Archive for ‘অপরাধ সংবাদ’

মার্চ 28, 2019

মাদক সম্রাট মনু মিয়া থেকে মনু চেয়ারম্যান

abu sayeed monu mia

মোঃ আবু সাইদ মিঞা ওরফে মনু মিয়া পিরোজপুরের কাউখালী এলাকায় মনু চেয়ারম্যান হিসেবে এবং ঢাকায় একজন ব্যবসায়ী/ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। তবে অপরাধ জগতে তার নাম মাদক সম্রাট মনু মিয়া। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর তার বেশভুষায় চলে আসে আমুল পরিবর্তন। মনু মিয়ার সাম্প্রতিক সুন্নতি লেবাস দেখে পূর্বপরিচিত অনেকেরও হয়তো তাকে চিনতে কিছুটা কষ্ট হবে। এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি)র প্রার্থী হয়েছেন তিনি। গনসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

মাদক সম্রাট যখন জনপ্রতিনিধি

পূর্বদিকে সন্ধ্যা আর পশ্চিমে কালীগঙ্গা নদী। মাঝখানে ১৪ বর্গকিলোমিটারের জনপদ সয়না রঘুনাথপুর। বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না এ ইউনিয়নবাসীর। এই সুযোগে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে মনু তেমন কোনো বাধা ছাড়াই সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকারকে জিম্মি রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট, নির্বাচিত পরিষদ, দাপ্তরিক কর্মচারী, ডিজিটাল সেন্টারের সরঞ্জাম ইত্যাদি সকল সুবিধা দেয়া হলেও স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নেন নি। এলাকাবাসীকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেন, তিনি তার ব্যক্তিগত অর্থেই সবকিছু চালিয়ে রাখছেন। এবার কাউখালী উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সংসদ নির্বাচনকে উপলক্ষ করে। রাজনীতিতে স্থান পেতে বড় অংকের টাকা ঢালতে কার্পণ্য করছেন না। তার রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট হওয়ার তথা জনপ্রতিনিধি হওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য নিরাপদে মাদক ব্যবসা করা। কাউখালীর বেশিরভাগ এলাকাবাসী হয়তো জানেনই না যে তাদের মনু চেয়ারম্যান একজন মাদক সম্রাট।

মাদক ব্যবসা পরিচালনার কৌশল

কাউখালীর গোয়ালতা গ্রামের সালেক মিঞা ও পারুল বেগমের পুত্র মনু এসএসসি পাশ করার পর জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। গৌরনদীর মাদক ব্যবসায়ী মানিক মাঝির সঙ্গে বন্ধুত্ব জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মনু জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করেন ইয়াবা ব্যবসা। দুই বছরের মধ্যে বৃহত্তর বরিশালের মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক বনে যান কাউখালীর মনু মিয়া, গৌড়নদীর মানিক মাঝি ও মাদক সম্রাট খ্যাত ঝালকাঠির জাহিদ। মাদক ব্যবসা পরিচালনার কৌশল পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার পারসাতুরিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ময়নুদ্দিনের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলামের (২৭) পেশা মুদি ব্যবসা। মনু মিয়ার বদৌলতে উচ্চ লাভের আশায় মুদির দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা চালিয়েছিলেন। কাউখালী সদর ইউনিয়নের গান্ডতা গ্রামের মানিক সেনের ছেলে মনোজ সেন (২২), সোনাপুর গ্রামের চুন্নু শেখ (৩৫), এমন প্রায় দুই শতাধিক খুচরা মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে চলে মনুর মাদক সিন্ডিকেট।

ইয়াবা শুধু নয়:

ইয়াবা মূল ব্যবসা হলেও চাহিদা অনুসারে মদ, ফেন্সিডিল ও গাজার ব্যবসাও চলে একই সাথে। মাঠ পর্যায়ের পুঁজিবিহীন খুচরা মাদক বিক্রেতা ছাড়াও নগদ অর্থে মাদক ক্রয় করলে পাইকারি দরে দেয়া হয়। কাউখালীর চরবাশুরী গ্রামের নুরুল ইসলাম খান বা সেলিম খানের মত স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও মনুর নেটওয়ার্কের অন্তর্গত। উল্লেখ্য, নুরুল ইসলাম গত নির্বাচনে মনুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিল। রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধ থাকলেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

মিডিয়ায় মনু মিয়ার অপকর্মের তথ্য:

মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত মনুর নামে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় জনপ্রতিনিধিদের মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়ে ‘জনপ্রতিনিধিরাই ইয়াবা কারবারি’ নামের একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে বরিশাল কেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের শীর্ষ নেতা হিসেবে আবু সাঈদ মনু মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। ‘রাইজিং বিডি’ নামক পত্রিকার টেকনাফ স্থানীয় প্রতিনিধির বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকার উপর ভিত্তি করে একটি সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৬ জুন। সেই প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা ক্রেতাদের মধ্যে আবু সাঈদ মনুকে ফকিরাপুলের ইয়াবা সম্রাট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল মনুদের মত গডফাদারদের হাত ধরে সারাদেশের অনেকেই ভয়ঙ্কর ইয়াবা ব্যবসায় নাম লিখাচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় মনু

