রাজধানীর মসজিদে জুতা চুরিতে সক্রিয় শিবিরের মাদকাসক্তরা

মিরপুরের একটি মেস থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক জুতাসহ দুই শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিরপুর ৬ নং সেকশনের একটি মসজিদ থেকে জুতা চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় মসজিদ সংলগ্ন চায়ের দোকানের এক কর্মচারি জুতা চোরদের পিছু নেয়। তাদের ঠিকানা জেনে থানায় অবহিত করলে পুলিশ শিবিরকর্মি আবদুল কাদের ও আইজুদ্দিনকে গ্রেফতার করে। মেস থেকে পাঁচ শতাধিক জুতা ছাড়াও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বই উদ্ধার করে।

কাদের ও আইজুদ্দিন মিরপুর বাংলা কলেজ ছাত্র শিবিরের সদস্য। নেশার টাকা যোগাড় করতে তারা জুতা চুরির সাথে জড়িয়েছে বলে স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে এই দুই শিবিরকর্মি।।

জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন মসজিদে জুতা চুরির ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মিরা জামায়াত থেকে নিয়মিত টাকা পেলেও গত এক বছর যাবত সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে আছে ছাত্রশিবির। বর্তমানে টাকার জন্য অনেকে মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়েছে আবার অনেকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দ্বারস্থ হয়ে গাড়ি পোড়ানো ও বোমাবাজিতে জড়িত হয়েছে। অনেকে ছিনতাই ও চুরি ডাকাতিতেও জড়িত হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত দুই শিবিরকর্মি জানিয়েছে ঢাকায় শিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। মূলত মাগরিব এবং এশার নামাজের সময় বিভিন্ন মসজিদে ওত পেতে থাকে চুরির জন্য, তবে শুক্রবারে সবচেয়ে বেশি জুতা চুরি করতে পারে। তারা আরও জানায়, চুরিকৃত জুতা হাজারিবাগের কয়েকটি দোকানে বিক্রি করা হত, নতুন জুতা হলে এলিফ্যান্ট রোডের ২টি শো রুমে বিক্রয় করা হত।

এসআই রায়হান জানান শিবিরের এই জুতা চুরির সিন্ডিকেটকে গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রামেও শিবিরের জুতা চুরির সিন্ডিকেট

বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও জামাত-শিবিরের জুতা চোর চক্রের রয়েছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রয়েছে বিশাল আকারের একটি সিন্ডিকেট। শিবিরের দুজন কেন্দ্রীয় নেতা এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে।

সপ্তাহের শুক্রবারকে সামনে রেখে আগেই থেকেই প্রস্ততি নিয়ে রাখে নিজেদের। এলাকাভিত্তিক তারা এ চুরির ঘটনা ঘটায়। মুসল্লিদের সাথে তারাও  নামাজে শরিক হয়। মোনাজাত করার আগে তারা বেরিয়ে পড়ে।

নগরীতে ছোট বড় মিলে কমপক্ষে তিনশ’র বেশী মসজিদ রয়েছে। প্রতি শুক্রবার এসব মসজিদের এমন একটি দিন নেই যে চুরির ঘটনা ঘটছে না।

নগরীর নিউ মার্কেট, জলসা মার্কেট,আমতল রাইফেল ক্লাব, আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের পূর্ব গেইট সংলগ্ন সড়কে, চকবাজার শাহেন শাহ মার্কেট, লালচান রোডে চকবাজার থানার সামনে, মুরাদপুর ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ষোল শহর ২ নং গেইট শেখ ফরিদ মার্কেট সংলগ্ন উত্তর পার্শ্বে, জিউসি মোড়ে স্ট্যার্ডাড চার্টাড ব্যাংক এর সামনে, আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ রোড বটগাছের নীচে সন্ধ্যা গড়ালে এসব চুরি হয়ে যাওয়া জুতো বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বর্তমানে শিবিরের এ চক্রের সাথে ছাত্রীসংস্থার কয়েকজন মহিলাও দেখা গেছে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, এটিও একটি অপরাধের তালিকায় পড়ে। শিবিরের একটি চক্র সক্রিয় আছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর আছি আমরা।

One Comment to “রাজধানীর মসজিদে জুতা চুরিতে সক্রিয় শিবিরের মাদকাসক্তরা”

  1. এই বাংলায় আরও কত নমুনা দেখমু

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: