেগীর ও আহবাব। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের সিলেট জেলা পূর্ব শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ দস্তগীরসহ আরো অনেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিবিরের একজন সাথী এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রতারক আহবাবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতারণার শিকার অনেকেই সেখানে ভিড় করেছেন। এর আগে আহবাবকে বাড়িতে না পেয়ে প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন রোববার বিকালে আক্রমণ করে ঘরের ফ্রিজ, টিভি, খাট, ৪টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি পিকআপ ভ্যান, শ্যালো মেশিন, এমনকি বাড়ির প্রধান গেট যে যা পেয়েছেন নিয়ে গেছেন।

সিলেট শহরের তালতলায় বসবাসকারী প্রতারণার শিকার একজন বলেন, আহবাবের সঙ্গে তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচয়। এরপর কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রায় ১০ লাখ টাকা আহবাবের কথিত ফার্মের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলাম। আহবাব লাপাত্তার খবর শুনে তার বাড়িতে এসেছি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আহবাবের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে থাকা আহবাবের মা নাছিমা বেগম জানান, শনিবার রাত থেকে ছেলের খোঁজ জানি না। রোববার থেকে লোকজন আহবাবকে না পেয়ে বাড়ির সবকিছু লুটে নিয়েছে। আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার ছেলে নির্দোষ।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস টিপু জানান, চলতি বছরের ২৯ মার্চ ফার্মের মুরগির খাবারের ব্যবসার কথা বলে চতুর আহবাব তার কাছ থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে এক টাকাও ফেরত দেয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারদলীয় একজন সমর্থক জানান, তার ভাইয়ের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিল আহবাব। এর মধ্যে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

জকিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের বদরুল হকের ছেলে সোহেল আহমদ জানান, তিনি ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন আহবাবের কথায়। তাকেও মুরগির ফার্মের ব্যবসার কথা বলে টাকা নেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের একটি চেকও দেন। ভুটিটিকর ছত্রিশ গ্রামের মুহিব আলী মাস্টারের নাতি পিন্টুর ৫ লাখ টাকা, ছত্রিশ গ্রামের জালাল মিস্ত্রি ৭০ হাজার টাকা, গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের চকরিয়া গ্রামের কামরুল ইসলামের ৭ লাখ টাকা, বিয়ানীবাজার উপজেলার চন্দগ্রাম গ্রামের ব্যবসায়ী আবু বকরের ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, একই উপজেলার খাদিম উলি গ্রামের রুনু মিয়ার ২ লাখ টাকাসহ কয়েকশ’ লোকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন আহবাব।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আহবাব ফেব্রুয়ারি মাসে সিলেটের তামাবিল-ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের ভিসা ইস্যু করিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে ভারত চলে গেছে। আহবাবের পাসপোর্ট নাম্বার বিএইচ ০১৫৬৯৮০। পাসপোর্টে দেওয়া তথ্যে তার জন্ম ২৫ ডিসেম্বর ১৯৮৭ ইংরেজি এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নং ১৯৮৭৯১১৩৮৫১২০৩২৬।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, প্রতারণার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে প্রতারণা করে আত্মসাতকৃত টাকার একটি অংশ শিবিরকে দেয়ায় তারা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযোগ করা থেকে বিরত রেখেছেন।

জুলাই 5, 2018

কোটার নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির নেপথ্যে তারেক: অপকর্মে অভিযুক্ত ছাত্রীদের ব্যবহারের কথা স্বীকার

নিজস্ব প্রদিবেদক‍‍ || অপরাধ কণ্ঠ: কোটা আন্দোলনের নামে বিএনপির বিএনপির অর্থায়ন ও নৈরাজ্য সৃষ্টিতে সমঝাতা এবং জনবিচ্ছিন্ন কয়েকজন ব্যক্তিত্বের সাথে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদ ও ফারুক। জিজ্ঞাসাবাদে আন্দোলনের জন্য নারীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করার কথাও স্বীকার করেছে রাশেদ। নারীরা নারী কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে না বলে কৌশল হিসেবে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে অভিযুক্ত নারীদের টার্গেট করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।

কোটা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ ও ফারুক আন্দোলনের নেপথ্যে ভয়াবহ পরিকল্পনার কথা জানায়। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাশেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ২০টি বিকাশ ও রকেটে কত টাকা লেনদেন হয়েছে তা জানতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া নুরু ১৫টি বিকাশ ও রকেট একাউন্টের দায়িত্বে রয়েছে। দুটি একাউন্ট থেকে সংগৃহীত ২৭ লাখ টাকা নুরুকে দেয়ার পর হিসাব দেয়া হয় নি বলে মন্তব্য করেছিল মশিউর। কতটি ব্যাংকে টাকা এসেছে তা এখনো তদন্তাধীন।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাশেদ-নুরুদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন সকলের কাছেই দৃশ্যমান ছিল। সাধারণ মানের স্মার্টফোন থেকে আইফোন ব্যবহার, দামী স্মার্ট টিভি, ট্যাব ক্রয়, বাবার কাছ থেকে টাকা আনার কথা বললেও স্ত্রীসহ মাসিক ২৫ হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করে। সুহেলের মত আতাউল্লাহ, তারেক, হাবিবুল্লাহ, সোহরাব প্রমুখ টিউশনি করে চলার দাবি করলেও সম্প্রতি বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেছিল। আর এ অর্থলিস্পায় তারা জড়িয়ে যায় বিএনপি জামায়াতের রাজনৈতিক জালে।

রিমান্ডে থাকা কোটাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান জানান, কোটা আন্দোলনের নামে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ধর্মঘট ও অবরোধ শুরু করলে সারাদেশে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা জড়ো হবে। কোটা যেহেতু জটিল একটি বিষয় তাই বিভিন্ন বাহানায় আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী করা হবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সরকার পতনের ডাক দেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। এই পরিকল্পনা সফল করতে প্রথমে সিদ্দিকের মত কয়েকজন সংগঠককে আন্দোলন থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