টেকনাফ হচ্ছে মনুর অন্যতম অভয়াশ্রম। দেশের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাহেদুর রহমান নিপু এবং মোঃ ফয়সালের বিশ্বস্ত ক্রেতাদের অন্যতম একজন মনু। ঢাকায় আবু সাঈদ মনুর সহযোগী মোহাম্মদপুর এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী আসমা আহমেদ ডালিয়া। ডালিয়ার পুরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ৩৭ জনের তালিকায় ডালিয়া সহ মনুর নাম এসেছে সাত নম্বরে।

জাল টাকার ব্যবসাঃ

মনুর নাম মাদক ছাড়াও জাল টাকার ব্যবসার জন্য বহুল আলোচিত। মনুর বিশ্বস্ত কর্মচারিদের মধ্যে রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন ও শিকদারের নেতৃত্বে একটি চক্র জাল টাকার ব্যবসা করে। এলাকা ছাড়াও মাদক ক্রয় বিক্রয়ের সময় জাল টাকা চালিয়ে দেয়া সহজ হয় বলে এই ব্যবসায়ও ঝুঁকে পড়ে মনু। মনুর বিরুদ্ধে জাল টাকা সংশ্লিষ্ট একটি মামলার তদন্ত চলমান।

মাদক ও জাল টাকার ব্যবসার মাধ্যমে ফুলেফেঁপে ওঠা আবু সাইদ মনু মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর এলাকার অগ্রগতি হয়নি সামান্যতম। সনদপত্র বা জন্মনিবন্ধন পেতে হেঁটে ছুটতে হয় ইউনিয়নের বেতকা বা সোনাকুর থেকে মেঘপাল গ্রাম পর্যন্ত। ১০-১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। নদীভাঙন ইউনিয়নটির মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। সন্ধ্যা ও কালীগঙ্গা নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রায় একযুগে তিন শতাধিক একর ফসলি জমি, পাঁচ শতাধিক বসতঘর, বহু সড়ক, পুল-কালভার্ট চলে গেছে নদীতে। হোগলা-কাঁঠালিয়া থেকে শির্ষা গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। কালীগঙ্গার ভাঙনে বেতকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একাধিক মসজিদ ও বেতকা ব্রিজ বিলীনের পথে। সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ১৯৮০ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়। মনুর এ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয় উপেক্ষা করার কারণ মাদক ব্যবসা বলেই ধারণা করা হয়। এবার উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচিত হলে গোটা উপজেলাকেই মাদক ও জাল টাকার সিন্ডিকেটে নিয়ে আসা হবে এমন আশঙ্কা অনেকের। মাদক বিরোধী যে অভিযান চলছে তাতে মনুর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সকলের।

 

অক্টোবর 9, 2018

যে অনুষ্ঠানের কারণে পলকের প্রোফাইল ভেরিফিকেশন বাতিল

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের ভেরিফাইড প্রোফাইল থেকে ভেরিফাইড স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করেছে ফেসবুক। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণীতে বিতর্কিত তওবা সম্পাদক মতিউর রহমান বাচ্চুর সঙ্গে উপস্থিত থাকার কারণে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও প্রথম আলোর উদ্যোগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে তওবা সম্পাদক নিষিদ্ধ হলেও ফটোসেশন ও সেলফির প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

তওবা মতির সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি প্রকাশের পর ফেসবুক জুড়ে হৈচৈ শুরু হয়। অনেকে প্রথম আলোর লিংক সমেত মন্ত্রী স্টিভ জব্বারের কাছে বার্তা পাঠিয়ে পলকের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। উত্তরে জনাব স্টিভ বলেন, “প্লিজ অয়েট, আই গো স্লো বেঙ্গলি ভেরি মাচ।”

ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রিস কক্স নামের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের আইডি বাতিল করেছি। উলফার মাধ্যমে নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় মতি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আগামী ২ নভেম্বর ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করলে প্রতিমন্ত্রী পলক মহোদয়ের পেজের ভেরিফেকেশনও বাতিল করা হবে।

জুলাই 18, 2018

সিলিটে শতাধিক পরিবারকে নিঃস্ব করা আহবাব এখন লন্ডনের কোটা নেতা


প্রতি লাখে মাসে ২০ হাজার টাকা লভ্যাংশ প্রদানের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবার, এমনকি রিকশা চালক ও শ্রমিকদের শেষ সম্বল হাতিয়ে নেয়া সিলেট ছাত্র শিবিরের নেতা এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সাধারন ছা্ত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার। কোটা সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকাও সংগ্রহ করেছে এবং করছে।

সিলেট জেলা ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি আহবাব আহমদের নেতৃত্ব শিবিরের একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা আত্মসাত করলেও নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নেয়া সাত কোটি টাকা ফেরত দেয়। প্রতারক আহবাব বর্তমানে জামায়াত নেতা চৌধুরী মাঈনুদ্দিনের সহযোগিতায় লন্ডনে এসে জামায়াতের রাজনীতির পাশাপাশি কোটা আন্দোলন সংগঠিত করছে।

এই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকেই লোভে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আহবাবের কথিত ব্যবসায় অংশীদার হয়েছিলেন। কারো সঙ্গে লেয়ার মুরগির খাদ্য কেনাবেচার, আবার কাউকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের শেয়ার বিক্রির ভুয়া চুক্তিপত্র দিয়ে প্রতারণা করেছেন এই শিবির নেতা।

