ফেব্রুয়ারি 28, 2018

প্রেমে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে কুপিয়েছে শিবির ক্যাডার


প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করেছে শিবির ক্যাডার জাহিদুল ইসলাম। সোমবার কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

মহেশখালীর কালারমারছড়া আর্দশ দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ও ফকিরজুম পাড়ার মোহাম্মদ হোছাইন-এর মেয়ে নাহিদা আক্তার (১৬) প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হোয়ানক পুর্ব হরিয়ারছড়া এলাকার জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান হাকিমের ছেলে শিবির ক্যাডার জাহেদুল ইসলাম গত শনিবার বিকালে নাহিদার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশ চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে।

গুরতর আহত নাহিদাকে প্রথমে মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এই ঘটনায় নাহিদার বাবা বাদী হয়ে শিবির ক্যাডার জাহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করে। নাহিদার মুখে, মাথায়, বুকে, পেটে ও হাতে চাপাতির অসংখ্য আঘাত রয়েছে। নাহিদা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ফেব্রুয়ারি 25, 2018

টাঙ্গাইলে মন্দিরে অগ্নিসংযোগের গুজব: নেপথ্যে কারা?

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২টি কালী মন্দিরে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করেছে এই মর্মে দুটি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা জানা যায় নি। তাই গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা ও হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মন্দিরে হামলার ঘটনাটি ডেইলি স্টার ছাড়া অন্য কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। এমন কি টাঙ্গাইলের কোন স্থানীয় পত্রিকাতেও এমন কোন সংবাদ পাওয়া যায় নি। গত ৪ ফেব্রুয়ারিও একই ধরণের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল যার কোন সত‍্যতা পাওয়া যায় নি।

পুলিশ ও এলাকবাসী সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর রাতে টাঙ্গাইলের বেকড়া উপজেলার আটগ্রাম ইউনিয়নের বেকড়া সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে এবং ধুবড়িয়া ইউনিয়নের চকগদাধর কালী মন্দিরে দুবৃর্ত্তরা আগুন বলে গুজব রটনা করা হয়। তবে মন্দির দুটি পরিদর্শনে এমন কোন আলামত পরিলক্ষিত হয় নি।

স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সব কয়টি মন্দিরে পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
নাগরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান হাসান মোস্তফা জানান, প্রতিটি পুজা মন্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুলিশি তৎপড়তা বাড়ানো হয়েছে।

টাঙ্গাইলে গুজব সৃষ্টি করে অন‍্যান‍্য এলাকায় এ জাতীয় হামলা চালানোর উস্কানি দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে কিনা তা নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েছে।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা টাঙ্গাইলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে প্রশাসনসহ সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি 19, 2018

বাসে বায়ুত্যাগ, বিদঘুটে গন্ধে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগদান পণ্ড!


লালমনিরহাট, অপরাধ কণ্ঠ : মানুষ সাধারণত গোপনীয়তা বজায় রেখেই বায়ুত্যাগ করে। কেউ লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে কাজটি সেরে ফেলেন। তবে নিঃশব্দে বায়ু ত্যাগের ফলে যদি বিদঘুটে গন্ধ সৃষ্টি হয় তাহলে অস্বস্থিতে পড়েন সকলেই। গতকাল লালমনিরহাটে এসি বাসে এক ব্যক্তির বায়ুত্যাগে পরিবেশ ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লালমনিরহাটের আশেপাশের এলাকা থেকে নেতাকর্মীদের সমবেত করতে জেলা সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু কয়েকটি বাস ভাড়া করেছিলেন। জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে বাস যোগে সমাবেশে যোগ দেয়ার সময় একজন নিঃশব্দে বায়ুত্যাগ করেন। নাজুক পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা বায়ু ত্যাগকারীকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন। এ সময় ছাত্রদল নেতা কুদরত-ই-মেহেরবান যুবদল নেতা আবুল কালাম বিপ্লবকে দোষারোপ করলে সন্দেহভাজনকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিপ্লবকে নামানো হলেও বুড়িমারী মহাসড়কে ওঠার পর তৃতীয়বার বায়ু ত্যাগ করা হলে বিদঘুটে গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা।

পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠলে বিএনপি নেতা ফারহান উদ্দিন পাশা বায়ু ত্যাগের জন্য ইকবাল আযম নামে অপর নেতাকে দায়ী করেন। এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বাক-বিতণ্ডা শুরু হয় এবং অনেকে বাস থেকে নেমে যেতে শুরু করেন। অবশেষে সমাবেশে যোগদান বাতিল হয়।

ফেব্রুয়ারি 12, 2018

বিআইডব্লিউটিএ’তে চলছে সিবিএ নেতাদের ত্রাসের রাজত্ব

 

বিআইডব্লিউটিএ’তে সিবিএ নেতাদের ত্রাসের রাজত্ব চলছে। সাধারণ কর্মচারী/কর্মকর্তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তে শ্রম আইন অনুযায়ী ৩ টি ট্রেড ইউনিয়নের বেশি ট্রেড ইউনিয়ন করার আইন না থাকলেও বিদ্যমান আইন না মেনে বেআইনীভাবে (শ্রম আইনানুযায়ী পূর্বের ইউনিয়ন হতে লিখিত পদত্যাগ দাখিল না করেই পূর্ববর্তী ইউনিয়নের সদস্যদের দিয়ে জোরপূর্বক ডি ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে) সম্প্রতি (২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে) বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নামে চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠিত হয়। যার রেজিস্ট্রশ নং-বি-২১৭৬, এরপর ইউনিয়নটি জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত হয়।

ইউনিয়ন গঠনের দুইমাস পরে (এপ্রিল মাসে) সিবিএ নির্বাচন চেয়ে ইউনিয়নের পক্ষে শ্রম দপ্তরে আবেদন করা হয়। এসময় একই ব্যক্তি বর্তমান ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি পদে থেকেও পূর্বের ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিবিএ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেনা মর্মে পত্র দেয়, যার ফলে বর্তমান ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-বি-২১৭৬ কে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিবিএ হিসেবে ঘোষণা করে শ্রম দপ্তর।এই সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১৯৯১ সালে অনুরূপ ভাবে গঠিত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-বি-১৯২৮) যা জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তিনি উক্ত ইউনিয়নটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি সিবিএ’র সাধাররণ সম্পাদক হবার পরে দৈনিক যুগান্তরসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদের শিরোণাম হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন।

সাধারন সম্পাদক হবার পরই তিনি নিরীহ কর্মচারীদের জিম্মি করে টেবিল বানিজ্য, বদলী বানিজ্য এবং শাখা কমিটি গঠনের নামে প্রায় কোটি টাকার বানিজ্য করেন। তার নির্যাতন থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরাও ছাড় পাচ্ছেননা। নব গঠিত এ সিবিএ’র বয়স মাত্র ১ বছর হলেও জিএস রফিকুল ইসলাম গাড়ি কিনেছেন ৩ টি, সর্বশেষ কিনেছেন ৩৬ লক্ষ টাকা দামের নোয়া গাড়ী, বিআইডব্লিউটিএ’র জায়গা বেআইনীভাবে নিজের ছেলের নামে ডক ইয়ার্ডের কথা বলে নাম মাত্র মূল্যে লীজ নেওয়াসহ, আরিচায় বেশ কিছু জমির মালিক বনে গেছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী ইউনিয়নের নেতাদের বদলী করা না গেলেও তিনি গায়ের জোরে বদলী করেছেন। তার কথা না শুনলেই তিনি পরিষদের নেতাদের বহিষ্কার করেন।

কেন্দ্রীয় পরিষদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, দপ্তর ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ শাখার যুগ্ম আহবায়ক’কে অগঠনতান্ত্রিক এবং বেআইনীভাবে বহিষ্কার করেন। দপ্তর ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে অবৈধভাবে বহিষ্কার করলে তিনি বিজ্ঞ শ্রম আদালতে বহিষ্কার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত বহিষ্কার আদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন, শ্রম আদালতের মামলা নং-বিএলআর ৫৮৪/২০১৭।পূর্ববর্তী ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের নামে জমা থাকা টাকা বর্তমান ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের নামে জমা হবার পর সাধারণ সম্পাদক উক্ত (দশ লক্ষ) টাকা উত্তোলন করতে বললে তহবিলের সদস্য সচিব দিতে অস্বীকার করলে তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে তাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ইতোমধ্যে কল্যাণ তহবিল হতে কিছু টাকা উত্তোলিতও হয়েছে। এ ব্যাপারে মতিঝিল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে, যার নং-২২৪১, তারিখ-৩০-০৪-২০১৭।