যেহেতু ভদ্র পরিবারের ছাত্রীদেরকে তাদের পরিবার সহিংস কর্মসূচিতে যেতে দিবে না এবং মার্জিত কোনো শিক্ষিত নারী নিজেদের কোটার বিরুদ্ধে বলবে না, সে কারণে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ছাত্রীদের সক্রিয় করাকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সংগঠক হিসেবে যুক্ত করা হয় বিলাসবহুল জীবনযাপনে সবকিছু করতে পারবে এমন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রী সংস্থা, উগ্র নারীবাদী, মাদকাসক্ত ও পতিতাবৃত্তিতে জড়িত ছাত্রীদের। এছাড়া নারীদের দ্বারা মিথ্যা অভিযোগকেও মানুষ সত্য হিসেবে মেনে নিতে অভ্যস্ত। এর বাস্তব প্রমাণও দেখা গেছে। ফারুককে প্রহার করার সময় সে মরিয়ম মান্নানের স্তন চেপে ধরে রেখেছিল এবং ছাত্রলীগের ছাত্ররা তাকে ছাড়িয়ে নিচ্ছিল। উক্ত ঘটনার কোনো ভিডিওতে ছাত্রলীগের কাউকেই কোনো ছাত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ করার প্রমাণ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে মরিয়মের ঘটনাকে প্রচার করা হচ্ছে আরেক সংগঠক খাদিজা ইভের লিখিত কবিতা দিয়ে যেখানে তার স্তনে সাত জন পুরুষ হাত দেয়ার কারণে সে তাদের আশীর্বাদ করছে।

জানা গেছে, কোটা আন্দোলনে জড়িত বেশিরভাগই ছাত্রী সংস্থার সাথে জড়িত। তবে ধর্ষকের মানবাধিকার চেয়ে আলোচিত লিজার মত বিএনপি কর্মী ও উম্মে হাবিবার মত নেত্রীও ছিল। তবে সংগঠকদের প্রায় সকলেই বিভিন্ন অপকর্মের কারণে অভিযুক্ত, বিশেষত ইডেন কলেজ ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী লুৎফুন্নাহার লীমা, সাংবাদিক পরিচয় দানকারী মৌসুমী এবং সাবেক ছাত্রলীগ ও বর্তমান ছাত্র ফেডারেশন নেত্রী উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

কোটা আন্দোলনকে সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে শুরু করার নীল নক্সার সাথে যুক্ত ছিল ছাত্রী সংস্থার নেত্রী লুৎফুন্নাহার লীমা, মৌসুমী নামের এক কলগার্ল এবং বাম নেত্রী বেনজির। পরবর্তিতে যুক্ত হয় রাশেদ এবং আল মামুন রাসেল। কিন্তু মামুনের শিবির করার তথ্য প্রকাশ হয়ে গেলে সম্পৃক্ত করা হয় সাবেক ছাত্রদল নেতা টুকুর ঘনিষ্ট লোক হিসেবে পরিচিত নুরুকে। নুরু ছাত্রলীগে যুক্ত হয়েছিল টুকুর নির্দেশে। অন্যদিকে মামুন রাসেল বিতর্ককে সামাল দেয়ার জন্য এ আন্দোলনে আহবায়ক করা হয় ক্লিন ইমেজের হাসান আল মামুনকে। তবে সরকারের দালাল হিসেবে উল্লেখ করে তাকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছিল। তাই নীতি নির্ধারণী গ্রুপে মামুনকে রাখা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাখা হয় ফারুক, মাহফুজ, আতাউল্লাহ, তারেক ও জসিমকে।

কোটা আন্দোলন সম্পর্কে রাশেদ ও ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদে ও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে অবাক হওয়ার মত চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, আন্দোলনে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী দরিদ্র পরিবারের সন্তান লীমা শিক্ষক পিতার মৃত্যুর পর আর্থিক সহায়তার পেতে ছাত্রী সংস্থায় যুক্ত হন। কিন্তু বিলাসী জীবনের জন্য পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েন। তাকে এ অভিযোগে ইডেন কলেজ কর্তৃপক্ষ শোকজও করেছিল। সিদরাতুল মুনতাহা কাশফি, পারভিন হানা, ফাতিমা তাহসিন, মৌমিতা আলো ও নিশাদ সুলতানা সাকি সহ প্রায় দশ জন ছাত্রী বিলাসবহুল জীবনের লোভে লীমার মাধ্যমে দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোটা আন্দোলনের নামে অনুদান সংগ্রহে পাঠানো হতো নারী সংগঠকদের। ছদ্মনামে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মনোরঞ্জন করা ছাড়াও ফেসবুকে কয়েকটি ফেক আইডি দিয়ে খাটি চটি, বিডি পর্নো, এসো আলোর পথে, কবিতার প্রহর, কে খাবি লাল জাম্বুরা এবং কোটা সংস্কারের পেজসহ কয়েকটি পেইজ ও গ্রুপ পরিচালনা করে। এগুলো ব্যবহার হয়েছে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে। এমন কি কোটা আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ ঘোষণার পরও বিএনপি জামায়াতের ভুয়া পোর্টাল ও ফেসবুক পেজগুলোতে উস্কানিমূলক প্রচারণা চলছে। এর আগেও তাদের সকল কর্মকাণ্ডের সংবাদ বিএনপি জামাতের প্রচার মাধ্যমগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রচার হতো। এমন কি রাশেদের রিমান্ড মঞ্জুরের পর আন্দোলন নিউজ নামে জঙ্গি প্লাটফরমটিতে লাইভ বক্তব্য দিয়ে সারাদেশ অচল করে দেয়ার আহবান জানায় লীমা।