প্রতারক শিবির নেতা কোটা আন্দোলনের সংগঠক আহবাব আহমেদ

প্রতারক শিবির নেতা কোটা আন্দোলনের সংগঠক আহবাব আহমেদ

প্রতারণার শিকার একজন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং ছত্রিশ গ্রামের ময়না মিয়া। তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালের দুটি শেয়ার ক্রয়ের চুক্তিপত্র নিয়ে ২ লাখ টাকা খুইয়েছেন। ওই চুক্তিপত্রের কপি এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া অনুসন্ধানে এ প্রতিবেদকের হাতে আহবাবের প্রতারণার বেশ কিছুু তথ্য-প্রমাণ আসে।

এ রকম নানা জনের কাছে নানা কৌশলে প্রতারণা করে লাপাত্তা প্রতারক আহবাব। অভিযোগে জানা যায়, আহবাব শুধু সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে নেয়া ৭ কোটি টাকা ফেরত দেয়ায় শিবিরের দায়িত্বশীল কেউই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে নারাজ।

প্রতারণার বিষয়টি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে তোলপাড় হয়।

শিবির নেতা আহবাব গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ছত্রিশ গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের বড় ছেলে। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় বিভিন্ন বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতেন তিনি। গত কয়েক বছর থেকে তার চলাফেরায় পরির্বতন আসে। একে একে ৪টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি পিকআপ ভ্যানসহ দামি মোটরসাইকেল ক্রয় করেন তিনি। আহবাব ছাত্রশিবির গোলাপগঞ্জ পশ্চিম শাখার সভাপতি ও কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের অফিস সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে সিলেট জেলা ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি। গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহিবুল্লাহ হোসনেগীর এ প্রতিবেদকের কাছে আহবাবের দলীয় নেতাকর্মীর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও দল এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন মুহিবুল্লাহ।

অনুসন্ধানে ২০১৬ সালের একটি ছবিতে দেখা যায়, তৎকালীন সময়ে শিবিরের মাসিক ম্যাগাজিন কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের একটি অনুষ্ঠানে আহবাবের সঙ্গে এক সারিতে আছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহিবুল্লাহ হোসনেগীর ও আহবাব। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের সিলেট জেলা পূর্ব শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ দস্তগীরসহ আরো অনেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিবিরের একজন সাথী এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রতারক আহবাবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতারণার শিকার অনেকেই সেখানে ভিড় করেছেন। এর আগে আহবাবকে বাড়িতে না পেয়ে প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন রোববার বিকালে আক্রমণ করে ঘরের ফ্রিজ, টিভি, খাট, ৪টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি পিকআপ ভ্যান, শ্যালো মেশিন, এমনকি বাড়ির প্রধান গেট যে যা পেয়েছেন নিয়ে গেছেন।

সিলেট শহরের তালতলায় বসবাসকারী প্রতারণার শিকার একজন বলেন, আহবাবের সঙ্গে তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচয়। এরপর কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রায় ১০ লাখ টাকা আহবাবের কথিত ফার্মের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলাম। আহবাব লাপাত্তার খবর শুনে তার বাড়িতে এসেছি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আহবাবের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে থাকা আহবাবের মা নাছিমা বেগম জানান, শনিবার রাত থেকে ছেলের খোঁজ জানি না। রোববার থেকে লোকজন আহবাবকে না পেয়ে বাড়ির সবকিছু লুটে নিয়েছে। আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার ছেলে নির্দোষ।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস টিপু জানান, চলতি বছরের ২৯ মার্চ ফার্মের মুরগির খাবারের ব্যবসার কথা বলে চতুর আহবাব তার কাছ থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে এক টাকাও ফেরত দেয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারদলীয় একজন সমর্থক জানান, তার ভাইয়ের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিল আহবাব। এর মধ্যে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

জকিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের বদরুল হকের ছেলে সোহেল আহমদ জানান, তিনি ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন আহবাবের কথায়। তাকেও মুরগির ফার্মের ব্যবসার কথা বলে টাকা নেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের একটি চেকও দেন। ভুটিটিকর ছত্রিশ গ্রামের মুহিব আলী মাস্টারের নাতি পিন্টুর ৫ লাখ টাকা, ছত্রিশ গ্রামের জালাল মিস্ত্রি ৭০ হাজার টাকা, গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের চকরিয়া গ্রামের কামরুল ইসলামের ৭ লাখ টাকা, বিয়ানীবাজার উপজেলার চন্দগ্রাম গ্রামের ব্যবসায়ী আবু বকরের ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, একই উপজেলার খাদিম উলি গ্রামের রুনু মিয়ার ২ লাখ টাকাসহ কয়েকশ’ লোকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন আহবাব।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আহবাব ফেব্রুয়ারি মাসে সিলেটের তামাবিল-ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের ভিসা ইস্যু করিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে ভারত চলে গেছে। আহবাবের পাসপোর্ট নাম্বার বিএইচ ০১৫৬৯৮০। পাসপোর্টে দেওয়া তথ্যে তার জন্ম ২৫ ডিসেম্বর ১৯৮৭ ইংরেজি এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নং ১৯৮৭৯১১৩৮৫১২০৩২৬।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, প্রতারণার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে প্রতারণা করে আত্মসাতকৃত টাকার একটি অংশ শিবিরকে দেয়ায় তারা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযোগ করা থেকে বিরত রেখেছেন।