শ্রম আইন অনুযায়ী কোন ইউনিয়ন বা সিবিএ অফিসের কোন নিয়োগে হস্তক্ষেপ বা চাপ প্রয়োগ করতে পারবেনা বললেও তিনি ইউনিয়নের প্যাডে নিয়োগ প্রদানের জন্য তালিকা দিয়ে থাকেন এবং প্রতিটা নিয়োগে লাখ লাখ টাকার বানিজ্য করেন। গত ১৭-০৭-২০১৭ অফিস চলাকালীন সময়ে অপর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সনজীব কুমার দাস’কে সিবিএ’র সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে বেদম মারপিট করা হয়। এব্যাপারে সিএমএম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার নং- সিআর ১৫৯৭/২০১৭, তারিখঃ ২৩-০৭-২০১৭। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আপনাদের অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদনে এ ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ভুক্তভোগী কর্মচারীরা রেহাই পাবে।

ফেব্রুয়ারি 12, 2018

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন খালেদা জিয়া

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পর এবার খালেদা জিয়া নিজেই অনুধাবন করতে পারছেন যে তার এই অবস্থার জন্য তারেক রহমানই প্রধানত দায়ী। উল্লেখ্য ২০০৮ সালে জিয়া এতিমখানা নিয়ে মামলা হওয়ার পর খালেদা জিয়ার ব‍্যক্তিগত সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তারেকের পরামর্শেই এতিমখানার নামে অনুদান চাওয়া হয়।

ফালু আরও বলেছিলেন, এতিমখানার নামে এফডিআর করা ফান্ড দেখিয়ে ৭০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল তারেক রহমান। অতঃপর ২০০৬ সালে সলিমুল হক, সৈয়দ আহমেদ ও গিয়াস উদ্দিনের নামে একই টাকা ট্রান্সফার ও এফডিআর করে তিনটি ভুয়া কোম্পানির নামে সোনালী ব‍্যাংক থেকে দেড়শ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়েছিল। এছাড়া কোকো জাহাজ ও ডান্ডির নামে ২০০৭ সালে তারেকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে জেল থেকে মুক্তি বিলম্বিত হলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে চাচ্ছেন বেগম জিয়া। বেগম জিয়ার সঙ্গে পাঁচ আইনজীবীর সাক্ষাতে বিএনপির চেয়ারপারসন এই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।
আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন তারেকের উপর অর্থ আত্মসাতের দায় চাপিয়ে দিতে।

যে আইনজীবীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁরা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। আইনজীবীরা বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ব্যক্তিগত চিকিৎসককে দিয়ে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন করেছেন।

শনিবার বিকেলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সহ পাঁচ জন আইনজীবী বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জেলখানার একাধিক সূত্রগুলো বলছে, শুক্রবার কিছুটা শান্ত থাকলেও শনিবার অনেকটাই অস্থির হয়ে উঠেছেন বেগম জিয়া। সকাল থেকে অন্তত আটবার কারাগারের লোকজনকে ডেকে নানা সমস্যার কথা বলেছেন। মাঝে মধ্যেই মেজাজের খেই হারিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করেছেন।