আন্দোলনকারীদের সাথে বিএনপি-জামাতের সম্পর্ক স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা রাখে মৌসুমী মৌ নামে কলগার্ল সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত এক ছাত্রী। মৌসুমীর বাবা যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কর্মচারি হওয়ার সূত্রে তার সাথে বিএনপির সম্পর্ক স্থাপন হয়। বিভিন্ন নেতাদের কাছে নারী সরবরাহ করা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। একই ধরণের অভিযোগ রয়েছে ছাত্র ফেডারেশনের উম্মে হাবিবা বেনজিরের বিরুদ্ধে। ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় যে কয়েকজনকে ইয়াবা সম্রাজ্ঞী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাতে মৌসুমী ও বেনজিরের নাম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধের সাথেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

উম্মে হাবিবা বেনজির বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। সে সময় “ম” অদ্যাক্ষরের তৎকালীন ছাত্রলীগের এক সহ সম্পাদকের সাথে তার পরিণয় ছিল। সম্পর্কের ছয় মাস উক্ত নেতা গণোরিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তার পরিবার চরিত্রহীন ও বহুগামী বলে ভর্ৎসনা করে তার মাসিক খরচ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এই অভিযোগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুলের কাছে গেলে বহু দেনদরবার হয়। পরবর্তিতে বারডেমের চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডা: রেজার তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করে জানা যায় গণোরিয়া সংক্রমিত হয়েছে বেনজিরের কাছ থেকে। বেনজিরের সাথে সম্পর্ক রাখবে না এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিলে নাজমুল সাবেক ছাত্রলীগের এক সভাপতির কাছ থেকে তার চিকিৎসা খরচ জোগাড় করে দেয় এবং পরিবারের সাথে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। এ ঘটনার বেনজির ছাত্র ফেডারেশনের সাথে যুক্ত হয়। কোটা আন্দোলনের মূল ভাগে বেনজিরের সাথে লীমা ও রাশেদদের যোগাযোগ স্থাপিত হয় মৌসুমীর মাধ্যমে।

লীমা, মৌসুমী ও বেনজিরের মত কোটা আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে যুক্ত প্রায় সকল ছাত্রীর বিরুদ্ধেই দেহ ব্যবসা ও ছাত্রী সংস্থার যৌনজেহাদী শাখায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

যৌক্তিক আন্দোলন বলে দাবি করে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে কয়েকজন সংগঠকের বিরুদ্ধে শিবির সম্পৃক্ততা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও সরকার একে নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করে নি। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারী তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু অতি সম্প্রতি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন দিকে যাচ্ছে বলে পরিলক্ষিত হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। বিশেষত কর্মসূচি ঘোষণা করে রাশেদ যে উগ্র বক্তব্য দিয়েছিল তাদের সব মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

কোটা যেহেতু সারা বিশ্বে প্রচলিত একটি বিষয় তাই এর সংস্কারে বিভিন্ন পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা চাইলেই দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে না। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দাবি করে হঠাৎ উগ্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়া, কোটা আন্দোলনকারীদের পরিচালিত ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপে সরকার বিরোধী পোস্ট দেয়ার অভিযোগ প্রথম থেকেই থাকলেও গ্রুপ পরিচালকদের দ্বারা সরাসরি সরকার বিরোধী প্রচারণা শুরু, ছাত্রলীগকে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকি, মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং বিএনপি-জামাতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে শুরু করলে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উঠতে থাকে। এ অবস্থায় সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে মাঠে নামায় আন্দোলনের নেপথ্যের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। গোয়েন্দা সূত্রের কাছে খবর আসে যে, লন্ডনে পলাতক বিএনিপ চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার পরিকল্পনায় নতুন করে কোটা আন্দোলনের শুরু হয়েছে। আর কোটা আন্দোলনকারীদের ব্যবহার করে বড় পরিসরে আন্দোলনের পাঁয়তারা করছে বিএনপি। বিষয়টি নজরে আসার পরই সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার সহনশীল ভাবেই নিয়েছে। কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। কোটা সংস্কারের জন্য কমিটিও হয়েছে। সংসদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়ে অপর একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে। কোটা সংস্কার নিয়ে প্রশাসন যখন আগাচ্ছে তখন আবার কেন আন্দোলন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হঠাৎ করেই আবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিল নির্বাচনের আগে বড় আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। তারা এটাও স্বীকার করেন যে অনেকে এখনো গুজবের শিকার হয়ে সংগঠকদের সুদৃষ্টিতে দেখছে যা তাদের বিপথে পরিচালিত করতে পারে।

জুন 28, 2018

জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রদল নেতাকে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ

ফাইল ফটো

জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রদল নেতাকে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই যুবককে জোরপূর্বক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে হিজড়া সরদার মনিরা ওরফে রত্নার বিরুদ্ধে। সরদার মনিরা জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এবং রত্না কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমস্য।

উল্লেখ্য, হিজড়াদের মধ্যে বিএনপির সমর্থক বেশি থাকায় ২০১২ সালে কাজলী হিজড়াকে চেয়ারপার্সন করে জাতীয়তাবাদী হিজড়া দল গঠিত হয়।

জানা গেছে, ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে যশোরের একটি বাড়িতে নিয়ে জোর করে এ অস্ত্রোপচার করা হলেও গত বুধবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুলতান আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী দুই যুবক হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কেসমত গাজীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২) ও একই উপজেলার ঘোপপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে কাজল হোসেন (২৩)। তারা দুজনই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় হিজড়া নেতা রত্নার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তবে পুলিশের দাবি, কেউ এ ধরনের কোনও অভিযোগ দেয়নি।