জুন 28, 2018

জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রদল নেতাকে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ

ফাইল ফটো

জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রদল নেতাকে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই যুবককে জোরপূর্বক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়ায় রূপান্তর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে হিজড়া সরদার মনিরা ওরফে রত্নার বিরুদ্ধে। সরদার মনিরা জাতীয়তাবাদী হিজড়া দলের কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এবং রত্না কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমস্য।

উল্লেখ্য, হিজড়াদের মধ্যে বিএনপির সমর্থক বেশি থাকায় ২০১২ সালে কাজলী হিজড়াকে চেয়ারপার্সন করে জাতীয়তাবাদী হিজড়া দল গঠিত হয়।

জানা গেছে, ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে যশোরের একটি বাড়িতে নিয়ে জোর করে এ অস্ত্রোপচার করা হলেও গত বুধবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুলতান আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী দুই যুবক হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কেসমত গাজীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২) ও একই উপজেলার ঘোপপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে কাজল হোসেন (২৩)। তারা দুজনই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় হিজড়া নেতা রত্নার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তবে পুলিশের দাবি, কেউ এ ধরনের কোনও অভিযোগ দেয়নি।

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার ছেলের আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক। কালীগঞ্জের হিজড়া সরদার মনিরা প্রায়ই টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আমার ছেলেকে তাদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য চাপ দিতো। ঈদের এক সপ্তাহ আগে রত্না আমার ছেলেকে ফুঁসলিয়ে যশোর নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে নিয়ে অপারেশন করে পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়। এরপর সেই বাড়িতে তাকে আটকে রেখে চিকিৎসা করাতে থাকে। পরে আমরা খবর পেয়ে হিজড়াদের কাছ থেকে উদ্ধার করে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন,‘আমি ও কাজল রাজনৈতিক সভা সমাবেশ আয়োজনের জন্য হিজড়াদের সঙ্গে চলাফেরা করতাম। কিন্তু ঈদের আগে আমাদের কিছু না জানিয়ে হিজড়া সরদার রত্না একটি মাইক্রোবাসে করে যশোরের কোনও একটা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অজ্ঞান করে। পরে আমাদের পুরুষাঙ্গ কাটার পর মাগুরায় নিয়ে যায়। সেখানে নাক ও কান ছিদ্র করে হাতে চুড়ি পরিয়ে দেয়।’

অস্ত্রোপচারের শিকার হওয়া আরেক যুবক কাজলের ভাষ্য, ‘আমাদের না জানিয়ে কৌশলে অজ্ঞান করে এই অপারেশন করা হয়েছে। আমি হিজড়া সরদার রত্নার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুলতান আহমেদ বলেন,‘ভুক্তভোগী দুই যুবককে কমপক্ষে ১০-১২ দিন আগে অপারেশন করে পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া তাদের নাক ও কান ফুটানো হয়েছে। ওই দুই ভুক্তভোগীর অবস্থা খারাপ।’

এ ব্যাপারে হিজড়া সরদার মনিরা ওরফে রত্না বলেন, ‘আমি একজন নেত্রী। আমি এসব কাজে জড়িত নই। রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার জন্য এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে এমন সংবাদ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘এ ধরনের কোনও অভিযোগ তার কাছে কেউ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জুন 20, 2018

মুফতি হান্নানের ভাগ্নি কোটা নেত্রী নীলার বাড়িতে হামলার নেপথ্যে

“পুলিশের পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসীরা রাতে নীলাদের বাড়ি গিয়ে কোটা আন্দোলনে না যাওয়ার হুমকি প্রদান করে। তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন চলে এলে তারা নীলাকে মারতে ব্যর্থ হয়। সকালে আবার এসে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিয়েছে।” এমন দাবি করেছেন কোটা আন্দোলনের নেত্রী নীলা।

কোটা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কতিপয় নেতা তাদের ওপর একের পর এক হামলার মিথ্যা দাবি করে আসছে। এবার যোগ হলো কোটা নেত্রী লুৎফুন্নাহারের বাড়িতে হামলার ঘটনা। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, সন্ধায় পুলিশের পরিচয় দিয়ে হুমকি দিলে তারা পুলিশকে জানায় নি কেন? গ্রাম ছাড়া করার মত ক্ষমতা থাকলে চেঁচামেচিতে লোকজন এলে হুমকিদাতারা চলে যাবে কেন? সবচেয়ে বড় কথা গোপালগঞ্জের কার এতটা দায় পড়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী যে বিষয় সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তা নিয়ে একজন ছাত্রীকে হুমকি দিবে? গোপালগঞ্জে বিএনপির কমিটি রয়েছে। কখনো শোনা যায় নি তাদের কোনো নেতার ওপর বিএনপির কর্মসূচির কারণে হামলা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে নীলার বাড়িতে হামলার কোনো সত্যতা পাওয়া যায় নি। এলাকাবাসী কিংবা থানা, কোনো সূত্রেই এ ধরণের কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। অনুসন্ধানে কতিপয় কোটা নেতার মতো তার মিথ্যাচারের প্রমাণই পাওয়া গেল, কিন্তু একই সাথে জানা গেছে চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক অনেক তথ্য।