বেগম জিয়া তাঁর আইনজীবীদের কাছেও তারেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথা বলেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বেগম জিয়াকে যে কক্ষ দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক সাঁজসজ্জায় সজ্জিত। কিন্তু বেগম জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার শোবার খাটটি যথেষ্ট নরম নয়। বেগম জিয়া সার্বক্ষণিক গরম পানি চান। কিন্ত তেমন ব্যবস্থা কারাগারে নেই। কারাগারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁর জন্য নিয়মিত পানি গরম করে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আলাদাভাবে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেগম জিয়া তাঁর কক্ষে রক্ষিত টেলিভিশনে হিন্দি চ্যানেল বিশেষ করে স্টার প্লাস এবং পাকিস্তানের নেট জিও চ্যানেল দেখতে চান। কিন্ত কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারে ডিশ সুবিধা নিয়ন্ত্রিত। এখানে শুধু বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানো যায়। আইনজীবীরা আসার আগে বেগম জিয়া কারাগারের বিভিন্ন অসুবিধা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে আইনজীবীদেরও তিনি একই অভিযোগ করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত বেগম জিয়ার বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায়নি। তবে কারা কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মচারীর কাছে তারেক রহমান ও বিএনপি নেতাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার কারাগারে আসার পর কোথাও বিক্ষোভ মিছিল ও জোরদার কর্মসূচি ঘোষণা না করায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

ফেব্রুয়ারি 11, 2018

খালেদার কারাদণ্ডের পর হিজড়া দলকে আন্দোলনের দায়িত্ব দিলেন তারেক !

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর কোনো ধরণের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে না তোলায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের উপর ক্ষুব্ধ তারেক রহমান হিজড়াদের সক্রিয় করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি গতকাল মোবাইলে হিজড়া দলের চেয়ারপার্সন রাশিদা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কাজলী হিজড়াকে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, হতাশ তারেক রহমান ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের নেতৃবৃন্দের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে হিজড়াদেরকে আন্দোলন ও জনমত গড়ে তোলাসহ দলে আরও পদ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হিজড়া দলের চেয়ারপার্সন রাশিদাকে।

উল্লেখ্য প্রায় চার বছর আগে তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি নেতা হাবিবুন্নবী সোহেলের নেতৃত্বে বিএনপি নেতারকর্মীদের লিঙ্গ পরিবর্তন করে হিজড়া হওয়ার অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। গত সাত বছরে জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের আশুলিয়াস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বর্তমানে চারশর বেশি হিজড়া নেতাকর্মী রয়েছে।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাভোগের কারণে মনোবল শক্ত রাখতে রোজা রেখেছে দলের নেতাকর্মীরা। কাজলী হিজড়া জানান, দলের চেয়ারপার্সন রাশিদার নেতৃত্বে থাকা ৬৫৮ হিজড়ার মধ্যে ৪০০ জনের মতো আজ রোজা রেখেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বকশিবাজার মোড়ে আইনজীবী, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে হিজড়ারা কর্মসূচি পালন করেছে।

এদিকে, জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের দপ্তর সম্পাদক আবুল হিজড়া তাদের প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সারাদেশে খালেদার জিয়ার মুক্তির দাবিতে কঠোর আন্দোলন করে দেশ অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন।

জানুয়ারি 25, 2018

দিনে ইসলামের কথা, রাতে পতিতাবৃত্তি: নেপথ্যে ছাত্রীসংস্থার ৫ মক্ষীরানী

m3রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ আবাসিক হোটেল এবং আবাসিক বাসভবনে দিনে-রাতে অবাধে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। গতকাল গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক ঢাকার কয়েকটি স্থানে অভিযান চালনার পর আটক ছয় পতিতাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় নারী দেহের পসরা সাজিয়ে অবাধে ব্যবসার নেপথ্যে রয়েছে জামাতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পাঁচ মক্ষীরাণী।

রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, খিলগাও ও মগবাজার এলাকায় অসংখ্য আবাসিক হোটেল ও বাসায় দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক ব্যবসাও চালু রেখেছে উক্ত মহল।

জানা গেছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি ও বিদেশ থেকে আসা ফান্ড বন্ধ হওয়ার কারণে ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা মাদক ব্যবসায় ও ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে শুরু করে। জামায়াত নেতাদের ভোগ বিলাসের জন্য ছাত্রী শাখা গঠন করা হয়েছিল। তবে সাংগঠনিক কর্মকান্ডের আড়ালে দেহ ভোগের বিষয়টি সেভাবে আলোচিত হয়নি।

[ছাত্রী সংস্থার নারীদের কিভাবে ইসলামের অপব্যবহার করে পতিতায় পরিণত করা হয় তার চাঞ্জল্যকর তথ্য থাকবে পরবর্তি পর্বে।]