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার ছেলের আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক। কালীগঞ্জের হিজড়া সরদার মনিরা প্রায়ই টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আমার ছেলেকে তাদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য চাপ দিতো। ঈদের এক সপ্তাহ আগে রত্না আমার ছেলেকে ফুঁসলিয়ে যশোর নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে নিয়ে অপারেশন করে পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়। এরপর সেই বাড়িতে তাকে আটকে রেখে চিকিৎসা করাতে থাকে। পরে আমরা খবর পেয়ে হিজড়াদের কাছ থেকে উদ্ধার করে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন,‘আমি ও কাজল রাজনৈতিক সভা সমাবেশ আয়োজনের জন্য হিজড়াদের সঙ্গে চলাফেরা করতাম। কিন্তু ঈদের আগে আমাদের কিছু না জানিয়ে হিজড়া সরদার রত্না একটি মাইক্রোবাসে করে যশোরের কোনও একটা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অজ্ঞান করে। পরে আমাদের পুরুষাঙ্গ কাটার পর মাগুরায় নিয়ে যায়। সেখানে নাক ও কান ছিদ্র করে হাতে চুড়ি পরিয়ে দেয়।’

অস্ত্রোপচারের শিকার হওয়া আরেক যুবক কাজলের ভাষ্য, ‘আমাদের না জানিয়ে কৌশলে অজ্ঞান করে এই অপারেশন করা হয়েছে। আমি হিজড়া সরদার রত্নার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুলতান আহমেদ বলেন,‘ভুক্তভোগী দুই যুবককে কমপক্ষে ১০-১২ দিন আগে অপারেশন করে পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া তাদের নাক ও কান ফুটানো হয়েছে। ওই দুই ভুক্তভোগীর অবস্থা খারাপ।’

এ ব্যাপারে হিজড়া সরদার মনিরা ওরফে রত্না বলেন, ‘আমি একজন নেত্রী। আমি এসব কাজে জড়িত নই। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার জন্য এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে এমন সংবাদ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘এ ধরনের কোনও অভিযোগ তার কাছে কেউ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জুন 20, 2018

মুফতি হান্নানের ভাগ্নি কোটা নেত্রী নীলার বাড়িতে হামলার নেপথ্যে

“পুলিশের পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসীরা রাতে নীলাদের বাড়ি গিয়ে কোটা আন্দোলনে না যাওয়ার হুমকি প্রদান করে। তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন চলে এলে তারা নীলাকে মারতে ব্যর্থ হয়। সকালে আবার এসে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিয়েছে।” এমন দাবি করেছেন কোটা আন্দোলনের নেত্রী নীলা।

কোটা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কতিপয় নেতা তাদের ওপর একের পর এক হামলার মিথ্যা দাবি করে আসছে। এবার যোগ হলো কোটা নেত্রী লুৎফুন্নাহারের বাড়িতে হামলার ঘটনা। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, সন্ধায় পুলিশের পরিচয় দিয়ে হুমকি দিলে তারা পুলিশকে জানায় নি কেন? গ্রাম ছাড়া করার মত ক্ষমতা থাকলে চেঁচামেচিতে লোকজন এলে হুমকিদাতারা চলে যাবে কেন? সবচেয়ে বড় কথা গোপালগঞ্জের কার এতটা দায় পড়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী যে বিষয় সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তা নিয়ে একজন ছাত্রীকে হুমকি দিবে? গোপালগঞ্জে বিএনপির কমিটি রয়েছে। কখনো শোনা যায় নি তাদের কোনো নেতার ওপর বিএনপির কর্মসূচির কারণে হামলা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে নীলার বাড়িতে হামলার কোনো সত্যতা পাওয়া যায় নি। এলাকাবাসী কিংবা থানা, কোনো সূত্রেই এ ধরণের কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। অনুসন্ধানে কতিপয় কোটা নেতার মতো তার মিথ্যাচারের প্রমাণই পাওয়া গেল, কিন্তু একই সাথে জানা গেছে চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক অনেক তথ্য।

লুৎফুন্নাহার বা নীলা নামে পরিচিত এই কোটা নেত্রী আলোচিত জঙ্গি মুফতি হান্নানের ভাগ্নি। মুফতি হান্নান তার নাম রেখেছিল নীরু। পাঁচ বছর আগে পিতার মৃত্যুর পর থেকে উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাত্রা শুরু করে। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান নীলা গোপালগঞ্জের নাম ব্যবহার করে যথাসম্ভব সুবিধা আদায় করলেও শিবিরের অনলাইন কর্মী রাশেদ, তারেক ও মশিউর প্রমুখের সাথে পরিচয়ের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রী সংস্থার সাথে যুক্ত হয়। ছাত্রী সংস্থার যে পেজ শেয়ার করা নিয়ে রাশেদের ব্যাপারে প্রথম বিতর্ক উঠেছিল তার অন্যতম এডমিন নীলা। সেই সময় ছাত্রী সংস্থার গ্রেফতারকৃত সদস্যদের একজন ছিল লুৎফুন্নাহার নীলা।

ইতিপূর্বে রাশেদ-নূরকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে মিথ্যাচার করা হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারী ও সমকামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত সুহেলকে প্রহার করায় ঠোঁটে ১১টি সেলাই পড়েছে বলে দাবি করলেও দুদিন পরই তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। মাদক ব্যবসার লেনদেন নিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক কোটা নেতা জসীম উদ্দিনের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে গেলেও সেটিকে কোটা আন্দোলনের কারণে হামলা বলে দাবি করা হয়েছিল।