লুৎফুন্নাহার বা নীলা নামে পরিচিত এই কোটা নেত্রী আলোচিত জঙ্গি মুফতি হান্নানের ভাগ্নি। মুফতি হান্নান তার নাম রেখেছিল নীরু। পাঁচ বছর আগে পিতার মৃত্যুর পর থেকে উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাত্রা শুরু করে। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান নীলা গোপালগঞ্জের নাম ব্যবহার করে যথাসম্ভব সুবিধা আদায় করলেও শিবিরের অনলাইন কর্মী রাশেদ, তারেক ও মশিউর প্রমুখের সাথে পরিচয়ের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রী সংস্থার সাথে যুক্ত হয়। ছাত্রী সংস্থার যে পেজ শেয়ার করা নিয়ে রাশেদের ব্যাপারে প্রথম বিতর্ক উঠেছিল তার অন্যতম এডমিন নীলা। সেই সময় ছাত্রী সংস্থার গ্রেফতারকৃত সদস্যদের একজন ছিল লুৎফুন্নাহার নীলা।

ইতিপূর্বে রাশেদ-নূরকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে মিথ্যাচার করা হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারী ও সমকামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত সুহেলকে প্রহার করায় ঠোঁটে ১১টি সেলাই পড়েছে বলে দাবি করলেও দুদিন পরই তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। মাদক ব্যবসার লেনদেন নিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক কোটা নেতা জসীম উদ্দিনের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে গেলেও সেটিকে কোটা আন্দোলনের কারণে হামলা বলে দাবি করা হয়েছিল।

জানা যায়, শিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারে কমিশন ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রী জোগাড় করা ছাড়াও চাকুরীর আপীল, পরীক্ষার সাজেশন, প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ বিভিন্ন বাহানায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত এ প্রতারকচক্রটি। এদের অন্যতম সদস্য মাদকাসক্ত তারেক রহমান টাকার জন্য সব করতে পারে বলে প্রচলিত রয়েছে। রাতুল সরকার, মশিউর ও জসিম ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এছাড়া আতাউল্লাহ, হাবীবুল্লাহ, মোল্লা ইয়ামিন ও মাহফুজ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে জড়িত। আতাউল্লাহর ভাই ব্রাহ্মনবাড়িয়া শিবিরের সভাপতি ও নাশকতা মামলার আসামী।

বেগম সুফিয়া কামাল হলে রগ কাটার গুজব ছড়াতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল নীলার নেতৃত্বে ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের কারণে সহপাঠি ছাত্রীরা নীলাকে এড়িয়ে চলতো বলে রাশেদ, নুরু গ্রুপের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। কোটা আন্দোলনে গোপালগঞ্জের জেলা বিএনপির নেতা সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা গ্রহণ করে নীলা। এছাড়া কোটা আন্দোলনের পোস্টার, ইফতার পার্টি ও ঈদের জামা কেনার জন্য, পরবর্তি আন্দোলন ইত্যাদি উপলক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে টাকা তুলতে সবচেয়ে অগ্রগামী নীলা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নীলার বই প্রকাশের ইচ্ছা বহুদিনের। গার্ডিয়ান প্রকাশনি নামে একটি প্রকাশনী তাকে বই প্রকাশের আশ্বাস দিলেও কোটা আন্দোলন নিস্তেজ হয়ে আসায় তাকে নিজ খরচে বই প্রকাশের কথা বলা হয়। জানা গেছে, এফ ই শরফুজ্জামান নামে ঢাকায় বসবাসরত গোপালগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কোটা আন্দোলনের নামে গৃহীত আট লক্ষ টাকা দিয়ে সেই বই প্রকাশ করা হবে। আর লেখক হিসেবে আলোচিত হওয়ার জন্যই বর্তমানে হামলার ঘটনা সাজানো হয়েছে।

রাতুলের মতো অর্ধশিক্ষিত কিংবা রাশেদ, নুরুর মত পড়ালেখা লাটে ওঠা অর্থলোভী প্রতারক চক্রটি মূলত কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আলোচনায় এসেছে। কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীর সমাবেশকে ৭১ এর পর সর্ববৃহৎ সমাবেশ বলে দাবি করা কত হাস্যকর তা বোঝার মত বিবেক বা প্রজ্ঞা পর্যন্ত তাদের নেই। যাদের প্রিলিমিনারী পাশ করার মতো যোগ্যতা নেই তারা যখন মেধাবীদের অধিকারের নামে মায়াকান্না করে তখন তাদের উদ্দেশ্য যে অসৎ তা বুঝতে কারো সমস্যা হয় না। সবচেয়ে বড় কথা জামাত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত কোটা নেতাদের প্রায় সকলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী, মাদক সেবন, সমকামিতা, মাদক ব্যবসা ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রতিবারই তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে প্রখ্যাত শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষ এবং আসিফ নজরুলের মত বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতি তাদের সহানুভূতি এবং নানা বাহানায় মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার মাধ্যমে তাদের পরিচিতি প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে। কিছুদিন পর পর হামলার মিথ্যা দাবি করে যে ভাবমূর্তি সৃষ্টি করেছে তাতে প্রকৃতই যদি তাদের উপর হামলা হয় তখন হয়তো কেউ বিশ্বাস করবে না।

জুন 2, 2018

একরাম কি চক্রান্তের শিকার? মাদক সম্রাজ্ঞী খ্যাত ছোট আম্মা কে?

