Archive for ফেব্রুয়ারি 12th, 2018

ফেব্রুয়ারি 12, 2018

বিআইডব্লিউটিএ’তে চলছে সিবিএ নেতাদের ত্রাসের রাজত্ব

 

বিআইডব্লিউটিএ’তে সিবিএ নেতাদের ত্রাসের রাজত্ব চলছে। সাধারণ কর্মচারী/কর্মকর্তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তে শ্রম আইন অনুযায়ী ৩ টি ট্রেড ইউনিয়নের বেশি ট্রেড ইউনিয়ন করার আইন না থাকলেও বিদ্যমান আইন না মেনে বেআইনীভাবে (শ্রম আইনানুযায়ী পূর্বের ইউনিয়ন হতে লিখিত পদত্যাগ দাখিল না করেই পূর্ববর্তী ইউনিয়নের সদস্যদের দিয়ে জোরপূর্বক ডি ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে) সম্প্রতি (২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে) বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নামে চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠিত হয়। যার রেজিস্ট্রশ নং-বি-২১৭৬, এরপর ইউনিয়নটি জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত হয়।

ইউনিয়ন গঠনের দুইমাস পরে (এপ্রিল মাসে) সিবিএ নির্বাচন চেয়ে ইউনিয়নের পক্ষে শ্রম দপ্তরে আবেদন করা হয়। এসময় একই ব্যক্তি বর্তমান ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি পদে থেকেও পূর্বের ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিবিএ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেনা মর্মে পত্র দেয়, যার ফলে বর্তমান ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-বি-২১৭৬ কে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিবিএ হিসেবে ঘোষণা করে শ্রম দপ্তর।এই সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১৯৯১ সালে অনুরূপ ভাবে গঠিত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-বি-১৯২৮) যা জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তিনি উক্ত ইউনিয়নটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি সিবিএ’র সাধাররণ সম্পাদক হবার পরে দৈনিক যুগান্তরসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদের শিরোণাম হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন।

সাধারন সম্পাদক হবার পরই তিনি নিরীহ কর্মচারীদের জিম্মি করে টেবিল বানিজ্য, বদলী বানিজ্য এবং শাখা কমিটি গঠনের নামে প্রায় কোটি টাকার বানিজ্য করেন। তার নির্যাতন থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরাও ছাড় পাচ্ছেননা। নব গঠিত এ সিবিএ’র বয়স মাত্র ১ বছর হলেও জিএস রফিকুল ইসলাম গাড়ি কিনেছেন ৩ টি, সর্বশেষ কিনেছেন ৩৬ লক্ষ টাকা দামের নোয়া গাড়ী, বিআইডব্লিউটিএ’র জায়গা বেআইনীভাবে নিজের ছেলের নামে ডক ইয়ার্ডের কথা বলে নাম মাত্র মূল্যে লীজ নেওয়াসহ, আরিচায় বেশ কিছু জমির মালিক বনে গেছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী ইউনিয়নের নেতাদের বদলী করা না গেলেও তিনি গায়ের জোরে বদলী করেছেন। তার কথা না শুনলেই তিনি পরিষদের নেতাদের বহিষ্কার করেন।

কেন্দ্রীয় পরিষদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, দপ্তর ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ শাখার যুগ্ম আহবায়ক’কে অগঠনতান্ত্রিক এবং বেআইনীভাবে বহিষ্কার করেন। দপ্তর ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে অবৈধভাবে বহিষ্কার করলে তিনি বিজ্ঞ শ্রম আদালতে বহিষ্কার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত বহিষ্কার আদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন, শ্রম আদালতের মামলা নং-বিএলআর ৫৮৪/২০১৭।পূর্ববর্তী ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের নামে জমা থাকা টাকা বর্তমান ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের নামে জমা হবার পর সাধারণ সম্পাদক উক্ত (দশ লক্ষ) টাকা উত্তোলন করতে বললে তহবিলের সদস্য সচিব দিতে অস্বীকার করলে তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে তাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ইতোমধ্যে কল্যাণ তহবিল হতে কিছু টাকা উত্তোলিতও হয়েছে। এ ব্যাপারে মতিঝিল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে, যার নং-২২৪১, তারিখ-৩০-০৪-২০১৭।