জানা যায়, শিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারে কমিশন ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রী জোগাড় করা ছাড়াও চাকুরীর আপীল, পরীক্ষার সাজেশন, প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ বিভিন্ন বাহানায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত এ প্রতারকচক্রটি। এদের অন্যতম সদস্য মাদকাসক্ত তারেক রহমান টাকার জন্য সব করতে পারে বলে প্রচলিত রয়েছে। রাতুল সরকার, মশিউর ও জসিম ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এছাড়া আতাউল্লাহ, হাবীবুল্লাহ, মোল্লা ইয়ামিন ও মাহফুজ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে জড়িত। আতাউল্লাহর ভাই ব্রাহ্মনবাড়িয়া শিবিরের সভাপতি ও নাশকতা মামলার আসামী।

বেগম সুফিয়া কামাল হলে রগ কাটার গুজব ছড়াতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল নীলার নেতৃত্বে ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের কারণে সহপাঠি ছাত্রীরা নীলাকে এড়িয়ে চলতো বলে রাশেদ, নুরু গ্রুপের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। কোটা আন্দোলনে গোপালগঞ্জের জেলা বিএনপির নেতা সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা গ্রহণ করে নীলা। এছাড়া কোটা আন্দোলনের পোস্টার, ইফতার পার্টি ও ঈদের জামা কেনার জন্য, পরবর্তি আন্দোলন ইত্যাদি উপলক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে টাকা তুলতে সবচেয়ে অগ্রগামী নীলা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নীলার বই প্রকাশের ইচ্ছা বহুদিনের। গার্ডিয়ান প্রকাশনি নামে একটি প্রকাশনী তাকে বই প্রকাশের আশ্বাস দিলেও কোটা আন্দোলন নিস্তেজ হয়ে আসায় তাকে নিজ খরচে বই প্রকাশের কথা বলা হয়। জানা গেছে, এফ ই শরফুজ্জামান নামে ঢাকায় বসবাসরত গোপালগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কোটা আন্দোলনের নামে গৃহীত আট লক্ষ টাকা দিয়ে সেই বই প্রকাশ করা হবে। আর লেখক হিসেবে আলোচিত হওয়ার জন্যই বর্তমানে হামলার ঘটনা সাজানো হয়েছে।

রাতুলের মতো অর্ধশিক্ষিত কিংবা রাশেদ, নুরুর মত পড়ালেখা লাটে ওঠা অর্থলোভী প্রতারক চক্রটি মূলত কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আলোচনায় এসেছে। কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীর সমাবেশকে ৭১ এর পর সর্ববৃহৎ সমাবেশ বলে দাবি করা কত হাস্যকর তা বোঝার মত বিবেক বা প্রজ্ঞা পর্যন্ত তাদের নেই। যাদের প্রিলিমিনারী পাশ করার মতো যোগ্যতা নেই তারা যখন মেধাবীদের অধিকারের নামে মায়াকান্না করে তখন তাদের উদ্দেশ্য যে অসৎ তা বুঝতে কারো সমস্যা হয় না। সবচেয়ে বড় কথা জামাত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত কোটা নেতাদের প্রায় সকলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী, মাদক সেবন, সমকামিতা, মাদক ব্যবসা ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রতিবারই তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে প্রখ্যাত শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষ এবং আসিফ নজরুলের মত বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতি তাদের সহানুভূতি এবং নানা বাহানায় মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার মাধ্যমে তাদের পরিচিতি প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে। কিছুদিন পর পর হামলার মিথ্যা দাবি করে যে ভাবমূর্তি সৃষ্টি করেছে তাতে প্রকৃতই যদি তাদের উপর হামলা হয় তখন হয়তো কেউ বিশ্বাস করবে না।

জুন 2, 2018

একরাম কি চক্রান্তের শিকার? মাদক সম্রাজ্ঞী খ্যাত ছোট আম্মা কে?

বিশেষ প্রতিবেদন: সম্প্রতি কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম। নিহত হওয়ার পর থেকে, বিশেষত একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ পত্রপত্রিকায় নানামুখী আলোচনা চলছে। এর মাঝে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

২০১৪ সালে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির তালাশ-এ প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দরিদ্র হিসেবে আলোচিত কাউন্সিলর একরামের সম্পদের যে বিবরণ পাওয়া যায় তা হচ্ছে: টেকনাফে একটি বাড়ি ও একটি নির্মাণাধীন বাড়ি। চট্টগ্রামে একটি বাড়ি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ৩০০০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি ও হোন্ডা। কিছুদিন পর পর হোন্ডার মডেল পরিবর্তন করা ছিল তার অন্যতম শখ। ২০১০ থেকে গত মাস পর্যন্ত যতবার দেশের মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য প্রচারিত হয়েছে তার প্রায় সবগুলোতেই ছিল একরামের নাম।

২০১০ সালে নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত আয়ব্যয়ের বিবরণীতে একরামের আয় দেখানো হয়েছিল মাসে ১৬ হাজার টাকা, নগদ জমা ৩৩ হাজার টাকা। ২০১৭ সালে মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে তিন লক্ষ টাকা। আয়কর বিবরণী অনুসারে টেকনাফ শাখার ইসলামী ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭ কোটি টাকা ও দুই মেয়ের নামে চার কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। এছাড়াও জমি ও সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। আয়ের উৎস দেখানো হয়েছে জমি বিক্রি ও পরিবহন ব্যবসা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে কোন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে এত দ্রুত তিনি কোটিপতি বনে গেলেন! বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উৎস শুধুই ইয়াবা।