বিশেষ প্রতিবেদন: সম্প্রতি কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম। নিহত হওয়ার পর থেকে, বিশেষত একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ পত্রপত্রিকায় নানামুখী আলোচনা চলছে। এর মাঝে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

২০১৪ সালে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির তালাশ-এ প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দরিদ্র হিসেবে আলোচিত কাউন্সিলর একরামের সম্পদের যে বিবরণ পাওয়া যায় তা হচ্ছে: টেকনাফে একটি বাড়ি ও একটি নির্মাণাধীন বাড়ি। চট্টগ্রামে একটি বাড়ি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ৩০০০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি ও হোন্ডা। কিছুদিন পর পর হোন্ডার মডেল পরিবর্তন করা ছিল তার অন্যতম শখ। ২০১০ থেকে গত মাস পর্যন্ত যতবার দেশের মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য প্রচারিত হয়েছে তার প্রায় সবগুলোতেই ছিল একরামের নাম।

২০১০ সালে নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত আয়ব্যয়ের বিবরণীতে একরামের আয় দেখানো হয়েছিল মাসে ১৬ হাজার টাকা, নগদ জমা ৩৩ হাজার টাকা। ২০১৭ সালে মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে তিন লক্ষ টাকা। আয়কর বিবরণী অনুসারে টেকনাফ শাখার ইসলামী ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭ কোটি টাকা ও দুই মেয়ের নামে চার কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। এছাড়াও জমি ও সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। আয়ের উৎস দেখানো হয়েছে জমি বিক্রি ও পরিবহন ব্যবসা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে কোন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে এত দ্রুত তিনি কোটিপতি বনে গেলেন! বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উৎস শুধুই ইয়াবা।

গত মাসে একরামের ১৬ লাখ ইয়াবার চালান নিয়ে টেকনাফ জুড়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় যা কালের কণ্ঠসহ বেশ কয়েকটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশে দশ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ একরামের জন্য অর্থ উপার্জনের খাত হিসেবে দেখা দেয়। রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার, তিনটি স্পটে রোহিঙ্গা নারীদের দিয়ে ইয়াবার আসর বসানো ছাড়াও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানো ও আদম ব্যবসার কমিশন এজেন্ট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। মাদক ব্যবসা ছাড়াও রোহিঙ্গা বান্ধব হিসেবে সরকারের কালো তালিকাভুক্ত ৫১ জনের সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন একরাম। এ সিন্ডিকেটের সাথে তিনটি উগ্রপন্থি সংগঠন ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমঝোতা ছিল। কথিত আছে যে, টেকনাফ কেন্দ্রিক এই সিন্ডিকেটকে আস্থায় নিয়েই মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করেছিল এবং বিনিময়ে মায়ানমার সীমান্তে অবাধে ইয়াবা চালানের টোকেন প্রদান করে।

একরামুল হক ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাহেদুর রহমান নিপু ও মোহাম্মদ ফয়সালের সবচেয়ে আস্থাভাজন ব্যক্তি। উল্লেখ্য নিপু স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদির ছেলে এবং ফয়সাল এজহার কোম্পানির ছেলে তথা সাংসদ বদির ভাই। প্রতিদ্বন্দ্বি ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং মাদক বিরোধী কার্যক্রম রুখে দিতে বদির অন্যতম প্রধান পেশীশক্তি ছিল একরাম বাহিনী। তাদের হাত ধরে ২০০৭ সালে পুরোদমে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের তালিকায় উঠে আসে একরামের নাম।

ইয়াবা ব্যবসায় একরামের মূল ভূমিকা ছিল মধ্যস্থাতাকারী হিসেবে। ক্রমে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয় একরাম। ইয়াবা ছাড়াও চোরাচালানের মাধ্যমে মায়ানমার থেকে আনা বিয়ার, মদসহ বিভিন্ন পণ্য সারাদেশে পৌঁছে দিতে তার নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে করে। ২০১৫ সালে ইয়াবা গডফাদার মং মং সেন নিহত হওয়ার পর হুন্ডি ব্যবসা শুরু করে। এছাড়া চুক্তিতে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দেয়ার কাজে পারদর্শি ছিলেন একরাম। একরামের অনুগত পাঁচ জন কর্তৃক পরিচালিত একরাম বাহিনী। ট্রাকের হেলপার থেকে চারটি ট্রাকের মালিক হওয়া মো: ইসমাইল, পিতা: জসিম উদ্দিন তার অন্যতম প্রধান সহযোগি। এছাড়া কেকেপাড়ার মো: শফিক, পিতা আবদুল হক, মো: সাব্বির আহমেদ সাবু, পিতা মিয়া হোসেন, মো: শওকত, পিতা লোকমান হাকিম এবং সৈয়দ আলম একরামের প্রধান সহযোগী।

একরামের পরামর্শদাতা হিসেবে স্ত্রী আয়েশা বেগমের ভাই নজরুল ও কক্সবাজারের পৌর মেয়র মাহবুবের নাম জানা যায়।

একরামের জনপ্রিয়তা ছিল এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ জনপ্রিয়তা সাংসদ বদিরও রয়েছে কিন্তু তারমানে এই নয় যে সে নিরপরাধ। তবে এ মুহূর্তে যে বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত তা হচ্ছে মাদক সম্রাজ্ঞী খ্যাত ছোট আম্মা রহস্য। জানা যায়, আয়েশা বেগম নামে দুজন মহিলা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আলোচিত। এ দুজনকে নিয়ে রয়েছে রহস্যও কারণ বোরখায় ঢাকা দুই নারী মুখ দেখান না। একজন আয়েশা বেগমকে বড় আম্মা এবং অপরজনকে ছোট আম্মা বলে কোড নামে ডাকা হয়। তাদের নামে বড় বড় চালান পার হয়ে যায় কিন্তু কেউ জানে না এদুজনের পেছনে কারা সহায়ক ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধেও কেউ দাঁড়ায় নি। একরাম ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণে প্রশ্ন উঠেছে একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগমই কি ছোট আম্মা?