ইসলামী শরীয়তের সাথে পতিতাবৃত্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে গ্রেফতারকৃত মক্ষীরানী নিলুফার বলেন, মাওলানা মওদুদী হুজুরের কিতাবে আছে দাসী ভোগ করা জায়েজ। আমরা দুই দিনের দুনিয়ায় আখেরাতের কামিয়াবির জন্য নিজেদেরকে খাদেম হিসাবে কোরবান করেছি। আলেম ওলামাদের খেদমতে কোনো পাপ নাই। মন পবিত্র আছে কিনা সেইটাই বড় কথা।”

উল্লেখ্য  ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের সাংগঠনিকভাবে দাসী মর্যাদা দেয়া হয়। ফলে মওদুদী মতবাদ অনুসারে ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের ভোগ করার অধিকার নেতৃবৃন্দের রয়েছে।

ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দল থেকে মাসে নির্দিষ্ট অংকের টাকা পেত। গত দুই বছরে সাংগঠনিক স্থবিরতা ও আর্থিক সংকটের কারণে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অসৎ পথে আসায় রাজধানীর দেহ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ছাত্রী সংস্থা ও শিবিরের কয়েকজনের কাছে।

d1

ঢাকার দেহব্যবসা পাঁচ জনের নেতৃত্বে চললেও গুল বদন, দিল আফরোজ ও খুরমা মূলত নারী জোগাড় ও সরকরাহ এবং মেহেক ও চম্পা ইয়াবা সংগ্রহ ও সরবরাহে মূল ভূমিকা পালন করে। আরও জানা যায়, একটি শ্রেণীর কাছে নারীর চেয়ে হিজড়া বেশি পছন্দনীয়। পাকিস্তানে হিজড়ার উপভোক্তা বেশি হলেও বাংলাদেশে জামাত ঘরানার অনেকে হিজড়া ভোগে অভ্যস্থ। হিজড়া ভোগ সহজতর করতে ২০১০ সালে ছাত্র শিবিরের সম্মেলনে জামাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কর্তৃক কয়েকজন হিজড়াকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিলে শিশির মোহাম্মদ মনিরের নেতৃত্বে শিবিরের একটি গ্রুপ বিরোধিতা করে। নারী ও হিজড়া সম্ভোগ নিয়ে বিরোধিতার এক পর্যায়ে মনিরকে বহিস্কার করা হয় এবং শিবিরের ২৫ জনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

ঢাকা কেন্দ্রিক দেহ ব্যবসার নেটওয়ার্কে গুলজার, লাদেন ও সাদ্দাম ছদ্মনামে ছাত্র শিবিরের তিন নেতা পাঁচ মক্ষীরানীর প্রধান দালালের ভূমিকা পালন করে। নারী ও মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে তাদেরকে ডিজিটাল দালাল বলা হয়।

গতকাল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন পতিতা আটকের পর দেখা যায় শার্ট প্যান্ট বা স্কার্টের উপরে তারা বোরকা পরেছে। আটককৃতদের মধ্যে তিন পতিতা বোরকার নীচে কিছুই পরেনি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইসলাম প্রচারের নামে ছাত্রীদের আকৃষ্ট করা হয়। এছাড়া পুরস্কারের নামে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নাম ঠিকানা জোগাড় করে জামাতি আদর্শে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করা হয়।

ছাত্রী সংস্থায় জড়িত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে সদস্যদেরকে কোনো অপকর্ম সম্পর্কে বুঝতে দেয়া হয় না। সদস্যদের জন্য প্রকাশিত বই পুস্তকে জামাতই একমাত্র দল এবং জামাত নেতারা আল্লাহর প্রতিনিধি এমন ধারণা সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন অপব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানো হয় যে জামাত-শিবিরের নেতারা ভোগ করলে কোনো গুনাহ হবে না। অনেকক্ষেত্রে প্রেমের নামেও তাদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। পরবর্তিতে ব্ল্যাকমেইল করে পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত করা হয়। এছাড়া অনেকে অর্থের অভাবে কিংবা অর্থের প্রলোভনে পড়ে বিলাসিতার জন্য দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