গত মাসে একরামের ১৬ লাখ ইয়াবার চালান নিয়ে টেকনাফ জুড়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় যা কালের কণ্ঠসহ বেশ কয়েকটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশে দশ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ একরামের জন্য অর্থ উপার্জনের খাত হিসেবে দেখা দেয়। রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার, তিনটি স্পটে রোহিঙ্গা নারীদের দিয়ে ইয়াবার আসর বসানো ছাড়াও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানো ও আদম ব্যবসার কমিশন এজেন্ট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। মাদক ব্যবসা ছাড়াও রোহিঙ্গা বান্ধব হিসেবে সরকারের কালো তালিকাভুক্ত ৫১ জনের সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন একরাম। এ সিন্ডিকেটের সাথে তিনটি উগ্রপন্থি সংগঠন ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমঝোতা ছিল। কথিত আছে যে, টেকনাফ কেন্দ্রিক এই সিন্ডিকেটকে আস্থায় নিয়েই মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করেছিল এবং বিনিময়ে মায়ানমার সীমান্তে অবাধে ইয়াবা চালানের টোকেন প্রদান করে।

একরামুল হক ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাহেদুর রহমান নিপু ও মোহাম্মদ ফয়সালের সবচেয়ে আস্থাভাজন ব্যক্তি। উল্লেখ্য নিপু স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদির ছেলে এবং ফয়সাল এজহার কোম্পানির ছেলে তথা সাংসদ বদির ভাই। প্রতিদ্বন্দ্বি ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং মাদক বিরোধী কার্যক্রম রুখে দিতে বদির অন্যতম প্রধান পেশীশক্তি ছিল একরাম বাহিনী। তাদের হাত ধরে ২০০৭ সালে পুরোদমে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের তালিকায় উঠে আসে একরামের নাম।

ইয়াবা ব্যবসায় একরামের মূল ভূমিকা ছিল মধ্যস্থাতাকারী হিসেবে। ক্রমে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয় একরাম। ইয়াবা ছাড়াও চোরাচালানের মাধ্যমে মায়ানমার থেকে আনা বিয়ার, মদসহ বিভিন্ন পণ্য সারাদেশে পৌঁছে দিতে তার নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে করে। ২০১৫ সালে ইয়াবা গডফাদার মং মং সেন নিহত হওয়ার পর হুন্ডি ব্যবসা শুরু করে। এছাড়া চুক্তিতে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দেয়ার কাজে পারদর্শি ছিলেন একরাম। একরামের অনুগত পাঁচ জন কর্তৃক পরিচালিত একরাম বাহিনী। ট্রাকের হেলপার থেকে চারটি ট্রাকের মালিক হওয়া মো: ইসমাইল, পিতা: জসিম উদ্দিন তার অন্যতম প্রধান সহযোগি। এছাড়া কেকেপাড়ার মো: শফিক, পিতা আবদুল হক, মো: সাব্বির আহমেদ সাবু, পিতা মিয়া হোসেন, মো: শওকত, পিতা লোকমান হাকিম এবং সৈয়দ আলম একরামের প্রধান সহযোগী।

একরামের পরামর্শদাতা হিসেবে স্ত্রী আয়েশা বেগমের ভাই নজরুল ও কক্সবাজারের পৌর মেয়র মাহবুবের নাম জানা যায়।

একরামের জনপ্রিয়তা ছিল এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ জনপ্রিয়তা সাংসদ বদিরও রয়েছে কিন্তু তারমানে এই নয় যে সে নিরপরাধ। তবে এ মুহূর্তে যে বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত তা হচ্ছে মাদক সম্রাজ্ঞী খ্যাত ছোট আম্মা রহস্য। জানা যায়, আয়েশা বেগম নামে দুজন মহিলা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আলোচিত। এ দুজনকে নিয়ে রয়েছে রহস্যও কারণ বোরখায় ঢাকা দুই নারী মুখ দেখান না। একজন আয়েশা বেগমকে বড় আম্মা এবং অপরজনকে ছোট আম্মা বলে কোড নামে ডাকা হয়। তাদের নামে বড় বড় চালান পার হয়ে যায় কিন্তু কেউ জানে না এদুজনের পেছনে কারা সহায়ক ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধেও কেউ দাঁড়ায় নি। একরাম ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণে প্রশ্ন উঠেছে একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগমই কি ছোট আম্মা?

আকরামের স্ত্রীর মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে কারণ একরামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সূত্রে জানা যায়, নিহত হওয়ার দিন দুপুরে একরামের অনুগত পাঁচ সহযোগীর চারজনকে বিশেষ কাজে টেকনাফ থেকে অন্য কোথাও পাঠিয়েছে আয়েশা। একরামের মৃত্যুর একদিন পরই আয়েশা কয়েকজনকে একরামে পাওনা টাকা পরিশোধের অনুরোধ করছেন। টেকনাফ ও কক্সবাজারের মেয়র এ বিষয়ের মধ্যস্থতা করছে। আয়েশা বেগমই যদি সেই আলোচিত রহস্যময়ী ছোট মা হয়ে থাকেন তাহলে একরামের মাদক সাম্রাজ্য অটুট রয়েছে বলা যায়। গুঞ্জন চলছে যে, একরামকে গুলি করার অডিওটি পরিকল্পিতভাবেই মায়ানমারে ধারণ করা হয়েছে যা সম্পর্কে আয়েশা অবগত ছিলেন। ফোনে বলতে শোনা যায় একরাম টিএনওর কাছে যাচ্ছে। কিন্তু একরাম টিএনও অফিসে গিয়েছিলেন নিহত হওয়ার দিন দুপুরে। আরকটি সূত্র জানা যায়, একরামকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য র‍্যাব অফিসে ডাকা হলে তাকে হত্যা করা হবে এমন ধারণা থেকে ক্রসফায়ারের অডিও রেকর্ড করা হয়। পরিকল্পনা ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসৌজন্যমূলক আচরণ করলে গুলি করে মায়ানমারে পালিয়ে যাবে এবং গুম করা হয়েছে বলে দাবি করে অডিও রেকর্ড প্রকাশ করা হবে। এটি প্রকাশের পর মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধ হবে বলে আশা করেছে অনেকে। মূলত এটাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। এর আগে মোস্তাক নামে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী র‍্যাবের অভিযানের মাঝে সশস্ত্র হামলা করে মায়ানমারে পালিয়ে যায় এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে। কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে অসংখ্য। ধারণা করা হচ্ছে একরাম পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় নি। কিন্তু অভিযান বন্ধের লক্ষ্যই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার অডিও প্রচার করা হয়। একরামের মোবাইলের কথোপকথন উদ্ধার হলে হয়তো রহস্য জানা যাবে।

এদেশের ৭০ লাখ মাদকসেবীর বেশিরভাগ ইয়াবায় আসক্ত। তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ইয়াবার কারণে। পুলিশ গ্রেফতার করলেও আইনের ফাঁকে বেরিয়ে আসছে খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরাঅ একরামের মতো গড ফাদারদের ধরা যায় না কারণ তারা ক্যারিয়ার না বলে তথ্য প্রমাণ পেশ করা যায় না। এভাবে দিনে দিনে ১০০ ইয়াবার চালান পরিণত হয়েছে লাখে। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চক্রান্তের কারণে যদি মাদক অভিযান পরিচালনা বন্ধ হয় তার মূল্য দিতে হবে গোটা জাতিকে।

মে 27, 2018

“বদল আল এয়ানত” : মওদুদী জামাতের বিকৃত যৌনাচারের রাজনৈতিক ফতোয়া

আবদুল্লাহ আরাবী:  জামায়াতে ইসলামীতে সদস্যদের মাসিক চাঁদাকে এয়ানত বলা হয়। কিন্তু জামায়াতের কোনো সদস্যের যদি মৃত্যু হয় কিংবা কারাদণ্ড হয় বা সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাখা সেই পরিবারের ভরণপোষণ করে। শাখা আমীর বা আমীরের অনুমতিতে অন্য কোনো সদস্য এ দায়িত্ব পালন করতে পারে। এটুকুতে সীমাব্ধ থাকলে আপত্তির পরিবর্তে প্রশংসিত হতো। কিন্তু সাহায্যকারী/দায়িত্বগ্রহণকারী নেতা অনুপুস্থিত বা সাংসারিক ব্যয়ভার বহনে অক্ষম নেতা বা কর্মীর স্ত্রীকে ভোগ করবে, উপরন্তু তার গর্ভে অন্তত একজন সন্তানের জন্ম দিবে এ উদ্ভট ফতোয়ার নাম দেয়া হয়েছে “বদল আল এয়ানত”। এটি জাহেলি যুগে প্রচলিত ছিল।

মওদুদী তার অনুসারীদের বহু সন্তান জন্ম দিতে অনুপ্রাণিত করতো একথা সকলেই অবগত। তার উদ্দেশ্য ছিল সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নিজ দলের ক্রমবিকাশ। দলীয় কার্যক্রম শুরুর পরই মওদুদীকে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে মাওলানা আমীন আহসান ইসলাহী, ড. ইসরার আহমেদসহ ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান আছে এমন ব্যক্তিগণ দল ত্যাগ করে। তাঁরা মওদুদী ও জামায়াত সম্পর্কে শরীয়তগত সমালোচনা করেন। বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী-ই পৃথিবীতে একমাত্র সংগঠন যার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকসহ প্রতিষ্ঠাকালীন সকল সদস্যই পরবর্তীতে উক্ত সংগঠন ত্যাগ করেছিলেন।

মূলত “বদল আল এয়ানত”কে কেন্দ্র করে সর্বশেষ দল ত্যাগ করেন মাওলানা মনজুর নোমানি। তিনি যখন আশির দশকে মওদুদীর বিকৃত যৌনাচার প্রথা বদল আল ইয়ানত সম্পর্কে মুখ খোলে তখন পাকিস্তান ছাড়াও মিশর ও তুরস্কেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক জান্তা জিয়াউল হকের সরাসরি হস্তক্ষেপে নোমানি রচিত “মাওলানা মওদুদীর সাথে সাহচর্যের ইতিবৃত্ত” গ্রন্থের সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। মানহানি মামলা, রাষ্ট্র কর্তৃক হুমকি এবং জামায়াতের দলীয় নেতারা এ নিয়ে মুখ না খোলায় তার করার কিছু ছিল না। তাই পাকিস্তান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রশমন করে সে যাত্রায় জামায়াতে ইসলামী রক্ষা পায়।

বদল আল এয়ানতের নেপথ্যে মার্গারেট মাসকাস নামে এক নারীর ভূমিকা রয়েছে। সেই মহিলা যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকজন শেতাঙ্গ কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার পর ১৯৫৭ থেকে ৫৯ সাল পর্যন্ত মানসিক চিকিৎসাধীন ছিলেন। সিআইএর আমন্ত্রণে মওদুদী যুক্তরাষ্ট্র গমন করলে মার্গারেটের সাথে মওদুদীর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সে পাকিস্তানে চলে আসে এবং ইসলাম গ্রহণ করে মরিয়ম জামিলা নাম ধারণ করে মওদুদীর বাসায় বসবাস শুরু করে। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ এবং নানামুখী সমালোচনার কারণে মওদুদীর ছাপাখানার কর্মচারী মোহাম্মদ ইউসুফ খানের সাথে বিবাহ দেয়া হয়। মরিয়ম জমিলা ইসলাম কায়েমে সশস্ত্র সংগ্রাম নিয়ে কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছে। জামিলাকে বিবাহ করার কারণে ছাপাখানার কর্মচারী ইউসুফ জামাতে ইসলামীর অন্যতম নেতায় পরিণত হয়। ধারণা করা হয় মরিয়ম জামিলাকে ভোগ করা শরীয়তসম্মত করতেই বদল আল এয়ানত ধারণার সূত্রপাত এবং ইউসুফ-জামিলার পাঁচ সন্তানের মধ্যে একজনের চেহারা হুবহু ফারুক মওদুদীর মতো।