শ্রম আইন অনুযায়ী কোন ইউনিয়ন বা সিবিএ অফিসের কোন নিয়োগে হস্তক্ষেপ বা চাপ প্রয়োগ করতে পারবেনা বললেও তিনি ইউনিয়নের প্যাডে নিয়োগ প্রদানের জন্য তালিকা দিয়ে থাকেন এবং প্রতিটা নিয়োগে লাখ লাখ টাকার বানিজ্য করেন। গত ১৭-০৭-২০১৭ অফিস চলাকালীন সময়ে অপর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সনজীব কুমার দাস’কে সিবিএ’র সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে বেদম মারপিট করা হয়। এব্যাপারে সিএমএম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার নং- সিআর ১৫৯৭/২০১৭, তারিখঃ ২৩-০৭-২০১৭। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আপনাদের অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদনে এ ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ভুক্তভোগী কর্মচারীরা রেহাই পাবে।

ফেব্রুয়ারি 12, 2018

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন খালেদা জিয়া

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পর এবার খালেদা জিয়া নিজেই অনুধাবন করতে পারছেন যে তার এই অবস্থার জন্য তারেক রহমানই প্রধানত দায়ী। উল্লেখ্য ২০০৮ সালে জিয়া এতিমখানা নিয়ে মামলা হওয়ার পর খালেদা জিয়ার ব‍্যক্তিগত সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তারেকের পরামর্শেই এতিমখানার নামে অনুদান চাওয়া হয়।

ফালু আরও বলেছিলেন, এতিমখানার নামে এফডিআর করা ফান্ড দেখিয়ে ৭০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল তারেক রহমান। অতঃপর ২০০৬ সালে সলিমুল হক, সৈয়দ আহমেদ ও গিয়াস উদ্দিনের নামে একই টাকা ট্রান্সফার ও এফডিআর করে তিনটি ভুয়া কোম্পানির নামে সোনালী ব‍্যাংক থেকে দেড়শ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়েছিল। এছাড়া কোকো জাহাজ ও ডান্ডির নামে ২০০৭ সালে তারেকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে জেল থেকে মুক্তি বিলম্বিত হলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে চাচ্ছেন বেগম জিয়া। বেগম জিয়ার সঙ্গে পাঁচ আইনজীবীর সাক্ষাতে বিএনপির চেয়ারপারসন এই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।
আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন তারেকের উপর অর্থ আত্মসাতের দায় চাপিয়ে দিতে।

যে আইনজীবীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁরা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। আইনজীবীরা বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ব্যক্তিগত চিকিৎসককে দিয়ে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন করেছেন।

শনিবার বিকেলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সহ পাঁচ জন আইনজীবী বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জেলখানার একাধিক সূত্রগুলো বলছে, শুক্রবার কিছুটা শান্ত থাকলেও শনিবার অনেকটাই অস্থির হয়ে উঠেছেন বেগম জিয়া। সকাল থেকে অন্তত আটবার কারাগারের লোকজনকে ডেকে নানা সমস্যার কথা বলেছেন। মাঝে মধ্যেই মেজাজের খেই হারিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করেছেন।

বেগম জিয়া তাঁর আইনজীবীদের কাছেও তারেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথা বলেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বেগম জিয়াকে যে কক্ষ দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক সাঁজসজ্জায় সজ্জিত। কিন্তু বেগম জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার শোবার খাটটি যথেষ্ট নরম নয়। বেগম জিয়া সার্বক্ষণিক গরম পানি চান। কিন্ত তেমন ব্যবস্থা কারাগারে নেই। কারাগারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁর জন্য নিয়মিত পানি গরম করে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আলাদাভাবে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেগম জিয়া তাঁর কক্ষে রক্ষিত টেলিভিশনে হিন্দি চ্যানেল বিশেষ করে স্টার প্লাস এবং পাকিস্তানের নেট জিও চ্যানেল দেখতে চান। কিন্ত কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারে ডিশ সুবিধা নিয়ন্ত্রিত। এখানে শুধু বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানো যায়। আইনজীবীরা আসার আগে বেগম জিয়া কারাগারের বিভিন্ন অসুবিধা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে আইনজীবীদেরও তিনি একই অভিযোগ করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত বেগম জিয়ার বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায়নি। তবে কারা কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মচারীর কাছে তারেক রহমান ও বিএনপি নেতাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার কারাগারে আসার পর কোথাও বিক্ষোভ মিছিল ও জোরদার কর্মসূচি ঘোষণা না করায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।