আকরামের স্ত্রীর মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে কারণ একরামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সূত্রে জানা যায়, নিহত হওয়ার দিন দুপুরে একরামের অনুগত পাঁচ সহযোগীর চারজনকে বিশেষ কাজে টেকনাফ থেকে অন্য কোথাও পাঠিয়েছে আয়েশা। একরামের মৃত্যুর একদিন পরই আয়েশা কয়েকজনকে একরামে পাওনা টাকা পরিশোধের অনুরোধ করছেন। টেকনাফ ও কক্সবাজারের মেয়র এ বিষয়ের মধ্যস্থতা করছে। আয়েশা বেগমই যদি সেই আলোচিত রহস্যময়ী ছোট মা হয়ে থাকেন তাহলে একরামের মাদক সাম্রাজ্য অটুট রয়েছে বলা যায়। গুঞ্জন চলছে যে, একরামকে গুলি করার অডিওটি পরিকল্পিতভাবেই মায়ানমারে ধারণ করা হয়েছে যা সম্পর্কে আয়েশা অবগত ছিলেন। ফোনে বলতে শোনা যায় একরাম টিএনওর কাছে যাচ্ছে। কিন্তু একরাম টিএনও অফিসে গিয়েছিলেন নিহত হওয়ার দিন দুপুরে। আরকটি সূত্র জানা যায়, একরামকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য র‍্যাব অফিসে ডাকা হলে তাকে হত্যা করা হবে এমন ধারণা থেকে ক্রসফায়ারের অডিও রেকর্ড করা হয়। পরিকল্পনা ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসৌজন্যমূলক আচরণ করলে গুলি করে মায়ানমারে পালিয়ে যাবে এবং গুম করা হয়েছে বলে দাবি করে অডিও রেকর্ড প্রকাশ করা হবে। এটি প্রকাশের পর মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধ হবে বলে আশা করেছে অনেকে। মূলত এটাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। এর আগে মোস্তাক নামে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী র‍্যাবের অভিযানের মাঝে সশস্ত্র হামলা করে মায়ানমারে পালিয়ে যায় এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে। কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে অসংখ্য। ধারণা করা হচ্ছে একরাম পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় নি। কিন্তু অভিযান বন্ধের লক্ষ্যই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার অডিও প্রচার করা হয়। একরামের মোবাইলের কথোপকথন উদ্ধার হলে হয়তো রহস্য জানা যাবে।

এদেশের ৭০ লাখ মাদকসেবীর বেশিরভাগ ইয়াবায় আসক্ত। তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ইয়াবার কারণে। পুলিশ গ্রেফতার করলেও আইনের ফাঁকে বেরিয়ে আসছে খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরাঅ একরামের মতো গড ফাদারদের ধরা যায় না কারণ তারা ক্যারিয়ার না বলে তথ্য প্রমাণ পেশ করা যায় না। এভাবে দিনে দিনে ১০০ ইয়াবার চালান পরিণত হয়েছে লাখে। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চক্রান্তের কারণে যদি মাদক অভিযান পরিচালনা বন্ধ হয় তার মূল্য দিতে হবে গোটা জাতিকে।

এপ্রিল 3, 2018

জন্মের পর আযান না দেয়ায় আছড়ে নবজাতক হত্যা করলেন যুবদল নেতা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই এক নবজাতককে আছড়ে হত্যা করেছে তার বাবা সাজু মিয়া। গত রোববার দিবাগত রাতে পলাশবাড়ীর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক সাজু মিয়া গাইবান্ধা জেলা যুবদলের প্রভাবশালী নেতা।

সন্তান জন্মের পর আযান না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নবজাতককে আছাড় দিলে উপস্থিত লোকজন সাজু মিয়াকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করে। এ সময় লোকজনকে দলীয় পরিচয় দিয়ে হুমকি ধমকি ও ক্যাডার বাহিনী জড়ো করলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিন বছর আগে যুবদল নেতা সাজু মিয়া শাহনাজ বেগমকে বিবাহ করে। রোববার বিকেলে সন্তানসম্ভবা শাহনাজকে ক্লিনিকে ভর্তি করলে তিনি এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। খবর পেয়ে সাজু মিয়া ওই ক্লিনিকে স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে আসে। এ সময় ছেলেকে কোলে নিয়ে সাজু জানতে চায় তার জন্মের পর আজান দেওয়া হয়েছে কি-না? পরিবারের লোকজন চুপ থাকলে সাজু ক্ষিপ্ত হয়ে নবজাতককে ক্লিনিকের মেঝেতে আছাড় দেয়। এতে শিশুটির মৃত্যু হয়।