সুন্নী মতাদর্শের সকল দলই যার বিরোধী সেটি হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। ওলামায়ে দেওবন্দ, কওমী ও সুফিবাদী সকলেই মওদুদীকে কাফের ফতোয়া দিয়েছে। মওদুদী জামাতকে খারেজি ও পথভ্রষ্ট বলে ফতোয়া দিয়েছে নাসিরউদ্দিন আলবানিসহ আহলে হাদিস বা সালাফি আলেম-ওলামাগণ। অনেকে বলেন, জামাত হচ্ছে শিয়া মতাদর্শের একটি শাখা যারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দার জন্য সুন্নী বলে পরিচয় দেয়। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে কোনো সুন্নি আলেম-ওলামা শিয়াদের রেফারেন্স ব্যবহার না করলেও মওদুদী তাদেরকে অনুসরণীয় হিসেবে গণ্য করে। তার লেখা তাফহীমুল কোরআন ব্যাখ্যায় ব্যবহার করা হয়েছে বাইবেলের সূত্র। অথচ সকল আলেমরা একমত যে বাইবেল মূল ফর্মে নেই।

প্রকৃতপক্ষে জামায়াতে ইসলামী একটি নতুন ধর্ম যার সৃষ্টি করেছে সিআইএ ও মোসাদ। ১৪শ বছরে যে ব্যাখ্যা কোন আলেম দেননি, যে মতবাদের সাথে ইসলামের মিল রয়েছে শুধু নামমাত্র, যে মতবাদে হুকুমতে ইলাহি ভাবধারায় ইসলামের মূল ভিত্তিকে যে পরিবর্তন করে দিয়েছে, যার মতে নামাজ, রোজা ট্রেনিংমাত্র মূল লক্ষ ক্ষমতা দখল, সেটি নতুন ধর্ম ছাড়া আর কিছুই হতে পারে নি। এ কারণেই যা কোরআন হাদিসের আলোচনা বলে পরিচিত হওয়ার কথা তাকে বলা হয়েছে মওদুদী সাহিত্য। এছাড়া মওদুদী সকল নবী-রাসুল ও সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা করেছে তার মূল লক্ষ্য ছিল সকলকে দোষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে নিজেকে মূল ব্যক্তিতে পরিণত করা। অবশ্য এক্ষেত্রে জামাত সফল কারণ জামাত-শিবির শুধু মওদুদীকেই নয়, তাদের নেতাদেরও নিস্পাপ বলে গণ্য করে। পীরবাদের সমালোচনা করলেও তারা সম্পূর্ণভাবে মওদুদী কেন্দ্রিক। এমন কি রাসুলের বিরুদ্ধে লেখার সমালোচনা করা হলে জামাতের পক্ষ থেকে যুক্তি দেয়া হয় ওমুক আলেম এই কথা বলেছে।

জামায়াতে ইসলামী নিজেদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধী বলে দাবি করে। অথচ মওদুদীর গোলাম আহমেদ কাদিয়ানির পর মওদুদী একমাত্র ব্যক্তি যার বই নিয়ে রকফেলার ফাউন্ডেশনসহ ইসরাইলি লবির দুটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করে। মওদুদী যদি ইসলামের কথা বলতো তাহলে গবেষণা হওয়ার কথা কোরআন-হাদিস নিয়ে, মওদুদী নিয়ে নয়। তাদের সুপারিশেই আলেম ওলামাদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও সৌদি আরব থেকে পুরস্কার পেয়েছিল। অবশ্য পরবর্তিতে মওদুদী জামাতের মুখোশ উন্মোচন করে বিভিন্ন অডিও-ভিডিও ও বই প্রকাশ করে তার প্রায়শ্চিত্ত করে সৌদি আরব।

মওদুদীর বই মদিনায় পড়ানো হয় বলে প্রচার করা হয়, অথচ তার বই শুধুমাত্র ইরানে পড়ানো হয় এবং তার কারণ খোলাফায়ে রাশেদিনের সমালোচনা করা। মওদুদীর গায়েবী জানাজা সৌদি আরবে পড়ানো হয়েছে বলে প্রচার করা হয় অথচ তার লাশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানে আসার পর জানাজা হয়েছিল। এছাড়া যে গায়েবী জানাজার কথা বলা হয় সেটি বিদাত এবং শরীয়ত বিরোধী বলে সর্বসম্মত রায় রয়েছে। এভাবে সম্পূর্ণ মিথ্যার উপর মওদুদীকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

“বদল আল এয়ানত” নামে যে জাহেলি পদ্ধতি মওদুদী উদ্ভাবন করেছে তা নিয়ে বেশকিছু লেখা প্রকাশ হলেও জামাতের সদস্যরা মৌন থাকায় এ নিয়ে কেউ সরব হয়নি। মূলত জামাতের নীতি নির্ধারণী মহল এ সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। ধনী নেতারা অধীনস্তদের স্ত্রী-কন্যাকে ভোগ করার লোভে, আবার অবস্থার শিকার হওয়া নেতাকর্মীরা মানসম্মানের ভয়ে মুখ খুলে না। বাংলাদেশে বদল আল এয়ানতের নামে কোন নেতা কোথায় কোথায় সন্তান জন্ম দিয়েছে তা উদ্ঘাটন করা কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও এটি সময়ের প্রয়োজনে সুস্থ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অতীব প্রয়োজন।

[চলবে]

লেখক: আবদুল্লাহ আরাবী, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ফিকহ ও রিজাল শাস্ত্র বিশেষজ্ঞ। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইসলামিক ল থেকে উচ্চশিক্ষা সমাপ্তির পর বর্তমানে তিনি জেনারেল প্রেসিডেন্সি অফ স্কলারলি রিসার্চ এন্ড ইফটা এর বাংলা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।