রাজধানীতে প্রায় ১০৩টি হোটেল ও আবাসিক বাসভবনে ছাত্রী সংস্থার পাঁচ নেত্রী দেহ ব্যবসা পরিচালনা করছে। কিছু অসাধু পুলিশ ও সাংবাদিকদের নিয়মিত টাকা দেয়া ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিগণের সাথে এই চক্রের সুসম্পর্ক রয়েছে।

উম্মে হাবিবা নামে ছাত্রী সংস্থার এক যৌনকর্মী জানায়, খদ্দের যে টাকা নেয় তার ৫০ ভাগ তাদের দেয়। বাকি টাকা থেকে মধ্যস্থতাকারী দালাল ও আনুষাঙ্গিক খরচের পর পাঁচ নিয়ন্ত্রকের কাছে চলে যায়।

পতিতারা ছদ্মনামে ভিজি

টিং কার্ডও ব্যবহার করে যেখানে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা বা সাইমুম শিল্প গোষ্ঠীর নাম থাকে। আবার অনেক সময় কার্ডে হোটেল বা মধ্যস্থতাকারীর মোবাইল নম্বর থাকে। আর এভাবেই খদ্দেররা পৌঁছে যায় যৌনকর্মীদের কাছে।

ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা দিনে ইসলামের কথা বলে ছাত্রীদের জামাতের সাথে যুক্ত হওয়ার আহবান জানায়। বিকেল থেকে শুরু করে পতিতাবৃত্তি।

m1

সচেতন মহলের আশঙ্কা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়তে পারে যুবসমাজ। সমাজের ক্ষতিকারক এ দেহ ব্যবসা প্রতিরোধে ছাত্রী সংস্থাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে দেশবাসী।

জানুয়ারি 16, 2018

‘হিজড়া’ পরিচয়ে ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্ত

নারী বা পুরুষের পাশাপাশি কেউ চাইলে হিজড়া পরিচয়েও ভোটার হতে পারবেন, এমন উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে বুধবার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেয়া হলেও ভোটার তালিকা অাইন ও বিধিমালায় বিষয়টি না থাকায় এতোদিন এটি করা যায়নি। তাই কমিশন ভোটার তালিকা অাইন-২০০৯ ও ভোটার তালিকা বিধিমালা-২০১২ সংশোধন করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

বুধবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অাসার কথা রয়েছে। অার এরকমটি হলে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের জন্য নিবন্ধন ফরমের লিঙ্গ পরিচয় ছকে নারী ও পুরুষের সঙ্গে হিজড়া যোগ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা যায়।

২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় হিজড়াদের স্বীকৃতি বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। রাষ্ট্রপতির অাদেশক্রমে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালায়ের সহকারী সচিব মো. মুখলেছুর রহমান খান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে হিজড়া লিঙ্গ (hijra) হিসেবে চিহ্নিত করিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিল।’

যদিও ২০১৪ সালে কাজী রকিবউদ্দীন অাহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৪ সালে ভোটার তালিকা নিবন্ধনের খসড়া ফরমে হিজড়া লিঙ্গটি যোগ করেছিলেন। কিন্তু ভোটার তালিকা অাইন ও বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায় সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেননি তারা। এখন পর্যন্ত কেউ ভোটার হতে চাইলে তাকে নারী বা পুরুষ লিঙ্গ বেছে নিতে হয়।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, যেহেতু সরকার হিজড়া জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই কমিশন তাদেরকে ভোটার করার উদ্যোগ নিচ্ছে। অার যেহেতু ভোটার তালিকা অাইন ও বিধিতে বিষয়টির উল্লেখ নেই, তাই এটি করতে হলে অাগে ভোটার তালিকা অাইন ও বিধিমালা সংশোধন করতে হবে।

সেপ্টেম্বর 19, 2017

আশ্রয় ও সহায়তার নামে ৯ জামাত নেতা মিলে ধর্ষণ করে রোহিঙ্গা নারীকে

রোহিঙ্গা ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত আবদুস ছালাম

রোহিঙ্গা ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত আবদুস ছালাম

বার্মা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাংলাদেশে এসে জামায়াতের বর্মীদের কাছে নিগৃহীত হওয়ার বর্ণনা করেন এক রোহিঙ্গা দম্পতি। আশ্রয় ও সহায়তার নামে জামায়াত নেতা আবদুস ছালাম , জালাল চৌধুরী সহ ৯ জন মিলে রাতভর ধর্ষণ করে আরফা (১৮)কে।