পলাশবাড়ী থানার ওসি মো. মাহবুবুল আলম জানান, সাজু মিয়াকে আটক করা হয়েছে। নবজাতকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নবজাতকের নানা থানায় সাজুর নামে হত্যা মামলা করেছেন। সাজুর নামে আগেও দুটি নাশকতার মামলা হয়েছিল।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সাজু 

মার্চ 17, 2018

জামাতি শ্বশুরের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত বধূ

টাঙ্গাইলে শ্বশুরের কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত নববধূর এখন ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়। গত মঙ্গলবার গোপালপুর উপজেলায় ন্যক্কারজনক এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীন সরকার তিন মাস আগে ছেলেকে বিয়ে করিয়ে ২০ দিন আগে নববধূকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ছেলে পুনরায় কর্মক্ষেত্রে চলে যাওয়ার সুযোগে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় শ্বশুর। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পুত্রবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত করে। পরে নববধূর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় গতকাল গোপালপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার নববধূ (২৫) জানান, তাঁর বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজলায়। ফয়জুল আমিনের ছেলে রুহুল আমীনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ডিসেম্বরে তাঁরা বিয়ে করেন। কিছুদিন পর শ্বশুরের তাগিদে তাঁর স্বামী আবারও কর্মক্ষেত্র গাজীপুরে চলে যান। এই সুযোগে শ্বশুর অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীন (৫৫) তাঁকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে শ্বশুর। স্বামীকে এ ঘটনা জানালে তিনি তা বিশ্বাস করেননি। এ অবস্থায় মুখবুঝে সব নির্যাতন সহ্য করতে থাকেন নববধূ।

গতকাল বিকেলে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বশুর তাঁর ঘরে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। প্রথমে তিনি শ্বশুরের হাত-পা ধরে সম্ভ্রম বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তা না শুনে শ্বশুর তাঁর মুখমণ্ডল, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত করে। সম্ভ্রম বাঁচাতে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

মার্চ 16, 2018

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ভাগনি ও গৃহপরিচালিকা ধর্ষণ মামলা

ফেনী প্রতিনিধি : ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মুন্সী আবদুল কাদের হিফজুল ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়েত নেতা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হয়েছে। সোমবার বিকেলে ওই কিশোরীর মামা দাগনভূঞা থানায় মামলাটি করেন।

মোহাম্মদ আলী দাগনভূঞা পৌরসভার চার নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও জগৎপুর আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম।

ওই কিশোরীর মামা জানান, আট থেকে নয় মাসে আগে তার ভাগনিকে (১৬) পড়ালেখা ও গৃহপরিচালিকার কাজ করা জন্য দাগনভূঞায় মুন্সী আবদুল কাদের হিফজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে রেখে যান। অধ্যক্ষের বাড়িতে কাজকর্মের পাশাপাশি তার ভাগনি বাড়ি সংলগ্ন ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বাড়ির বাইরে গেলে তিনি শারীরিক নির্যাতন করতো।

সম্প্রতি তার ভাগনি বিষয়টি জানালে তিনি সোমবার সকালে মাদ্রাসায় যান। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার সঙ্গে অশোভন আচারণ করে বের করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। বিকেলে তিনি ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

দাগনভূঞা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ারুল আজিম জানান,  কিশোরীর অভিভাবকের অভিযোগের পেক্ষিতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

মার্চ 15, 2018

কবিরাজের যৌণশক্তি বর্ধক হালুয়া খেয়ে ২ জামায়াত নেতা নিহত, অসুস্থ বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক

21st august

সাভারের আশুলিয়ায় গোপন শক্তি বাড়াতে কবিরাজের হালুয়া খেয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন আরও দুজন। নিহতরা হলেন সাবেক শিবির নেতা মোতালেব ও জামায়াতকর্মী জিল্লু রহমান।
অসুস্থ তিন জনের মধ্যে শামীমুর রহমান শামীম বিএনপির সহদফতর সম্পাদক এবং ফরিদউদ্দিন ২০ দলীয় জোট ও এনএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়া শাহীবাগ মহল্লার অধিবাসী মোকলেছুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি।

বুধবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থরা সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আশুলিয়া থানার এসআই শাহিনুর ইসলাম জানান, দিবাগত রাতে করিবাজের তৈরি গোপন শক্তিবর্ধক হালুয়া খান ওই দুই জন। এর পর তাদের বমি শুরু করে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে জিল্লু ও মোতালেবের মৃত্যু হলে পরে সেখানে জানা যায় অপর তিন জন একই হালুয়া খেয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- যৌনশক্তি বর্ধক হালুয়ার বিষক্রিয়ায় এমন ঘটেছে।

অসুস্থ মোকলেছুর রহমান জানান, বিএনপি নেতা শামীম সাংসারিক অশান্তির কথা জানালে গত বুধবার সাবেক শিবির নেতা মোতালেব তাকে কবিরাজ ফরিদ শাহ চন্দ্রপুরীর ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় জিল্লুর তার কাছে থাকা হালুয়া দেখান।
শামীম কবিরাজের হেমায়েতপুরের চেম্বারে যেতে চাইলে ফরিদ উদ্দিন ও মোখলেছও তার সাথে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কবিরাজকে গ্রেফতারের সংবাদ জানা যায়নি। নিহত বা আহতদের পক্ষ থেকে কোন মামলা না হলেও পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।