তৈয়ব আলী ও খাদিজা বেগমের বড় মেয়ে আরফা (১৮)র বিয়ে ঠিক হয়েছিল। এমন সময় বিভীষিকা নেমে আসলে পরিবারটি রুমখাঁ নামের এক বাংলাদেশী দালাল মাধ্যমে উখিয়া শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। পালং গ্রামের করিম বক্সের ছেলে রুমখাঁর মাধ্যমে পরিচয় হয় ডা: ছালাম ও এডভোকেট জালালের সাথে। তারা তৈয়ব ও খাদিজাকে কাজ ও থাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে একটি বাড়ি ভাড়া করে দেয়। গত শুক্রবার রোহিঙ্গা দম্পতির বড় মেয়ের সাথে ছালাম ও জালাল অশালীন আচরণ করলে তারা এই দুই জামায়াত নেতার পা ধরে সম্মান রক্ষার আকুতি জানায়।
ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ত্যাগ করলেও জামায়াত ও শিবিরের আরও ৬ জন নেতাকর্মী নিয়ে রোববার সেই ভাড়া করা বাড়িতে হানা দেয়। বাবা-মায়ের চোখের সামনে রাতভর তরুনীটিকে ধর্ষণ করে এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়।

গতকাল তৈয়ব আলী ও আরফা থানায় অভিযোগ জানালে ভাড়া করা বাড়ি থেকে তাদের বের করে দেয়া হয়।
জানা গেছে, আবদুস ছালাম, জালাল ও রুমখাঁকে অভিযুক্ত করে আরো অজ্ঞাত ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সকাল ৯ ঘটিকায় ছালামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যরা পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য উক্ত পরিবারের আবার স্থান হয়েছে টেকনাফ উপজেলার হোয়াক্যং ইউনিয়নেরর রইক্ষ্যং শরণার্থী ক্যাম্পে।

সেপ্টেম্বর 17, 2017

বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্মমতার কবলে এক রোহিঙ্গা শরণার্থী!

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে এলেও বিএনপির নির্মমতার কাছে হেরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এক রোহিঙ্গা পুরুষ। সংবাদ ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সান এর।

কক্সবাজারে জাকির সালাম নামে এক রোহিঙ্গা শেণার্থীকে শিশু চুরির অভিযোগ এনে নির্দয় ভাবে প্রহার করে।

জানা গেছে, কক্সবাজারের যুবদল নেতা হরমুজের বাড়িতে খাবারের জন্য গিয়েছিল ওই রোহিঙ্গা জাকির। এ সময় তার চার বছরের ছেলেকে না পেয়ে জাকিরকে শিশু চোর হিসেবে সন্দেহ করে। হরমুজ তার অনুসারী নেতাকর্মীদের ডেকে আনলে রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি, লাথি ছাড়াও গাছে বেঁধে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত যুবদল কর্মীরা। ঘটনাস্থলেই জাকিরের মৃত্যু হয়।

রোহিঙ্গা এই ব্যক্তিকে গণপিটুনির দৃশ্য ধারণ করেছেন বার্তাসংস্থা এপির এক আলোকচিত্রী।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চারদিক থেকে উত্তেজিত জনতা তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করছে। এসময় তিনি আঘাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান।

গণপিটুনির এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

নিস্তেজ শরীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েও রেহাই মেলেনি তার। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারপিট করা হয়।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সান বলছে, ২০ জনেরও বেশি মানুষ ওই রোহিঙ্গা ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে অনেক তরুণ ছিল। রোহিঙ্গা ওই ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে বাঁধার আগে প্রাণভিক্ষা চান তিনি।

যুবদল নেতা হরমুজের বিরুদ্ধে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। আরো জানা গেছে হরমুজের শিশু পুত্রকে তার ভাইয়ের বাড়িতে পাওয়া গেছে।

rohingya3

rohingya